ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতার সাক্ষী ‘আয়নাঘরের’ দেয়াল : চিফ প্রসিকিউটর সংসদের চেয়ে রাজপথকে প্রাধান্য গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়: তথ্যমন্ত্রী ১০ লাখ টাকায় করলেন কিডনি বিক্রির চুক্তি, পেলেন ৫০ হাজার দুই মেট্রো স্টেশনে বোমা আতঙ্ক, বস্তায় পাওয়া গেল জর্দার কৌটা-পান টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের স্থান সংরক্ষণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা: মৃত্যুদণ্ড শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানের গ্যাসের দাম বাড়ালে আমরা পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব: নাহিদ ইসলাম ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’ বিক্রি করতে বাধ্য হলেন ফরাসি তারকা র‌্যাব-১ সদর দপ্তরের ‘আয়না ঘর’ পরিদর্শন করলেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা

‘বিশ্বকাপ ট্রফি’ বিক্রি করতে বাধ্য হলেন ফরাসি তারকা

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০ বার পড়া হয়েছে

একসময় তিনি ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম দামি ডিফেন্ডার। জিতেছেন বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি, দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবেও।
কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত এক কালো অধ্যায়, দীর্ঘ আইনি লড়াই আর ভয়াবহ আর্থিক চাপে পড়ে অবশেষে নিজের সবচেয়ে আদরের স্মৃতিচিহ্নটিই হাতছাড়া করতে হলো ফরাসি ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন মেন্ডিকে। বিক্রি করে দিতে হলো ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক ট্রফির রেপ্লিকাটি!
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ‘গোল ডটকম’-এর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিখ্যাত স্মারক নিলামকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডিনের ‘গ্লোবাল ফুটবল অকশন পার্ট-২’-এ মেন্ডির ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা ট্রফিটি নিলামে তোলা হয়। টানা ৩৮ বার দরদামের পর শেষ পর্যন্ত ৬২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে ট্রফিটি কিনে নেন এক সংগ্রাহক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭৬ লাখ টাকা!
অবশ্য এটি সরাসরি ফিফার মূল ট্রফি নয়।

নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপজয়ী প্রতিটি খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত স্মারক হিসেবে একটি করে অফিশিয়াল রেপ্লিকা দেওয়া হয়। ৩৮ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই বিশেষ ট্রফিতে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের ইতিহাস খোদাই করা ছিল। স্মারকটির সত্যতা প্রমাণের জন্য মেন্ডি নিজ স্বাক্ষরিত একটি সনদও তুলে দেন নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে।
লিওনেল মেসি ও পেলের মতো ফুটবল কিংবদন্তিদের ব্যবহৃত অন্যান্য স্মারকের পাশাপাশি মেন্ডির বিশ্বকাপ ট্রফিটি ওঠায় নিলাম ঘিরে বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহকদের ছিল ব্যাপক কৌতূহল।

কিন্তু বিশ্বজয়ের এমন অমূল্য স্মৃতি কেন বেচতে হলো মেন্ডিকে? নেপথ্যে রয়েছে এক বিষাদময় আইনি জটিলতা। ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এই তারকা, যার জেরে থমকে যায় তার জমজমাট ক্যারিয়ার। প্রায় দুই বছর ধরে চলা কড়া বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সব অভিযোগ থেকেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান তিনি। তবে তত দিনে যা হারানোর তা হেরেই গেছেন! বিপুল অঙ্কের আইনি খরচ চালাতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েন তিনি।

সংকট সামাল দিতে এর আগেই নিজের বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি থেকে শুরু করে দামি ঘড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে বাধ্য হন এই ফরাসি তারকা।
ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলার সময় সপ্তাহে যার আয় ছিল প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড, বর্তমানে পোল্যান্ডের ক্লাব পোগন শেচিনে তিনি পাচ্ছেন সপ্তাহে মাত্র ১০ হাজার পাউন্ডের মতো।
কলঙ্কের দাগ মুছে মাঠে ফিরে ক্যারিয়ার পুনর্গঠনের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ২৯ বছর বয়সী মেন্ডি। তবে আস্থার জায়গা ফেরানোর লড়াইয়ে আর্থিক টানাপড়েনের শিকার হয়ে বিশ্বকাপের স্মারক বিক্রির মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে হলেও, এ নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো টুঁ শব্দ করেননি এই ফরাসি ডিফেন্ডার।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতার সাক্ষী ‘আয়নাঘরের’ দেয়াল : চিফ প্রসিকিউটর

