ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাস্থ কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী বরুড়ার সালাহ উদ্দিন জসিম বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ওয়্যারহাউস সুপার রনি ও এআরও মাইদুল সিন্ডিকেটে ৪৭৩১ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি জাতীয়তাবাদী আদর্শের কারনে আওয়ামী আমলে বঞ্চিত আব্দুলাহ্ আরেফ এখনও বঞ্চিত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু টাঙ্গাইলে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, সহকারী প্রক্টরসহ আহত ১০ চাঁপাইনবাবগঞ্জে টোল ইস্যুতে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াতের দুই এমপি চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে মাটিচাপায় কিশোরীর মৃত্যু সাজা নিয়েই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফিরছেন ল্য পেন সিগন্যাল দিতেই দৌড়ে পালালো চালক, প্রাইভেটকারের পেছনে মিলল ৫ বস্তা গাঁজা

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে ২৫ বছর চাকরির অভিযোগ, বেবিচকের প্রকৌশলীর শাস্তি শুধু বদলি

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে প্রায় ২৫ বছর চাকরি করার অভিযোগে আলোচিত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি, দুর্নীতি এবং সরকারি সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও শুধু বদলির সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠেছে।

বেবিচকের সদস্য প্রশাসন এস এম লাবলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) বেবিচকের প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তিরান হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে শরিফুল ইসলামকে বদলির তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, সিভিল সার্কেল প্রকল্পে কর্মরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামকে পিডিকিউ অ্যান্ড কিউএস সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ওই সার্কেলে সংযুক্ত রেখে পরিচালক (এরোড্রাম স্ট্যান্ডার্ড), এফএস অ্যান্ড আর বিভাগে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১১ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, শরিফুল ইসলাম ২০০১ সালে একটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে বেবিচকের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পান।

জানা যায়, সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা ডেটাবেজে তার বাবার নাম নেই। এরপর তার চাকরি-সংক্রান্ত নথিপত্র ঘেঁটে চারটি পৃথক মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, চারটি সনদে চার ধরনের তারিখ, ভিন্ন ভিন্ন স্মারক নম্বর এবং বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো সনদে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর, কোনো সনদে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের, কোনো সনদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবং অন্য একটি সনদে সেক্টর কমান্ডার আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ সরকারি গেজেট ও জাতীয় ডেটাবেজে তার বাবার নাম না থাকায় সনদগুলোর বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়। গত ১৬ জুন মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়।

শুধু জাল সনদের অভিযোগ নয়, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, কাওলা আবাসিক কোয়ার্টার রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও তদন্তও চলমান রয়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যেই তাকে শুধু এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। বদলির আদেশে অভিযোগ বা তদন্তের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। ফলে প্রশাসনিক এই পদক্ষেপকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে শাস্তি কি শুধু বদলিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাস্থ কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী বরুড়ার সালাহ উদ্দিন জসিম

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে ২৫ বছর চাকরির অভিযোগ, বেবিচকের প্রকৌশলীর শাস্তি শুধু বদলি

আপডেট সময় ০৩:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে প্রায় ২৫ বছর চাকরি করার অভিযোগে আলোচিত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি, দুর্নীতি এবং সরকারি সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও শুধু বদলির সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠেছে।

বেবিচকের সদস্য প্রশাসন এস এম লাবলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) বেবিচকের প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তিরান হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে শরিফুল ইসলামকে বদলির তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, সিভিল সার্কেল প্রকল্পে কর্মরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামকে পিডিকিউ অ্যান্ড কিউএস সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ওই সার্কেলে সংযুক্ত রেখে পরিচালক (এরোড্রাম স্ট্যান্ডার্ড), এফএস অ্যান্ড আর বিভাগে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১১ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, শরিফুল ইসলাম ২০০১ সালে একটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে বেবিচকের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পান।

জানা যায়, সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা ডেটাবেজে তার বাবার নাম নেই। এরপর তার চাকরি-সংক্রান্ত নথিপত্র ঘেঁটে চারটি পৃথক মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, চারটি সনদে চার ধরনের তারিখ, ভিন্ন ভিন্ন স্মারক নম্বর এবং বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো সনদে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর, কোনো সনদে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের, কোনো সনদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবং অন্য একটি সনদে সেক্টর কমান্ডার আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ সরকারি গেজেট ও জাতীয় ডেটাবেজে তার বাবার নাম না থাকায় সনদগুলোর বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়। গত ১৬ জুন মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়।

শুধু জাল সনদের অভিযোগ নয়, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, কাওলা আবাসিক কোয়ার্টার রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও তদন্তও চলমান রয়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যেই তাকে শুধু এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। বদলির আদেশে অভিযোগ বা তদন্তের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। ফলে প্রশাসনিক এই পদক্ষেপকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে শাস্তি কি শুধু বদলিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।