ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আত্রাইয়ে ১৩ প্রাণের শোকে স্তব্ধ পরিবারগুলো এখনো কান্না থামছে না স্বজনদের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের আগে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন পীরগঞ্জে ১০ দাখিল মাদ্রাসা ও ২ উচ্চ বিদ্যালয়ে কেউ পাস করেনি, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকার চোরাই মোবাইলসহ আটক ৩ বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ফরিদপুর গণপূর্তের ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীরের ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় বদলির প্রজ্ঞাপন অমান্য করে পদ আঁকড়ে হারুনুর রশিদ এনআইসিভিডিতে আ.লীগপন্থী চিকিৎসকসহ ২ জনের পদায়নে উঠছে নানা প্রশ্ন পাউবোর নাম ভাঙিয়ে পারকি সৈকতে লুসাই পার্কের ‘বালু লুট’!
রাজউকের মহাখালী জোনে ‘ঘুষের সিন্ডিকেট’

দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া

একসময় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দেশের নাগরিকদের কাছে একটি স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে তা দুর্নীতির মহাসিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। গড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ প্রশাসনিক ‘ডার্ক জোন’। আর এই অনিয়ম ও অন্ধকার ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া।

প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি কেবল একজন সরকারি কর্মকর্তা নন; বরং রাজউকের মূল কাঠামোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এক দুর্নীতিচক্রের প্রধান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ক্ষমতার দম্ভ, ঘুষের বাণিজ্য, গোপন আর্থিক সাম্রাজ্য এবং অদৃশ্য চুক্তির মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিজের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন।

মহাখালী জোনে ‘ঘুষের টেকসই ম্যানেজার’

পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে থাকা রাজউকের মহাখালী জোন আজ কার্যত ‘কর্তৃত্ববাদী দুর্নীতির হেডকোয়ার্টার’-এ পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানকার নির্মাণ পরিদর্শকরা এখন আইন প্রয়োগের বদলে ঘুষ বাণিজ্যের ‘টেকসই ম্যানেজার’ হিসেবে কাজ করছেন।

প্রতিটি অনুমোদন ও ফাইল আটকে রেখে চালানো হচ্ছে অর্থ আদায়ের হীনচক্র, যা পরিচালকের সরাসরি জ্ঞাতসারে সংগঠিত হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। আইন ও নিয়মকানুনকে স্রেফ খোলস হিসেবে ব্যবহার করে সেখানে একটি প্রশাসনিক ব্ল্যাকমার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে।

অপরাধ ধামাচাপা ও বিচারহীনতা

এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী মো. সোলাইমান হোসেন, যিনি ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে এক সংবাদকর্মীর ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে হামলার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া ঘটনাটিকে ‘তেমন কিছু না’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

যদিও পরবর্তীতে তিনি এ চেষ্টায় ব্যর্থ হন, তবুও এ ধরনের স্পষ্ট অপরাধের পর কোনো বিচার না হওয়া প্রশাসনিক মদতের চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত বিতর্ক ও বিলাসী জীবনযাপন

পরিচালক জাকারিয়ার বিরুদ্ধে কেবল পেশাগত দুর্নীতির অভিযোগই নয়, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে। অভিজাত ক্লাব, লাউঞ্জ ও বারগুলোতে তার নিয়মিত যাতায়াত, মদপান ও বিতর্কিত জীবনের নানা তথ্য সামনে এসেছে।

সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে এমন লাগামহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে এখন সর্বমহলে প্রবল প্রশ্ন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্রাইয়ে ১৩ প্রাণের শোকে স্তব্ধ পরিবারগুলো এখনো কান্না থামছে না স্বজনদের

রাজউকের মহাখালী জোনে ‘ঘুষের সিন্ডিকেট’

দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া

আপডেট সময় ১১:৫৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

একসময় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দেশের নাগরিকদের কাছে একটি স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে তা দুর্নীতির মহাসিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। গড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ প্রশাসনিক ‘ডার্ক জোন’। আর এই অনিয়ম ও অন্ধকার ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া।

প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি কেবল একজন সরকারি কর্মকর্তা নন; বরং রাজউকের মূল কাঠামোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এক দুর্নীতিচক্রের প্রধান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ক্ষমতার দম্ভ, ঘুষের বাণিজ্য, গোপন আর্থিক সাম্রাজ্য এবং অদৃশ্য চুক্তির মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিজের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন।

মহাখালী জোনে ‘ঘুষের টেকসই ম্যানেজার’

পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে থাকা রাজউকের মহাখালী জোন আজ কার্যত ‘কর্তৃত্ববাদী দুর্নীতির হেডকোয়ার্টার’-এ পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানকার নির্মাণ পরিদর্শকরা এখন আইন প্রয়োগের বদলে ঘুষ বাণিজ্যের ‘টেকসই ম্যানেজার’ হিসেবে কাজ করছেন।

প্রতিটি অনুমোদন ও ফাইল আটকে রেখে চালানো হচ্ছে অর্থ আদায়ের হীনচক্র, যা পরিচালকের সরাসরি জ্ঞাতসারে সংগঠিত হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। আইন ও নিয়মকানুনকে স্রেফ খোলস হিসেবে ব্যবহার করে সেখানে একটি প্রশাসনিক ব্ল্যাকমার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে।

অপরাধ ধামাচাপা ও বিচারহীনতা

এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী মো. সোলাইমান হোসেন, যিনি ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে এক সংবাদকর্মীর ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে হামলার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া ঘটনাটিকে ‘তেমন কিছু না’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

যদিও পরবর্তীতে তিনি এ চেষ্টায় ব্যর্থ হন, তবুও এ ধরনের স্পষ্ট অপরাধের পর কোনো বিচার না হওয়া প্রশাসনিক মদতের চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত বিতর্ক ও বিলাসী জীবনযাপন

পরিচালক জাকারিয়ার বিরুদ্ধে কেবল পেশাগত দুর্নীতির অভিযোগই নয়, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে। অভিজাত ক্লাব, লাউঞ্জ ও বারগুলোতে তার নিয়মিত যাতায়াত, মদপান ও বিতর্কিত জীবনের নানা তথ্য সামনে এসেছে।

সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে এমন লাগামহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে এখন সর্বমহলে প্রবল প্রশ্ন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।