গাইবান্ধা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ওষুধ সংকট ও সার্বিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের নাজুক অবস্থা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি গাইবান্ধায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরের পর কোনো প্রটোকল ছাড়াই তিনি গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ওষুধ ভাণ্ডার ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে নার্সদের দায়িত্বে অবহেলা, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া এবং চিকিৎসাসেবায় ভোগান্তির বিষয়গুলো শোনেন।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিভিন্ন রোগীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। রোগীদের অভিযোগ শোনার পর তিনি বলেন, জনগণের সেবার জন্য এই হাসপাতাল। এখানে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, গাইবান্ধার চিকিৎসাসেবা আরও সহজ করতে সরকার উপজেলা পর্যায়ে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে সদর হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালে ওষুধ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের ওষুধ না দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমান ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে তাৎক্ষণিকভাবে কুকুরের কামড়ে আহত সামছুন নাহার নামে এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় তিনি ওই রোগীর জন্য জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেখতে পান। মন্ত্রী জানতে চান, ভ্যাকসিনটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
পরে রোগীর স্বজন জানান, তারা ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনেছেন।
রোগীর স্বজনরা মন্ত্রীকে জানান, সকালে সামছুন নাহারকে কুকুর কামড় দেয়। পরে তিনি ভ্যাকসিন নিতে হাসপাতালে এলে কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে। বাধ্য হয়ে তারা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে আনেন।
পরে মন্ত্রী বগুড়া আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দের কাছে জানতে চান, সরকারি অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন হাসপাতালে থাকার পরও কেন তা সরবরাহ করা হয়নি।
এ সময় মন্ত্রী মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমান ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলামের ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ জানান, যাওয়ার পথে মন্ত্রী অভিযুক্ত চিকিৎসককে রোগীর ভ্যাকসিন বাবদ খরচ হওয়া ১ হাজার ৩০ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। পরে ওই চিকিৎসক রোগীকে ওই অর্থ ফেরত দেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























