সংবাদ শিরোনাম ::
২৭৭৯ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে রাজিব দাশ সওজে টেন্ডার বাণিজ্যের ‘গডফাদার’ মনিরুজ্জামান মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আউটলেট, ১০৮ হটস্পট চিহ্নিত : মির্জা ফখরুল ডেপুটি রেঞ্জার আবু সুফিয়ানের লোভনীয় পোস্টিং, রাঙ্গামাটিতে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বহাল ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখা-৫ এর কর্মচারী মিজানের বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা ভারতে পাচারের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে সাড়ে ৭ কোটি টাকার টেন্ডারে নয়ছয়ের অভিযোগ তিন মহাদেশে স্মার্ট টেকনোলজির ব্যবসা, আড়ালে অর্থপাচারের অভিযোগ

ডেপুটি রেঞ্জার আবু সুফিয়ানের লোভনীয় পোস্টিং, রাঙ্গামাটিতে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বহাল

আবু সুফিয়ানের ডেপুটি রেঞ্জারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের সাথে ভূয়া পেইজ থেকে ব্ল‍্যাকমেইল করে নিউজ সরাতে চাঁদাবাজির ব‍্যপক অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলে চাঁদাবাজ আবু সুফিয়ানকে ঘিরে রয়েছে রহস্যময় রাঙ্গামাটি বন বিভাগের রচনা।

জানা যায় বন বিভাগের ভিতরে বিভাজন সৃষ্টি করে অরাজকতার চেষ্টায় বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তিনি গ্রুপিং করেছেন এবং এখনো সক্রিয় আছেন। বন বিভাগের মধ‍্যে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু হলে বিভ্রান্তিকর মিথ্যে তথ‍্য উপস্থাপন করে মানুষের মনে আতন্ক সৃষ্টি করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন বিভাগের মধ‍্যে কয়েকটা দুর্নীতিবাজ রেঞ্জের মাঝে বর্তমান বীজিতলা রেঞ্জ অন‍্যতম। বনাঞ্চল ধ্বংস, ঘুষ বাণিজ্য ও ভুয়া জোত পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বনজসম্পদ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। যিনি বর্তমানে রাঙ্গামাটি ইউএসএফ বন বিভাগে বীজতলা রেঞ্জের দায়িত্বে রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আবু সুফিয়ান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়ে চাকরিতে প্রবেশ করেন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে ঘুষ ও তদবিরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ও পদোন্নতি লাভ করেছেন। তার কর্মজীবনের মধ‍্যে প্রায় পনেরটি বছর রাঙামাটি বিভিন্ন রেঞ্জে স্টেশনে চাকরি করেছেন। হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অন্কের অবৈধ অর্থ।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে রাঙামাটি সার্কেল থেকে বদলি হয়ে আবু সুফিয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের চন্দ্রঘোনা চেক স্টেশনে যোগ দেন। তারপর তিনি তৎকালীন বনমন্ত্রীর ছেলে জুলমুনের মাধ্যমে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ প্রদান করে এ পোস্টিং নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে ডিএফওকে রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলে চন্দ্রঘোনা থেকে ঘাঘড়া স্টেশনে বদলি নেন, যা বন বিভাগের বদলি নীতিমালার পরিপন্থী বলে জানা যায়।

এরপর শুভলং রেঞ্জে রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আবু সুফিয়ান বনাঞ্চল ধ্বংসের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি ভুয়া জোত পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ সেগুন কাঠ পাচার করেন। শুধুমাত্র তার রেঞ্জেই না আশেপাশে অনন‍্য ডিভিশনের কর্মকর্তা কর্মচারিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জালজালিয়াতে করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায় প্রকৃত মালিকদের জমির পরিবর্তে সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে এনে তথাকথিত ‘জোত পারমিটে’ দেখানো হয়, বুঝানো হতো যেন সেই কাঠ বৈধভাবে কাটা হয়েছে। এই কৌশলে তিনি কোটি কোটি টাকার কাঠ পাচার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

পরবর্তীতে তিনি ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে কাপ্তাই রেঞ্জে বদলি হন। কাপ্তাই রেঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণের পর আবু সুফিয়ান স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও আওয়ামীপন্থী একটি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে কাপ্তাই সদর, রামপাহাড় ও শুকনাছড়ি বিটের সংরক্ষিত সেগুন গাছ কেটে পাচার করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। সরেজমিনে পরিদর্শন করলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটার চিহ্ন পাওয়া যাবে । ইতিপূর্বে তদন্ত না করে সুফিয়ানের সবকিছু ধামাচাপা দেয়া হয়।

