টাকা ছাড়া কাজ হয়না সাতক্ষীরা সদর এসিল্যান্ড অফিস। এখানে নায়েব নাজির সার্ভেয়ার অফিস সহকারী থেকে শুরু করে খোদ সহকারী ভূমি কমিশনার বদরুদ্দোজা নিজের এই দুর্নীতি চক্রের সাথে জড়িত। এখানে এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজা নিজেই দুর্নীতির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। যার নেতৃত্ব দেন স্বয়ং নিজেই এসিল্যান্ড। তার এই সিন্ডিকেটের প্রধান সেনাপ্রতি হিসাবে কাজ করেন সদর ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নায়েব শর্মিঁষ্ঠা সরকার। তিনিই মূলত এই দুর্নীতি চক্রের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।
প্রথমে কোন সেবাগ্রহীতা আসলেই এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরেন এরপর সেই সেবগ্রহীতাকে নিয়ে যা-ওয়া হয় নায়েব শর্মিঁষ্ঠার কাছে। প্রথমে বিভিন ঝামেলাপূর্ণ খোড়া যুক্তি দেখিয়ে ফাইল ঘুরাতে থাকেন।
এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ঘুষের টাকার চুক্তিবদ্ধ হতে হয় নায়েব শর্মিষ্ঠার সাথে। তারপর সেবগ্রহীতার কাছে নির্দিষ্ট দেন দরবার শুরু করেন। শর্মিঁসষ্ঠার চাহিদা মোতাবেক টাকা পেলে ফাইলের কার্যক্রম শুরু করেন শর্মিঁষ্ঠা নিজেই এসিল্যান্ডের কাছে। নায়েব সুন্দরী শর্মিঁষ্ঠার গ্রীন সিগ্রনাল মিললেই এসিল্যান্ড ফাইলের কার্যক্রম শুরু করেন। এসকল তথ্য অনুসন্ধানে এমন সব দুর্নীতির ঘটনা ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে বেরিয়ে এসেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে ও সরজমিনে সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে গিয়ে জানা গেছে, নামজারি জন্য ৬ হাজার, রির্পোট প্রদানে ২ হাজার, খাজনা দাখিলা ১ হাজার , ইজারায়সহ ঝামেলাপূর্ণ জমিতে লাখ টাকা বাগিয়ে নেন। সকল ফাইলে সেবগ্রহীতাদের টেবিলে টেবিলে দিতে হয় সরকার নির্ধারিত মূল্যর বাইরে ঘুষের টাকা।
এছাড়া সুন্দরী নায়েব শর্মিষ্ঠা তার নিজের টেবিলে কাজ ফেলে ছেড়ে অধিকাংশ সময় এসিল্যান্ডের রুমে তার সাথে দেখা যায়। তাছাড়া দুপুরের মধ্যাহ্নভোজ করেন একসাথে এসিল্যান্ডের কক্ষে নায়েব শর্মিষ্ঠা। এছাড়া কারণে অকারণে এসিল্যান্ড তদন্তের কাজে যখনই বাইরে বের হন তখনই গাড়িতে তুলে নেন সুন্দরী নায়েব শর্মিষ্ঠাকে।
এসময় নায়েব অফিসে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা নায়েবকে না পেয়ে পড়েন হয়রানিতে । ঘন্টার পর ঘন্টা নায়েবের জন্য বসে অপেক্ষায় থাকতে হয়। এভাবে দিনের পর দিন চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সেবাগ্রহীতাদের।
পরবর্তীতে কোন সেবাগ্রহীতা অফিসে নায়েবকে না পেয়ে অনুপস্থিত বিষয়ে নায়েবকে জিজ্ঞেসা করলে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। ভুক্তভোগীকে পদে পদে হয়রানি করেন। শর্মিষ্ঠা ভুক্তভোগীদের বলেন বেশি বুঝলে কাজ হবে না কারণ স্বয়ং এসি ল্যান্ডের খুব কাছের নায়েব শর্মিষ্ঠা।
নামপ্রকাশে অনেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজার সাথে নায়েব শর্মিঁষ্ঠার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে যার কারণে নায়েব শর্মিঁষ্ঠা এসিল্যান্ডের অফিস রুমে, গাড়িতে সার্বক্ষনিক দেখা যেত। শুধু এসিল্যান্ডের সাথে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি অফিস থেকে শুরু করে সাতক্ষীরা জেলার শহরে টপ অফ দা টাউনে পরিণত হয়েছে।
