বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)-এর আটজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই তারা চাকরিতে যোগ দেন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পদোন্নতিও লাভ করেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিটিআরসিতে কর্মরত রয়েছেন। চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা পদোন্নতিও পেয়েছেন। সম্প্রতি তাদের নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনার দাবি তুলে কিছু মহল অভিযোগ করেছে যে, নিয়োগের সময় প্রযোজ্য বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলি অনুসরণ করা হয়নি।
অভিযোগের আওতায় যাদের নাম এসেছে তারা হলেন— সেলিনা পারভীন, বর্তমানে উপ-পরিচালক (প্রশাসন); মো. মাহবুবুর রহমান, উপ-পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং); মোহাম্মদ কামরুল হাসান, উপ-পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং); মুহাম্মদ জাকারিয়া ভূঁইয়া, সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ইএন্ডও); তৌসিফ শাহরিয়ার, সিনিয়র সহকারী পরিচালক; তানজারা বিনতে আনসার, সিনিয়র সহকারী পরিচালক; মাসুদ কামাল, স্টোর অফিসার; এবং এফএম সোয়েব শাহরিয়ার, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।
অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা অথবা অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে নিয়োগের বৈধতা নিয়ে কোনো কার্যকর পর্যালোচনা না হওয়ায় তারা চাকরিতে বহাল থাকেন এবং নিয়মিতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির শর্ত, নিয়োগবিধি এবং প্রযোজ্য আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত উপেক্ষা করে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। তবে অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি, নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং তৎকালীন প্রশাসনিক অনুমোদন পর্যালোচনা ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর কোনো নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ একদিকে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যদিকে অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের ন্যায়সঙ্গত প্রতিরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে বিটিআরসির বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা অভিযোগগুলোর মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্যও প্রয়োজন, যাতে অভিযোগের বিপরীতে তাদের অবস্থান জানা যায়।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচিত পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করা। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা পায়, অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
অভিযোগকারীরা বিষয়টির তদন্ত এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়োগ ও পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
ফলে বিটিআরসির এই আট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার চূড়ান্ত উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট নথি, কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা এবং সম্ভাব্য তদন্তের ফলাফলের ওপর। অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু হলে তার ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর ভিত্তি কতটা শক্তিশালী এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না।
মোঃ মামুন হোসেন, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 




















