সংবাদ শিরোনাম ::
ক্ষমতায় বসার পর বিএনপির সুর পাল্টে গেছে : ডা. শফিকুর রহমান ফেনী আলিয়ার বিতর্কিত অধ্যক্ষ কারাগারে জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরো সহজলভ্য করার দাবি প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যোগ দিতে রাতে বেইজিং যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী বড়লেখায় ৩২ হাজার শিশু পাচ্ছে ভিটামিন ‘এ’প্লাস ক্যাপসুল ‘বিয়ের কাগজ দেখাতে পারলে যা চাইবেন তা-ই করব’ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ববি সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে ‘ব্যর্থ’ বললেন নাহিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের বড় অভিযান: ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে দুই শিশুর মৃত্যুর ১০ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন শরীয়তপুরের সখিপুরের আরশিনগর ইউনিয়নে কাবিটা প্রকল্পে দুই সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন

সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে ‘ব্যর্থ’ বললেন নাহিদ

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীদের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিচার নিশ্চিত করতে না পারায় আইনমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। নিরাপত্তা দিতে না পারায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। তথ্যমন্ত্রীও ব্যর্থ হয়েছেন, কারণ তিনি আওয়ামী লীগের সুশীল সমাজকে মিডিয়ায় জায়গা দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম খুনের বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আজ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। আর সংস্কার বাস্তবায়ন না করার ফলে বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সংস্কার, বিচার এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃত্বে আমাদের এই সংগ্রাম সংসদের ভেতরে ও বাইরে অব্যাহত থাকবে।

‘এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক, আমাদের জন্য হতাশার যে, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরের মাথায় আমাদের বিচারের দাবিতে আজও রাজপথে হাজির হতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বিগত ১৬-১৭ বছরে অসংখ্য গুম, খুন ও গণহত্যা চালিয়েছে এ দেশের সাধারণ মানুষের ওপর, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর। তার ফলস্বরূপ গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়ে শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে হয়েছিল।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সরকার গঠিত হওয়ার পরে গত চার মাসে আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) নতুন কোনো রায় আমরা এখন পর্যন্ত দেখি নাই। নতুন কোনো তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল হয়নি। এটা স্পষ্টতই ব্যর্থতা। চিফ প্রসিকিউটরকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। তার স্থলে নতুন, যোগ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে, যিনি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিষ্পন্ন করবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রাখেন, আপনারা কি সেই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন? শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারকে আমরা কি নিশ্চিত করব?

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সংগঠন, যার আশ্রয় হয়েছে দিল্লিতে। কারণ আওয়ামী লীগের শেকড় রয়েছে দিল্লিতে। আওয়ামী লীগ একটি ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে। ফলে ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ শেষ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, যারা সমঝোতা করছে এবং আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখছে, তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতোই হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণহত্যা, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সব গুম, খুন এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিশ্চিত করা না হলে এই সরকার কোনোভাবেই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। তিনি বলেন, আমরা জান দেবো, কিন্তু জুলাই দেবো না। ইনশাআল্লাহ, জুলাইয়ের বিজয় হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতায় বসার পর বিএনপির সুর পাল্টে গেছে : ডা. শফিকুর রহমান

সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে ‘ব্যর্থ’ বললেন নাহিদ

আপডেট সময় ০৮:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীদের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিচার নিশ্চিত করতে না পারায় আইনমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। নিরাপত্তা দিতে না পারায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। তথ্যমন্ত্রীও ব্যর্থ হয়েছেন, কারণ তিনি আওয়ামী লীগের সুশীল সমাজকে মিডিয়ায় জায়গা দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম খুনের বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আজ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। আর সংস্কার বাস্তবায়ন না করার ফলে বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সংস্কার, বিচার এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃত্বে আমাদের এই সংগ্রাম সংসদের ভেতরে ও বাইরে অব্যাহত থাকবে।

‘এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক, আমাদের জন্য হতাশার যে, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরের মাথায় আমাদের বিচারের দাবিতে আজও রাজপথে হাজির হতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বিগত ১৬-১৭ বছরে অসংখ্য গুম, খুন ও গণহত্যা চালিয়েছে এ দেশের সাধারণ মানুষের ওপর, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর। তার ফলস্বরূপ গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়ে শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে হয়েছিল।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সরকার গঠিত হওয়ার পরে গত চার মাসে আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) নতুন কোনো রায় আমরা এখন পর্যন্ত দেখি নাই। নতুন কোনো তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল হয়নি। এটা স্পষ্টতই ব্যর্থতা। চিফ প্রসিকিউটরকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। তার স্থলে নতুন, যোগ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে, যিনি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিষ্পন্ন করবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রাখেন, আপনারা কি সেই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন? শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারকে আমরা কি নিশ্চিত করব?

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সংগঠন, যার আশ্রয় হয়েছে দিল্লিতে। কারণ আওয়ামী লীগের শেকড় রয়েছে দিল্লিতে। আওয়ামী লীগ একটি ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে। ফলে ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ শেষ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, যারা সমঝোতা করছে এবং আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখছে, তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতোই হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণহত্যা, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সব গুম, খুন এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিশ্চিত করা না হলে এই সরকার কোনোভাবেই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। তিনি বলেন, আমরা জান দেবো, কিন্তু জুলাই দেবো না। ইনশাআল্লাহ, জুলাইয়ের বিজয় হবে।