ঢাকা ০৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকাস্থ কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী বরুড়ার সালাহ উদ্দিন জসিম বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ওয়্যারহাউস সুপার রনি ও এআরও মাইদুল সিন্ডিকেটে ৪৭৩১ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি জাতীয়তাবাদী আদর্শের কারনে আওয়ামী আমলে বঞ্চিত আব্দুলাহ্ আরেফ এখনও বঞ্চিত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু টাঙ্গাইলে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, সহকারী প্রক্টরসহ আহত ১০ চাঁপাইনবাবগঞ্জে টোল ইস্যুতে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াতের দুই এমপি চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে মাটিচাপায় কিশোরীর মৃত্যু সাজা নিয়েই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফিরছেন ল্য পেন সিগন্যাল দিতেই দৌড়ে পালালো চালক, প্রাইভেটকারের পেছনে মিলল ৫ বস্তা গাঁজা

টাঙ্গাইলে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, সহকারী প্রক্টরসহ আহত ১০

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ দেখা কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন।

পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগে ফিরে গেলেও রাত ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়।

পরে রাত ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বর্তমানে সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও বলেন, উপাচার্য ও ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাস্থ কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী বরুড়ার সালাহ উদ্দিন জসিম

টাঙ্গাইলে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, সহকারী প্রক্টরসহ আহত ১০

আপডেট সময় ০৪:২৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ দেখা কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন।

পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগে ফিরে গেলেও রাত ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়।

পরে রাত ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বর্তমানে সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও বলেন, উপাচার্য ও ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।