সংবাদ শিরোনাম ::
মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পুনরায় ‘মার্কা’ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ পরিস্থিতি বেগতিক-পালানোর প্রস্তুতিতে অতিথি ডটকমের মূল হোতা সাইফুল ময়মনসিংহ বিআরটিএতে বেপরোয়া বাবর, ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেটের গুরুতর অভিযোগ রং-বার্নিশের নামে অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ গণপূর্তে বিদায়ী সংবর্ধনার নামে ৫০ লাখ টাকার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ল্যাগেজ সিন্ডিকেটে বেপরোয়া এআরও আরেফিন ও জুনাব, বেনাপোলে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ স্ট্যান্ড রিলিজের পরও ছাড়েননি দায়িত্ব, ২০ দিনে তুলেছেন ২০ লাখ টাকা ডিএসসিসির প্রকৌশলী আনিছুরকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ গলদে ভরা প্রকল্পের কেন্দ্রে প্রকল্প পরিচালক শেখ মো. আবু জাকির সেকান্দার

পছন্দের ঠিকাদারকে মাল বুঝে না পেয়েই বিল দিতে তড়িঘড়ি শাহীনের

বান্দরবান সদর হাসপাতালে ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ব্যান্ডেজ, লিনেন ও ফার্নিচারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডারকে ঘিরে অনিয়ম ও নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কার্যাদেশ দেওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে ঠিকাদার ৯০ শতাংশ মালামাল সরবরাহ করেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে সেই মালামাল গণমাধ্যমকর্মীদের দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। তার দাবি, ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ নেই এবং একটি প্রভাবশালী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ তুলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ব্যান্ডেজ, লিনেন ও ফার্নিচারসহ ছয়টি খাতে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারের গোপন মূল্যকোড পছন্দের কিছু ঠিকাদারের কাছে আগেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, টেন্ডারের মাধ্যমে এমএসএম নামে একটি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি কার্যাদেশ এবং আলমগীর নামে আরেক ঠিকাদার একটি কার্যাদেশ পান। গত ১৩ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে মালামাল সরবরাহ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী মাত্র ১৬ দিনের মধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে।
টেন্ডারে স্বাস্থ্য বিভাগের অর্থায়নে ওষুধ ক্রয়ে ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩১ লাখ টাকা, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা, কেমিক্যাল ক্রয়ে ৮০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ব্যান্ডেজ ক্রয়ে ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং লিনেন ও ফার্নিচার খাতে পৃথকভাবে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. সানাই ত্রিপুরা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. দেবরাজ বৈদ্য, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. উথেন ক্য, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অতনু চৌধুরী, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ এবং গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয় এবং রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার ফি থেকে আদায় হওয়া অর্থ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নয়ছয় করা হয়। তাদের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, নতুন টেন্ডারে কেনা কিছু ফার্নিচার ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতির মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সুভাষ দাশের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ করেছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। তিনি বলেন, জুন ক্লোজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ টানা সাত দিন অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি ছুটির আবেদন করলেও তা অনুমোদনের আগেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, যা প্রশাসনিকভাবে অসহযোগিতার শামিল বলে মন্তব্য করেন সিভিল সার্জন।
টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অতনু চৌধুরী বলেন, টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদার মালামাল সরবরাহ করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মালামাল বুঝে নেওয়া হয়েছে এবং সরবরাহ করা ওষুধ রোগীদের দেওয়াও হচ্ছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই দাবির পরও সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সেই ৯০ শতাংশ মালামাল দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে টেন্ডার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, টেন্ডারে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, ই-জিপি পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ও দর যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, টেন্ডার মূল্যায়নে ছয় সদস্যের কমিটি রয়েছে এবং তিনি ওই কমিটির সদস্য নন।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী আরও দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের পছন্দের ঠিকাদার কাজ না পাওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কিছু সময় দিন, সব মালামাল গুছিয়ে স্বচ্ছভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।”
এদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, কার্যাদেশের মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ মালামাল সরবরাহের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের মতে, কাগজে-কলমে গ্রহণ এবং বাস্তবে সরবরাহের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ বা অপ্রমাণ করেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পুনরায় ‘মার্কা’ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ

পছন্দের ঠিকাদারকে মাল বুঝে না পেয়েই বিল দিতে তড়িঘড়ি শাহীনের

আপডেট সময় ১২:১৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বান্দরবান সদর হাসপাতালে ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ব্যান্ডেজ, লিনেন ও ফার্নিচারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডারকে ঘিরে অনিয়ম ও নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কার্যাদেশ দেওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে ঠিকাদার ৯০ শতাংশ মালামাল সরবরাহ করেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে সেই মালামাল গণমাধ্যমকর্মীদের দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। তার দাবি, ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ নেই এবং একটি প্রভাবশালী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ তুলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ব্যান্ডেজ, লিনেন ও ফার্নিচারসহ ছয়টি খাতে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারের গোপন মূল্যকোড পছন্দের কিছু ঠিকাদারের কাছে আগেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, টেন্ডারের মাধ্যমে এমএসএম নামে একটি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি কার্যাদেশ এবং আলমগীর নামে আরেক ঠিকাদার একটি কার্যাদেশ পান। গত ১৩ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে মালামাল সরবরাহ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী মাত্র ১৬ দিনের মধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে।
টেন্ডারে স্বাস্থ্য বিভাগের অর্থায়নে ওষুধ ক্রয়ে ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩১ লাখ টাকা, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা, কেমিক্যাল ক্রয়ে ৮০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ব্যান্ডেজ ক্রয়ে ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং লিনেন ও ফার্নিচার খাতে পৃথকভাবে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. সানাই ত্রিপুরা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. দেবরাজ বৈদ্য, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. উথেন ক্য, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অতনু চৌধুরী, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ এবং গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয় এবং রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার ফি থেকে আদায় হওয়া অর্থ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নয়ছয় করা হয়। তাদের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, নতুন টেন্ডারে কেনা কিছু ফার্নিচার ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতির মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সুভাষ দাশের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ করেছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। তিনি বলেন, জুন ক্লোজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ টানা সাত দিন অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি ছুটির আবেদন করলেও তা অনুমোদনের আগেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, যা প্রশাসনিকভাবে অসহযোগিতার শামিল বলে মন্তব্য করেন সিভিল সার্জন।
টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অতনু চৌধুরী বলেন, টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদার মালামাল সরবরাহ করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মালামাল বুঝে নেওয়া হয়েছে এবং সরবরাহ করা ওষুধ রোগীদের দেওয়াও হচ্ছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই দাবির পরও সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সেই ৯০ শতাংশ মালামাল দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে টেন্ডার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, টেন্ডারে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, ই-জিপি পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ও দর যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, টেন্ডার মূল্যায়নে ছয় সদস্যের কমিটি রয়েছে এবং তিনি ওই কমিটির সদস্য নন।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী আরও দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের পছন্দের ঠিকাদার কাজ না পাওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কিছু সময় দিন, সব মালামাল গুছিয়ে স্বচ্ছভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।”
এদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, কার্যাদেশের মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ মালামাল সরবরাহের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের মতে, কাগজে-কলমে গ্রহণ এবং বাস্তবে সরবরাহের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ বা অপ্রমাণ করেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।