মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে চা শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নিউ সমনবাগ চা বাগানের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে পাথারিয়া চা বাগান ও নিউ সমনবাগ চা বাগানের মোকাম ডিভিশনের নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক চা শ্রমিক অংশ নেন। এ সময় শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং দাবি আদায়ের পক্ষে স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন পাথারিয়া চা বাগানের( ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি মজন বাউরী, মোকাম ডিভিশনের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ফজল তাঁতি। সমনবাগ চা বাগানের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি নারায়ণ কালোয়ার, জুড়ী ভ্যালি কার্যক্রমের সহসভাপতি শ্রীমতি বাউরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দেশের চা শিল্প ও জাতীয় অর্থনীতিতে চা শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় এলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এ কারণে অবিলম্বে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের গেজেট প্রত্যাহার, শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তারা।
শ্রমিকরা আরও বলেন, পাথারিয়া চা বাগান ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগান্তির শিকার। বিশেষ করে ওষুধ, হাসপাতাল ও প্রসূতি রোগীদের চিকিৎসার জন্য বড়লেখায় আসতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। পাশাপাশি রোগী পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করেন কয়েকজন শ্রমিক।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলায় মোট ৯৩টি চা-বাগান রয়েছে। এর মধ্যে পাথারিয়া চা বাগানে বর্তমানে প্রায় ৬৯৬ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
চা শ্রমিকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মজুরি ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা আন্দোলন করে আসছেন। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হলে শ্রমিক পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
আজাদ বাহার জামালী, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 



















