ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী ট্রাক খালে, চালক নিহত চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি-প্রক্সি ঠেকাতে বায়োমেট্রিকসহ ১২ নির্দেশনা ইরানের ভয়ে গোপনে বিমান পাল্টানোর কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ ডিমলায় নাওতারা নদীর কাঠের সাঁকো ভেঙে নদীতে পড়লেন জামায়াত নেতারা পলিসি ক্যাম্পে দেশসেরা ৩০ জনের একজন বেরোবির আইরিন আক্তার লাবণ্য বরগুনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলা একাডেমিতে জিয়াউর রহমান ও কবি নজরুলের কর্মময় জীবন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিয়ের প্রলোভনে খুবি ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, নৌপরিবহন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
সাংবাদিকদের হা'ত কা'টার হুমকি

অডিও ফাঁসের পর সুর বদলে ‘পা ধরতে’ চান কর্মচারী

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের হাত কেটে ফেলার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের এক কর্মচারী স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে দুই সাংবাদিকের হাত কেটে ফেলার চুক্তি করেছেন—এমন স্বীকারোক্তির একটি অডিও প্রকাশ্যে এসেছে।

কুপিয়ে হাত ফেলে দেয়ার পরিকল্পনাকারী ওই ব্যক্তির নাম হুমায়ুন কবির। তিনি চিলমারী পিআইও অফিসে কার্যসহকারী পদে মাস্টাররোলে (দৈনিক হাজিরা) নিযুক্ত কর্মচারী বলে জানা গেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে তিনি তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের কাছে দুই সাংবাদিকের হাত কেটে ফেলার পরিকল্পনার কথা জানান। পরে ওই পরিকল্পনা নিয়ে তার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়।

ওই দুই সাংবাদিক হলেন কালবেলা পত্রিকার চিলমারী প্রতিনিধি এস এম রাফি এবং দৈনিক ইনকিলাবের চিলমারী প্রতিনিধি ফয়সাল হক রকি। সম্প্রতি তারা উপজেলার টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে নিজ নিজ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

ফাঁস হওয়া সেই অডিও ক্লিপে শুনতে পাওয়া যায়, হুমায়ুন রাফি ও রকির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ‘‘চেংড়া বেংড়ার আমার সাঙ্গে চুক্তি হইছে, ৭২ ঘন্টার মধ্যে চোটাচুটি হইবে। আমিও থাকমো সঙ্গে। ওই দুই জনের ৭২ ঘন্টার মধ্যে হয় হাত যাইবে, অন্য কাইয়ো না চোটাইলে আমি চোটামো। আমার চাকরি যায় যাইবে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে ওই দুই জনের হাত নামামো।’’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত হুমায়ুন প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন, “রাগের মাথায় বলে ফেলেছি। আমাকে মাফ করে দেন। যাদের সামনে বলেছি তারা আমার সাঙ্গে বেঈমানি করে এটা ছড়ায় দিছে। এখন আমাকে যা করতে বলবেন করবো। যদি ওই দুই জনের পা ধরতে হয় তাও ধরবো।”

এদিকে অডিও প্রকাশ হওয়ার পর নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা বোধ করেছন ওই দুই সাংবাদিক। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার চিলমারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাংবাদিক রাফি। অডিও রেকর্ডের একটি কপি চিলমারী মডেল থানার অফিসিয়াল ই-মেইলে ডিজিটাল প্রমাণক হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

সাংবাদিক এস এম রাফি বলেন, “সংবাদ প্রকাশের জেরে জীবন হুমকিতে রয়েছে। আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাওরাত হোসেন সোহেল বলেন, “অনিয়ম হলে সাংবাদিকরা লিখবেন। এই জন্যে তাদের হুমকি দেয়া কাম্য নয়। এঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সাঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করছি।”

পিআইও মো. সোহেল রহমান বলেন, “বিষয়টি দেখতেছি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, “এভাবে হুমকি দিতে পারেনা। এটা ফৌজদারি অপরাধ। এরকম হয়ে থাকলে থানায় জিডি করতে পারেন।”
ওসি নয়ন কুমার গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী ট্রাক খালে, চালক নিহত

সাংবাদিকদের হা'ত কা'টার হুমকি

অডিও ফাঁসের পর সুর বদলে ‘পা ধরতে’ চান কর্মচারী

আপডেট সময় ০২:২৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের হাত কেটে ফেলার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের এক কর্মচারী স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে দুই সাংবাদিকের হাত কেটে ফেলার চুক্তি করেছেন—এমন স্বীকারোক্তির একটি অডিও প্রকাশ্যে এসেছে।

কুপিয়ে হাত ফেলে দেয়ার পরিকল্পনাকারী ওই ব্যক্তির নাম হুমায়ুন কবির। তিনি চিলমারী পিআইও অফিসে কার্যসহকারী পদে মাস্টাররোলে (দৈনিক হাজিরা) নিযুক্ত কর্মচারী বলে জানা গেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে তিনি তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের কাছে দুই সাংবাদিকের হাত কেটে ফেলার পরিকল্পনার কথা জানান। পরে ওই পরিকল্পনা নিয়ে তার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়।

ওই দুই সাংবাদিক হলেন কালবেলা পত্রিকার চিলমারী প্রতিনিধি এস এম রাফি এবং দৈনিক ইনকিলাবের চিলমারী প্রতিনিধি ফয়সাল হক রকি। সম্প্রতি তারা উপজেলার টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে নিজ নিজ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

ফাঁস হওয়া সেই অডিও ক্লিপে শুনতে পাওয়া যায়, হুমায়ুন রাফি ও রকির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ‘‘চেংড়া বেংড়ার আমার সাঙ্গে চুক্তি হইছে, ৭২ ঘন্টার মধ্যে চোটাচুটি হইবে। আমিও থাকমো সঙ্গে। ওই দুই জনের ৭২ ঘন্টার মধ্যে হয় হাত যাইবে, অন্য কাইয়ো না চোটাইলে আমি চোটামো। আমার চাকরি যায় যাইবে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে ওই দুই জনের হাত নামামো।’’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত হুমায়ুন প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন, “রাগের মাথায় বলে ফেলেছি। আমাকে মাফ করে দেন। যাদের সামনে বলেছি তারা আমার সাঙ্গে বেঈমানি করে এটা ছড়ায় দিছে। এখন আমাকে যা করতে বলবেন করবো। যদি ওই দুই জনের পা ধরতে হয় তাও ধরবো।”

এদিকে অডিও প্রকাশ হওয়ার পর নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা বোধ করেছন ওই দুই সাংবাদিক। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার চিলমারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাংবাদিক রাফি। অডিও রেকর্ডের একটি কপি চিলমারী মডেল থানার অফিসিয়াল ই-মেইলে ডিজিটাল প্রমাণক হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

সাংবাদিক এস এম রাফি বলেন, “সংবাদ প্রকাশের জেরে জীবন হুমকিতে রয়েছে। আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাওরাত হোসেন সোহেল বলেন, “অনিয়ম হলে সাংবাদিকরা লিখবেন। এই জন্যে তাদের হুমকি দেয়া কাম্য নয়। এঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সাঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করছি।”

পিআইও মো. সোহেল রহমান বলেন, “বিষয়টি দেখতেছি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, “এভাবে হুমকি দিতে পারেনা। এটা ফৌজদারি অপরাধ। এরকম হয়ে থাকলে থানায় জিডি করতে পারেন।”
ওসি নয়ন কুমার গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।