ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা ডিএসসিসির ঘোড়াশাল প্রকল্পে ৪,৭৫৮ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ ‘শৃঙ্খলিত পুলিশ, নিরাপদ ভোলা’ মাস্টার প্যারেডে পুলিশ সুপারের কঠোর বার্তা চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি নেতা আলমগীর মালতিয়া কারাগারে, পরিবারের দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মানুষ আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না: পরীমণি ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ কর বসানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২৫ দিনেও মেলেনি বিচার, প্রতারণার অভিযোগে হতাশায় ফাতেমা আক্তারের পরিবার নওগাঁর দয়ালের মোড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক শিক্ষকের এ দেশে যখনই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তখনই প্রাণ দিতে হয়েছে: মির্জা ফখরুল

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস

ঠাকুরগাঁও জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিয়মিত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামুন বিশ্বাস দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মামুন বিশ্বাস সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে তিনি সপ্তাহে দুই দিন ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। এতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা, প্রতি মাসে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তাঁর পরিবার ঢাকায় বসবাস করায় তিনি প্রতি সপ্তাহে বিমানযোগে যাতায়াত করেন। এই যাতায়াতের সময় তিনি শুধু নিজ দপ্তরের সরকারি গাড়িই নয়, অন্য দপ্তর—বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর গাড়িও ব্যবহার করেন। এসব কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিউল আলম, যিনি বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানের টিকিট বাবদ তাঁর সাপ্তাহিক ব্যয় প্রায় ১২ হাজার টাকা, মাসিক প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। অথচ সরকারি চাকরির পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে বাড়ি ভাড়া বাবদ ১৭ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। ফলে তাঁর আয়ের সঙ্গে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করেন। এতে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুযোগ পান।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মামুন বিশ্বাস একসময় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমেও অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, আগে তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি রাজনৈতিকভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাঁদের দাবি, কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন টেবিলে পড়ে থাকে। ঠিকাদারদের জিম্মি করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও স্বজনদের নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তারা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঠিকাদারদের পাশাপাশি এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাঁর ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। অফিসের গাড়িচালকসহ কয়েকজন কর্মচারী জানান, মামুন বিশ্বাসের উচ্চপর্যায়ে, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই প্রভাবের কারণে তিনি নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো কাজ করেন।

ঠাকুরগাঁও এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আলম বলেন, “স্যার (মামুন বিশ্বাস) হয়তো ভুল করে ফেলেছেন, বিষয়টি এবারের মতো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে ভালো হতো।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি বিভিন্ন অজুহাত তুলে নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য তিনি অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাবও দেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, জবাবদিহিতার অভাব এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণেই অনেক সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সরকারি সম্পদের ব্যবহার সংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মনীতি মেনে চলার জন্য সব সরকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও জেলা পর্যায়ে কোনো ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটলে দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে এ বিষয়ে দুদকের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা ডিএসসিসির

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস

আপডেট সময় ০১:০১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ঠাকুরগাঁও জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিয়মিত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামুন বিশ্বাস দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মামুন বিশ্বাস সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে তিনি সপ্তাহে দুই দিন ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। এতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা, প্রতি মাসে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তাঁর পরিবার ঢাকায় বসবাস করায় তিনি প্রতি সপ্তাহে বিমানযোগে যাতায়াত করেন। এই যাতায়াতের সময় তিনি শুধু নিজ দপ্তরের সরকারি গাড়িই নয়, অন্য দপ্তর—বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর গাড়িও ব্যবহার করেন। এসব কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিউল আলম, যিনি বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানের টিকিট বাবদ তাঁর সাপ্তাহিক ব্যয় প্রায় ১২ হাজার টাকা, মাসিক প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। অথচ সরকারি চাকরির পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে বাড়ি ভাড়া বাবদ ১৭ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। ফলে তাঁর আয়ের সঙ্গে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করেন। এতে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুযোগ পান।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মামুন বিশ্বাস একসময় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমেও অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, আগে তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি রাজনৈতিকভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাঁদের দাবি, কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন টেবিলে পড়ে থাকে। ঠিকাদারদের জিম্মি করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও স্বজনদের নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তারা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঠিকাদারদের পাশাপাশি এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাঁর ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। অফিসের গাড়িচালকসহ কয়েকজন কর্মচারী জানান, মামুন বিশ্বাসের উচ্চপর্যায়ে, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই প্রভাবের কারণে তিনি নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো কাজ করেন।

ঠাকুরগাঁও এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আলম বলেন, “স্যার (মামুন বিশ্বাস) হয়তো ভুল করে ফেলেছেন, বিষয়টি এবারের মতো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে ভালো হতো।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি বিভিন্ন অজুহাত তুলে নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য তিনি অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাবও দেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, জবাবদিহিতার অভাব এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণেই অনেক সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সরকারি সম্পদের ব্যবহার সংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মনীতি মেনে চলার জন্য সব সরকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও জেলা পর্যায়ে কোনো ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটলে দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে এ বিষয়ে দুদকের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।