নওগাঁর আত্রাইয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোট ১৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৫৯টি বিদ্যালয় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার সরকার বলেন, সহকারী শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন। এ দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের নানা ধরনের সমস্যার ও বিভ্রান্তির মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় নিজের শ্রেণির পাঠদান অন্য শিক্ষককে দিয়ে করাতে হয়, আবার কখনো ক্লাস শেষ করেই উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে যেতে হয়।
এছাড়া প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক অনেক বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় প্রায়ই সিনিয়র প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে পরামর্শ ও তথ্য নিতে হয়। এসব কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। তাই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আমাদের বিদ্যালয়ে দ্রুত একজন নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া অত্যন্ত জরুরি।
মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক শহিদুল আলম শেখ বলেন, আমি দীর্ঘদিন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে জানি, একজন প্রধান শিক্ষকের ওপর কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব থাকে। কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলে এবং একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হলে তাকে অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে হয়। এর ফলে তিনি শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। অনেক সময় অফিসিয়াল কাজে ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে উপজেলা বা বিভিন্ন দপ্তরে যেতে হয়।
তখন বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য শিক্ষকও নির্ধারিত ক্লাস যথাযথভাবে পরিচালনা করেন না, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। এছাড়া দায়িত্ব বণ্টন ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে
মনোমালিন্যেরও সৃষ্টি হতে পারে। তাই শিক্ষার মান ও সুষ্ঠু প্রশাসনিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব কূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন জন সহকারী শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার মান উন্নয়ন, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে শ্রেণী পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণে বর্তমানে কিছু প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা রয়েছে। তবে আশা করছি খুব দ্রুতই নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এবং শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে। এতে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে বলে আশা করছি।
এ দিকে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আত্রাই উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।
আব্দুল মজিদ মল্লিক, আত্রাই (নওগাঁ) 






















