মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ চুক্তির খসড়া পাঠানো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মী প্রেরণ ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকারের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, যার অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষিত ও দক্ষ যুবকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য হলেও ইরান, লেবানন ও সিরিয়াসহ ওই অঞ্চলের অস্থিরতার কারণে কর্মী প্রেরণে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বাজার সুসংহত করার পাশাপাশি বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় চাহিদা যাচাই করে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়েও সরকারের তৎপরতা চলছে।
তিনি আরও জানান, গত ১৮ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-কাতার সপ্তম যৌথ কমিটির বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পেশায় আরও দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ে নতুন চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ ইউরোপের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানো সহজ করতে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভিসা সেন্টার স্থাপনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলতি বছরের ৫ মার্চ, ২৪ মার্চ ও ৫ এপ্রিল তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভার নির্দেশনার আলোকে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং এশিয়ার নতুন বাজারে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে পৃথক ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। এই সেলের অধীনে ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টির বেশি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে (টিটিসি) সমন্বয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দক্ষ কর্মী তৈরির লক্ষ্যে বিএমইটির অধীনে চাহিদাভিত্তিক ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমানে ৬০টি টিটিসিতে জাপানি, কোরিয়ান, চীনা ও ইংরেজি ভাষার কোর্স পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















