ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাঝ আকাশে ভেঙে গেল বিমানের জানালা, স্বামীকে বাঁচাতে যা করলেন স্ত্রী ৫১ লাখ টাকার জালিয়াতির অভিযোগে উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী বরখাস্ত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সমবায় কর্মকর্তা আফজালের অনিয়ম-দুর্নীতি দোকান, পার্কিং, শৌচাগার ইজারা-রেলের আনিসুরপ্রীতির অভিযোগ সিএজি নুরুল ইসলামের অর্থপাচার ও দুর্নীতি মেহেরপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ মেহেরপুর খাদ্য গুদামে বোরো সংগ্রহে অনিয়ম, ওসিএলএসডি মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গাইবান্ধায় হাসপাতালের ঠিকাদারের অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন কৃষি ব্যাংকে দুর্নীতির তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ

লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ

ভোলার লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। আর এই অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল হোতা হলেন শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী তথা কম্পিউটার অপারেটর মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি চতুরতার সাথে বিভিন্ন খাত থেকে টাকা আদায় করে তার একটি বড় অংশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহে আলমকে দিয়ে দিতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শিক্ষকদের ক্লান্তি ও বিনোদন ভাতার জন্য প্রত্যেক শিক্ষককে অফিস সহকারী তথা কম্পিউটার অপারেটর বিল্লাল হোসেনকে পাঁচশ থেকে পনেরোশ টাকা দিতে হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৫৮৯ জন শিক্ষক ক্লান্তি ও বিনোদন ভাতা পেয়েছেন। এতে বিল্লাল হোসেন অন্তত চার লাখ টাকার ঘুষের লেনদেন করেছেন। তিনি এই ঘুষের টাকার একটি বড় অংশ শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহে আলমকে দেন। এছাড়া, যারা নির্ধারিত ঘুষ দেননি, তাদের কোনো আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “অফিস থেকে আমাকে ডেকে অফিস খরচ বাবদ পাঁচশ টাকাসহ বিনোদন ভাতার জন্য আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়।

পাঁচশ টাকা না দিয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ায় আমাকে বিনোদন ভাতা দেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন শিক্ষক জানান, স্কুল স্লিপ বরাদ্দের জন্য পাঁচ হাজার টাকা, অসুস্থতাজনিত ও মাতৃত্বকালীন ছুটি অনুমোদনের জন্য পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা, বেতনপত্রের জন্য দুইশ টাকা, পেনশন ফাইলের জন্য দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা এবং শিক্ষকদের টিএ বিলের জন্য দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। এই খাতগুলোতে ঘুষের টাকা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. বিল্লাল হোসেনও আদায় করেন। নির্ধারিত ঘুষ না দিলে কোনো কাজই ঠিকমতো হয় না।

অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি ঘুষের বিনিময়ে কোনো কাজ করিনি। আমি সবকিছু নিয়ম মেনেই করছি। আমি ঘুষ দিয়েছি।” শিক্ষক পলাশ স্যারের কাছে শ্রান্তি পাওয়ারনার আবেদনপত্র। তিনি আমাকে যেগুলো দিয়েছেন, সেগুলো আমি অনলাইনে পোস্ট করেছি। যাদের নাম বাদ পড়েছে, পলাশ স্যার আমাকে তাদের নাম বলতে পারবেন।
লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহে আলম বলেন, অফিসের সব অনলাইন কাজ বিল্লাল হোসেন করেন। তিনি কারও কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন কি না, তা আমি জানি না। শ্রান্তি পাওয়ারনার জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়েও আমি কিছু জানি না। কথোপকথনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, হিসাব অফিসে টাকা দিতে হয় বলে তিনি এর জন্য টাকা নিতে পারেন। স্কুল ও ক্লাসের সময় শিক্ষকরা কীভাবে অফিসে বসে থাকেন, সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, এই অভিযোগগুলো অত্যন্ত হতাশাজনক। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঝ আকাশে ভেঙে গেল বিমানের জানালা, স্বামীকে বাঁচাতে যা করলেন স্ত্রী

লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ভোলার লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। আর এই অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল হোতা হলেন শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী তথা কম্পিউটার অপারেটর মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি চতুরতার সাথে বিভিন্ন খাত থেকে টাকা আদায় করে তার একটি বড় অংশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহে আলমকে দিয়ে দিতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শিক্ষকদের ক্লান্তি ও বিনোদন ভাতার জন্য প্রত্যেক শিক্ষককে অফিস সহকারী তথা কম্পিউটার অপারেটর বিল্লাল হোসেনকে পাঁচশ থেকে পনেরোশ টাকা দিতে হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৫৮৯ জন শিক্ষক ক্লান্তি ও বিনোদন ভাতা পেয়েছেন। এতে বিল্লাল হোসেন অন্তত চার লাখ টাকার ঘুষের লেনদেন করেছেন। তিনি এই ঘুষের টাকার একটি বড় অংশ শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহে আলমকে দেন। এছাড়া, যারা নির্ধারিত ঘুষ দেননি, তাদের কোনো আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “অফিস থেকে আমাকে ডেকে অফিস খরচ বাবদ পাঁচশ টাকাসহ বিনোদন ভাতার জন্য আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়।

পাঁচশ টাকা না দিয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ায় আমাকে বিনোদন ভাতা দেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন শিক্ষক জানান, স্কুল স্লিপ বরাদ্দের জন্য পাঁচ হাজার টাকা, অসুস্থতাজনিত ও মাতৃত্বকালীন ছুটি অনুমোদনের জন্য পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা, বেতনপত্রের জন্য দুইশ টাকা, পেনশন ফাইলের জন্য দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা এবং শিক্ষকদের টিএ বিলের জন্য দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। এই খাতগুলোতে ঘুষের টাকা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. বিল্লাল হোসেনও আদায় করেন। নির্ধারিত ঘুষ না দিলে কোনো কাজই ঠিকমতো হয় না।

অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি ঘুষের বিনিময়ে কোনো কাজ করিনি। আমি সবকিছু নিয়ম মেনেই করছি। আমি ঘুষ দিয়েছি।” শিক্ষক পলাশ স্যারের কাছে শ্রান্তি পাওয়ারনার আবেদনপত্র। তিনি আমাকে যেগুলো দিয়েছেন, সেগুলো আমি অনলাইনে পোস্ট করেছি। যাদের নাম বাদ পড়েছে, পলাশ স্যার আমাকে তাদের নাম বলতে পারবেন।
লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহে আলম বলেন, অফিসের সব অনলাইন কাজ বিল্লাল হোসেন করেন। তিনি কারও কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন কি না, তা আমি জানি না। শ্রান্তি পাওয়ারনার জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়েও আমি কিছু জানি না। কথোপকথনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, হিসাব অফিসে টাকা দিতে হয় বলে তিনি এর জন্য টাকা নিতে পারেন। স্কুল ও ক্লাসের সময় শিক্ষকরা কীভাবে অফিসে বসে থাকেন, সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, এই অভিযোগগুলো অত্যন্ত হতাশাজনক। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।