২০২৪ সালের মে মাসে আবু সুফিয়ান রাঙামাটি এক কর্মকর্তার মাধ‍্যমে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে ‘অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল ও বনীকরণ বিভাগে’ বদলি হন। পরবর্তীতে ডিএফও-কে আরও ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করে খাগড়াছড়ির বীজ ও বীজতলা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।

বর্তমানে তিনি ‘পুনঃকাটিং জোত’-এর নামে এক প্রকার ঘুষ বাণিজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষ ডিসি অফিস থেকে জোতের কাগজ নিয়ে এলে, জমিতে গাছ না থাকলেও তিনি ১০-১৫ হাজার ‘ভুয়া গাছ’ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পারমিট ইস্যু করেন। যা সৎ বন কর্মকর্তাদের চোখে ধুলো দিয়ে কামিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ঘনফুট কাঠের বিপরীতে ডিভিশন অফিস, রেঞ্জ অফিস নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেন, যাচাই-বাছাই ছাড়াই পারমিট অনুমোদন করেন।

অভিযোগকারীরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একাধিক অংশে সেগুন গাছের নির্বিচার কাটার প্রমাণ সরেজমিন তদন্তেই মিলবে। তারা বলেন, আবু সুফিয়ান নিজেকে মাঝে মাঝে ‘ পাগল’ দাবি করে নিজের কর্মকাণ্ড আড়াল করেন, অথচ তার পেছনে কোটি টাকার পোস্টিং বাণিজ্য ও কাঠ পাচার সিন্ডিকেট সক্রিয়। নিজেকে পাগল দাবী করে তিনি বলেন মাসে পাঁচ লাখ টাকা হাতে না আসলে আমার মাথা ঠিক থাকেনা। জোত পারমিটের টাকা ছাড়া আমি অক্সিজেন নিতে পারিনা। এই প্রবাদ বাক‍্যটি পুরো বন বিভাগে তার নিজস্ব ডায়লগ হিসাবে বেশ পরিচিত। বীজতলা রেঞ্জের ইস্যুকৃত জোত পারমিটসমূহ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

এ ব্যাপারে বনবিভাগের রাঙামাটি এবং ঢাকা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। কারন সত‍্যটা যদি বলে তাহলে আবু সুফিয়ান তাদের বিরুদ্ধে ভূয়া পেইজ খুলে মিথ্যে বানোয়াট তথ‍্য প্রকাশ করে হেয় করবেন বলে জানান। এই ভয়ে কেও মুখ খুলতে চাননা।

আবু সুফিয়ান বিভিন্ন ভূয়া পেইজ খুলে মানুষের নামে ভূয়া ভিডিও বানিয়ে অর্থের বিনিময়ে পোষ্ট ডিলট করে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা পয়সা না দিলে মানুষের মা বোন তুলে গালাগালী করে থাকেন। ইনভেষ্টিগেশন নিউজ, ক্রাই নিউজ নামে এক পেইজ থেকে বন বিভাগের বিরুদ্ধে মিথ‍্যাচার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাঙ্গামাটি এবং চট্টগ্রাম কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা বলেন আমার কাছ থেকে জোর করে টাকা নিতে চাইছে আমার নিউজ ডিলেট করবে আমি দেইনি। কিভাবে ডিলেট হইছে আমি বলতে পারছিনা তবে সুফিয়ান অন‍্য কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিউজ ডিলেট করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। পার্বত্য অঞ্চলে কিছু কর্মকর্তা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে অবৈধ পারমিট বাণিজ্য চালাচ্ছেন। তবে প্রমাণসহ অভিযোগ এলে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা সম্ভব। সুফিয়ান নামটি অনেক আগে থেকেই বিতর্কিত বলে জানান। তিনি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সময়কালে মহারাজের নাম বিক্রি করে বন বিভাগের মাঝে যা খুশী তাই করেছে।

বাঁচাও পরিবেশ আন্দোলনের একাধিক _ পরিবেশকর্মী বলেন বন ধ্বংসকারীরা বছরের পর বছর পার পেয়ে যাচ্ছে। যারা ভালো কর্মঠ নীতিবান তাদেরকে নার্সারি বা দাঙ্গা হাঙ্গামা বিট, রেঞ্জ, ক‍্যাম্পে পোষ্টিং দিয়ে রাখে কর্তৃপক্ষ। দুর্নীতিবাজদের পেছনে রাজনীতি ও অর্থের জোর আছে। একবার সত্যিকারের তদন্ত শুরু হলে সুফিয়ানের সাথে দালালচক্রের মুখোশ খুলে যাবে।

তারা অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে আবু সুফিয়ানের সকল পোস্টিং এলাকা যেমন ঘাঘড়া, চন্দ্রঘোনা, শুভলং, কাপ্তাই ও বীজতলা রেঞ্জে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন তদন্ত করার দাবি জানান।

