ভোলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ভোলা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. নূরে আলমের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করেছে বিএনপি ও জেলা ছাত্রদল। কবর জিয়ারত, দোয়া ও মোনাজাতের পাশাপাশি নেতাকর্মীরা তার আত্মত্যাগের স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ভোলা পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন বায়তুল আজিজ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে, যেখানে নূরে আলম সমাহিত আছেন, সেখানে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং মরহুম নূরে আলমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, মো. ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা, হুমায়ুন কবীর সোপান, এনামুল হক, সদস্য ইয়ারুল আলম লিটন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মাসুদ, সদস্য সচিব মুনতাসীর আলম চৌধুরী রবিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব শাহ জুয়েল, ভোলা সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. বিল্লাল হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেলসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
দোয়া মাহফিল শেষে নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে বলেন, নূরে আলম ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন সাহসী, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। রাজনৈতিক আদর্শ ও গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তার আত্মত্যাগ দল ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ৩ আগস্টের ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও দীর্ঘ চার বছর পার হলেও তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তারা অবিলম্বে মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, নূরে আলমের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সে জন্য গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তারা নিহতের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৩ আগস্ট জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনকালে ভোলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন ভোলা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. নূরে আলম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরপর থেকে প্রতি বছর আগস্ট মাসে স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্মরণ করে আসছে।
ছাত্রদল নেতা নুরে আলমের মৃত্যুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও তার পরিবার এখনও বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছে। তিনি স্ত্রী ও আট বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
রিয়াজ ফরাজী 





















