ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের বায়েক গ্রামের কৃতী সন্তান, বায়েক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক হাজী আব্দুল মালেক স্যার আর নেই। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম-এর শ্রদ্ধেয় পিতা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইন্তেকালে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হাজী আব্দুল মালেক একজন আদর্শ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাঁর স্নেহ, প্রজ্ঞা ও আন্তরিক দিকনির্দেশনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একটি সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন সজ্জন, বিনয়ী ও নীতিবান মানুষ হিসেবে তিনি এলাকাবাসীর কাছেও ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ব্যক্তিত্ব।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হাজী আব্দুল মালেক ছিলেন এমন একজন শিক্ষক, যিনি নিজের জীবনকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মহান ব্রতে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর সততা, কর্মনিষ্ঠা, মানবিকতা ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের প্রস্থান ঘটেছে বলে মনে করছেন তাঁর সহকর্মী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
হাজী আব্দুল মালেকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
মহান আল্লাহ তাআলা মরহুম হাজী আব্দুল মালেককে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
মোরশেদ আলম-কসবা প্রতিনিধি 






