বর্তমানে বীজিতলা রেঞ্জ হইতে কুতুকছড়ি রেঞ্জে বদলি পদায়নে ডিএফওকে দশ লাখ টাকা প্রদান করেছেন বলে তথ‍্য পাওয়া গেছে।
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডেপুটি রেঞ্জার আবু সুফিয়ানকে বারবার ফোন করা হলেও তার দুটি নাম্বারই বন্ধ পাওয়া যায়।।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৭৭৯ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে রাজিব দাশ

ডেপুটি রেঞ্জার আবু সুফিয়ানের লোভনীয় পোস্টিং, রাঙ্গামাটিতে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বহাল

আপডেট সময় ০২:২২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

আবু সুফিয়ানের ডেপুটি রেঞ্জারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের সাথে ভূয়া পেইজ থেকে ব্ল‍্যাকমেইল করে নিউজ সরাতে চাঁদাবাজির ব‍্যপক অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলে চাঁদাবাজ আবু সুফিয়ানকে ঘিরে রয়েছে রহস্যময় রাঙ্গামাটি বন বিভাগের রচনা।

জানা যায় বন বিভাগের ভিতরে বিভাজন সৃষ্টি করে অরাজকতার চেষ্টায় বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তিনি গ্রুপিং করেছেন এবং এখনো সক্রিয় আছেন। বন বিভাগের মধ‍্যে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু হলে বিভ্রান্তিকর মিথ্যে তথ‍্য উপস্থাপন করে মানুষের মনে আতন্ক সৃষ্টি করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন বিভাগের মধ‍্যে কয়েকটা দুর্নীতিবাজ রেঞ্জের মাঝে বর্তমান বীজিতলা রেঞ্জ অন‍্যতম। বনাঞ্চল ধ্বংস, ঘুষ বাণিজ্য ও ভুয়া জোত পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বনজসম্পদ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। যিনি বর্তমানে রাঙ্গামাটি ইউএসএফ বন বিভাগে বীজতলা রেঞ্জের দায়িত্বে রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আবু সুফিয়ান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়ে চাকরিতে প্রবেশ করেন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে ঘুষ ও তদবিরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ও পদোন্নতি লাভ করেছেন। তার কর্মজীবনের মধ‍্যে প্রায় পনেরটি বছর রাঙামাটি বিভিন্ন রেঞ্জে স্টেশনে চাকরি করেছেন। হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অন্কের অবৈধ অর্থ।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে রাঙামাটি সার্কেল থেকে বদলি হয়ে আবু সুফিয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের চন্দ্রঘোনা চেক স্টেশনে যোগ দেন। তারপর তিনি তৎকালীন বনমন্ত্রীর ছেলে জুলমুনের মাধ্যমে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ প্রদান করে এ পোস্টিং নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে ডিএফওকে রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলে চন্দ্রঘোনা থেকে ঘাঘড়া স্টেশনে বদলি নেন, যা বন বিভাগের বদলি নীতিমালার পরিপন্থী বলে জানা যায়।

এরপর শুভলং রেঞ্জে রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আবু সুফিয়ান বনাঞ্চল ধ্বংসের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি ভুয়া জোত পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ সেগুন কাঠ পাচার করেন। শুধুমাত্র তার রেঞ্জেই না আশেপাশে অনন‍্য ডিভিশনের কর্মকর্তা কর্মচারিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জালজালিয়াতে করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায় প্রকৃত মালিকদের জমির পরিবর্তে সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে এনে তথাকথিত ‘জোত পারমিটে’ দেখানো হয়, বুঝানো হতো যেন সেই কাঠ বৈধভাবে কাটা হয়েছে। এই কৌশলে তিনি কোটি কোটি টাকার কাঠ পাচার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

পরবর্তীতে তিনি ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে কাপ্তাই রেঞ্জে বদলি হন। কাপ্তাই রেঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণের পর আবু সুফিয়ান স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও আওয়ামীপন্থী একটি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে কাপ্তাই সদর, রামপাহাড় ও শুকনাছড়ি বিটের সংরক্ষিত সেগুন গাছ কেটে পাচার করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। সরেজমিনে পরিদর্শন করলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটার চিহ্ন পাওয়া যাবে । ইতিপূর্বে তদন্ত না করে সুফিয়ানের সবকিছু ধামাচাপা দেয়া হয়।

২০২৪ সালের মে মাসে আবু সুফিয়ান রাঙামাটি এক কর্মকর্তার মাধ‍্যমে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে ‘অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল ও বনীকরণ বিভাগে’ বদলি হন। পরবর্তীতে ডিএফও-কে আরও ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করে খাগড়াছড়ির বীজ ও বীজতলা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।