সুচতুর শর্মিষ্ঠার তার অনিয়ম দুর্নীতি ঢাকতে এক গরমাধ্যম কর্মীর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন নায়েব শর্মিষ্টা । একপর্যায়ে পরোকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন মুস্তফা রায়হান নামের ওই গণমাধ্যম কর্মীর সাথে। রায়হান শর্মিঁষ্ঠার অবাধ মেলামেশার কলরের্কড অন্তরঙ্গ মুহুর্ত সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে নায়েব শর্মিঁষ্ঠা তার নিকট থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন দামী দামী গিফট সহ নগদ অর্থ।
এদিকে নায়েব শর্মিষ্ঠার সাথে এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে গেলে এসিল্যান্ড নিজের অস্বস্তি রক্ষায় তড়িঘড়ি করে পাশ্ববর্তী ফিংড়ী নায়েব অফিসে বদলি করলেও রেখেছেন নিজের উপজেলার আয়ত্তের ভিতরে। যে কারণে নিজের ফিংড়ী ভূমি অফিস ফাঁকি দিয়ে কাজের অজুহাতে এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এসিল্যান্ডের কক্ষে দরজা বন্ধ করে খোশমেজাজে গল্পে মেতে উঠেন। নানা দুর্নীতি অনিয়মের সকল অভিযোগের মধ্যে গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আদালতের আদেশ না মেনে আর হামেশাই বিভিন্ন সেবাগ্রহীতাদের ফাইল খারিজ করে দেন। পরে সেই ফাইল নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটে চুক্তিকৃত ঘুষের টাকা দিলেই ফাইল ছেড়ে দেন এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সদর আদালতে রায়ে জমির নামজারির ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের আখড়াখোলার গীতা রানী আসেন সদর ভূমি অফিসে। তিনি প্রথমে যান সার্ভেয়ার তারেকের কাছে। তারেক পাঠান শর্মিষ্ঠার কাছে। তার নামজারির জন্য শর্মিষ্ঠা প্রথমে ২ লাখ টাকা দাবি করে। পরে মহিলা কান্নাকাটি করলে ১ লাখ টাকা চুক্তিতে নামজারির আশ্বাস দেন নায়েব শর্মিষ্ঠা। আর কথোপকথন ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে। ভুক্তভোগী গীতারানী নায়েব শর্মিষ্ঠার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন।
আরেক ভুক্তভোগী শহরের থানাঘাটা গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, নায়েব শর্মিষ্ঠা চরম ঘুষখোর। আমার একটি জমির ১৪৫ ধারা মামলার প্রতিবেদনের জন্য টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার জানালে বিরোধীপক্ষ তাহের কাজির কাছে থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তার পক্ষে প্রতিবেদন দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তিনি সিল্যান্ড অফিসের ঘুষ দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন।
আরেকভুক্তভোগী জানান, সদর ভূমি অফিসে সকল ঘুষের টাকা লেনদেন হত নায়েব শর্মিঁষ্ঠার হাত ধরে। এসিল্যান্ডের সাথে যোগসাজশে ভূমি অফিসের ঘুষ বানিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। বড় বড় ফাইলগুলো শর্মিঁষ্ঠা গ্রীন সিগনাল দিলে এসিল্যান্ড কাজ শুরু করেন। শর্মিঁষ্ঠা ঘুষছাড়া কাজ করে না। তাকে সবাই ঘুষের মহারাণী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শমিঁষ্ঠা সরকার বলেন, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। কতৃপক্ষ সব জানেন। তারা আমার বিষয়ে দেখবে । আমি মোটেও চিন্তিত নই। তিনি এসিল্যান্ডের সাথে ঘনিষ্ঠতার বিষয়সহ ঘুষ বাণিজ্য সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়কটিও অস্বীকার করেন।
সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: বদরুদ্দোজা সাংবাদিকদের বলেন, আমার অফিসে ঘুষ বাণিজ্য চলে না। নায়েব শর্মিষ্ঠার কতৃপক্ষের নাম ভাঙালে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। সে অপরাধ করলে শাস্তি পাবে। আমার অফিস এইভাবে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয়। নায়েবের বিরুদ্ধে এগুলো উদ্দেশ্যেপ্রনীত।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