‘বিশ্বকাপ ট্রফি’ বিক্রি করতে বাধ্য হলেন ফরাসি তারকা

আপডেট সময় ০১:৪১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

একসময় তিনি ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম দামি ডিফেন্ডার। জিতেছেন বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি, দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবেও।
কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত এক কালো অধ্যায়, দীর্ঘ আইনি লড়াই আর ভয়াবহ আর্থিক চাপে পড়ে অবশেষে নিজের সবচেয়ে আদরের স্মৃতিচিহ্নটিই হাতছাড়া করতে হলো ফরাসি ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন মেন্ডিকে। বিক্রি করে দিতে হলো ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক ট্রফির রেপ্লিকাটি!
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ‘গোল ডটকম’-এর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিখ্যাত স্মারক নিলামকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডিনের ‘গ্লোবাল ফুটবল অকশন পার্ট-২’-এ মেন্ডির ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা ট্রফিটি নিলামে তোলা হয়। টানা ৩৮ বার দরদামের পর শেষ পর্যন্ত ৬২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে ট্রফিটি কিনে নেন এক সংগ্রাহক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭৬ লাখ টাকা!
অবশ্য এটি সরাসরি ফিফার মূল ট্রফি নয়।

নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপজয়ী প্রতিটি খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত স্মারক হিসেবে একটি করে অফিশিয়াল রেপ্লিকা দেওয়া হয়। ৩৮ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই বিশেষ ট্রফিতে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের ইতিহাস খোদাই করা ছিল। স্মারকটির সত্যতা প্রমাণের জন্য মেন্ডি নিজ স্বাক্ষরিত একটি সনদও তুলে দেন নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে।
লিওনেল মেসি ও পেলের মতো ফুটবল কিংবদন্তিদের ব্যবহৃত অন্যান্য স্মারকের পাশাপাশি মেন্ডির বিশ্বকাপ ট্রফিটি ওঠায় নিলাম ঘিরে বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহকদের ছিল ব্যাপক কৌতূহল।

কিন্তু বিশ্বজয়ের এমন অমূল্য স্মৃতি কেন বেচতে হলো মেন্ডিকে? নেপথ্যে রয়েছে এক বিষাদময় আইনি জটিলতা। ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এই তারকা, যার জেরে থমকে যায় তার জমজমাট ক্যারিয়ার। প্রায় দুই বছর ধরে চলা কড়া বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সব অভিযোগ থেকেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান তিনি। তবে তত দিনে যা হারানোর তা হেরেই গেছেন! বিপুল অঙ্কের আইনি খরচ চালাতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েন তিনি।

সংকট সামাল দিতে এর আগেই নিজের বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি থেকে শুরু করে দামি ঘড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে বাধ্য হন এই ফরাসি তারকা।
ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলার সময় সপ্তাহে যার আয় ছিল প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড, বর্তমানে পোল্যান্ডের ক্লাব পোগন শেচিনে তিনি পাচ্ছেন সপ্তাহে মাত্র ১০ হাজার পাউন্ডের মতো।
কলঙ্কের দাগ মুছে মাঠে ফিরে ক্যারিয়ার পুনর্গঠনের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ২৯ বছর বয়সী মেন্ডি। তবে আস্থার জায়গা ফেরানোর লড়াইয়ে আর্থিক টানাপড়েনের শিকার হয়ে বিশ্বকাপের স্মারক বিক্রির মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে হলেও, এ নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো টুঁ শব্দ করেননি এই ফরাসি ডিফেন্ডার।