বর্তমানে তিনি ‘পুনঃকাটিং জোত’-এর নামে এক প্রকার ঘুষ বাণিজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষ ডিসি অফিস থেকে জোতের কাগজ নিয়ে এলে, জমিতে গাছ না থাকলেও তিনি ১০-১৫ হাজার ‘ভুয়া গাছ’ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পারমিট ইস্যু করেন। যা সৎ বন কর্মকর্তাদের চোখে ধুলো দিয়ে কামিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ঘনফুট কাঠের বিপরীতে ডিভিশন অফিস, রেঞ্জ অফিস নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেন, যাচাই-বাছাই ছাড়াই পারমিট অনুমোদন করেন।

অভিযোগকারীরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একাধিক অংশে সেগুন গাছের নির্বিচার কাটার প্রমাণ সরেজমিন তদন্তেই মিলবে। তারা বলেন, আবু সুফিয়ান নিজেকে মাঝে মাঝে ‘ পাগল’ দাবি করে নিজের কর্মকাণ্ড আড়াল করেন, অথচ তার পেছনে কোটি টাকার পোস্টিং বাণিজ্য ও কাঠ পাচার সিন্ডিকেট সক্রিয়। নিজেকে পাগল দাবী করে তিনি বলেন মাসে পাঁচ লাখ টাকা হাতে না আসলে আমার মাথা ঠিক থাকেনা। জোত পারমিটের টাকা ছাড়া আমি অক্সিজেন নিতে পারিনা। এই প্রবাদ বাক‍্যটি পুরো বন বিভাগে তার নিজস্ব ডায়লগ হিসাবে বেশ পরিচিত। বীজতলা রেঞ্জের ইস্যুকৃত জোত পারমিটসমূহ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

এ ব্যাপারে বনবিভাগের রাঙামাটি এবং ঢাকা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। কারন সত‍্যটা যদি বলে তাহলে আবু সুফিয়ান তাদের বিরুদ্ধে ভূয়া পেইজ খুলে মিথ্যে বানোয়াট তথ‍্য প্রকাশ করে হেয় করবেন বলে জানান। এই ভয়ে কেও মুখ খুলতে চাননা।

আবু সুফিয়ান বিভিন্ন ভূয়া পেইজ খুলে মানুষের নামে ভূয়া ভিডিও বানিয়ে অর্থের বিনিময়ে পোষ্ট ডিলট করে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা পয়সা না দিলে মানুষের মা বোন তুলে গালাগালী করে থাকেন। ইনভেষ্টিগেশন নিউজ, ক্রাই নিউজ নামে এক পেইজ থেকে বন বিভাগের বিরুদ্ধে মিথ‍্যাচার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাঙ্গামাটি এবং চট্টগ্রাম কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা বলেন আমার কাছ থেকে জোর করে টাকা নিতে চাইছে আমার নিউজ ডিলেট করবে আমি দেইনি। কিভাবে ডিলেট হইছে আমি বলতে পারছিনা তবে সুফিয়ান অন‍্য কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিউজ ডিলেট করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। পার্বত্য অঞ্চলে কিছু কর্মকর্তা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে অবৈধ পারমিট বাণিজ্য চালাচ্ছেন। তবে প্রমাণসহ অভিযোগ এলে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা সম্ভব। সুফিয়ান নামটি অনেক আগে থেকেই বিতর্কিত বলে জানান। তিনি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সময়কালে মহারাজের নাম বিক্রি করে বন বিভাগের মাঝে যা খুশী তাই করেছে।

বাঁচাও পরিবেশ আন্দোলনের একাধিক _ পরিবেশকর্মী বলেন বন ধ্বংসকারীরা বছরের পর বছর পার পেয়ে যাচ্ছে। যারা ভালো কর্মঠ নীতিবান তাদেরকে নার্সারি বা দাঙ্গা হাঙ্গামা বিট, রেঞ্জ, ক‍্যাম্পে পোষ্টিং দিয়ে রাখে কর্তৃপক্ষ। দুর্নীতিবাজদের পেছনে রাজনীতি ও অর্থের জোর আছে। একবার সত্যিকারের তদন্ত শুরু হলে সুফিয়ানের সাথে দালালচক্রের মুখোশ খুলে যাবে।

তারা অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে আবু সুফিয়ানের সকল পোস্টিং এলাকা যেমন ঘাঘড়া, চন্দ্রঘোনা, শুভলং, কাপ্তাই ও বীজতলা রেঞ্জে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন তদন্ত করার দাবি জানান।

বর্তমানে বীজিতলা রেঞ্জ হইতে কুতুকছড়ি রেঞ্জে বদলি পদায়নে ডিএফওকে দশ লাখ টাকা প্রদান করেছেন বলে তথ‍্য পাওয়া গেছে।
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডেপুটি রেঞ্জার আবু সুফিয়ানকে বারবার ফোন করা হলেও তার দুটি নাম্বারই বন্ধ পাওয়া যায়।।