সংবাদ শিরোনাম ::
ফুলের বৃষ্টিতে শেষ কর্মদিবস,বরের সাজে বিদায় নিলেন শিক্ষকরা নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে চীনা পর্যটককে হেনস্তা ও ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় যুবক আটক বড়লেখার কমিউনিটি সেন্টার থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করল পুলিশ, গ্রেফতার ১ কালুখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ হাসনাতকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য রাতে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন কল, সকালে পুকুরে ভেসে উঠলো নিখোঁজ সেঁজুতির লাশ নীলফামারীতে চীনা নাগরিকের সঙ্গে চুক্তিতে তরুণীর বিয়ে, সমালোচনার মুখে পরিবার বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ বড়লেখা-জুড়ীর নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাইলেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণ: কবরস্থান থেকে  বালতি ভর্তি ককটেল উদ্ধার

ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামিল, প্রভাব খাটিয়ে আবারও চট্টগ্রাম ডিপোতে!

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনে (বিআরটিসি) কমেনি আওয়ামী দোসরদের দাপট। এবার ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত কর্মকর্তা জামিল হোসেনকে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিআরটিসির চট্টগ্রাম বাস ডিপোতে পুনর্বাসন করা হয়েছে। গত ১৭ জুন বিআরটিসির জিএম দীনেশ সরকার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলি কার্যকর করা হয়। তবে বিআরটিসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে লাভজনক ডিপোতে পাঠানো কার্যত প্রমোশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার শামিল। অভিযোগ উঠেছে, বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রধান কার্যালয়কে ম্যানেজ করে এই বদলি ভাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে নিজেকে গোপালগঞ্জের সন্তান এবং শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও বর্তমানে পলাতক ‘লিকু’র ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে বিআরটিসিতে রামরাজত্ব কায়েম করেন এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তৎকালীন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া শিক্ষা সনদ দিয়ে তিনি বিআরটিসিতে চাকরি নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই লিকুর ভাগ্নে এবং গোপালগঞ্জের কোটা—এই দুই পরিচয়কে পুঁজি করে বিআরটিসিকে নিজের একক নিয়ন্ত্রণে নেন জামিল। বিভিন্ন ডিপোতে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর সীমাহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ এলাকায় বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি।
সূত্র মতে, বিগত সরকারের সময়ে বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোসহ যেখানেই জামিল হোসেনের পোস্টিং হয়েছে, সেখানেই তিনি জড়িয়েছেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। বিভিন্ন বাস ডিপোতে থাকাকালীন গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে ট্রিপ প্রতি ১০০০ টাকা করে অবৈধ চাঁদা আদায় এবং এসি বাসের যাত্রীদের জন্য ইন্টারনেট ওয়াইফাই সুবিধা চালু না করেই ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন তিনি।

বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জামিল হোসেন সেখানে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ডিপোর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের করে সরকারি তহবিলের কয়েক লাখ টাকা পকেটে পোরেন। তাঁর এই নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির কারণে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বরিশাল বাস ডিপো থেকে তাঁকে গোপালগঞ্জের বাগডিভূতে বদলি করা হয়েছিল।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠলেও, জামিল হোসেন তাঁর অবৈধ উপায়ে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে ঢাকা হেড অফিসের একটি চক্রকে ম্যানেজ করে চট্টগ্রামের মতো লাভজনক ডিপো বাগিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বিআরটিসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিপো ম্যানেজার জামিল কে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুলের বৃষ্টিতে শেষ কর্মদিবস,বরের সাজে বিদায় নিলেন শিক্ষকরা

ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামিল, প্রভাব খাটিয়ে আবারও চট্টগ্রাম ডিপোতে!

আপডেট সময় ০১:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনে (বিআরটিসি) কমেনি আওয়ামী দোসরদের দাপট। এবার ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত কর্মকর্তা জামিল হোসেনকে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিআরটিসির চট্টগ্রাম বাস ডিপোতে পুনর্বাসন করা হয়েছে। গত ১৭ জুন বিআরটিসির জিএম দীনেশ সরকার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলি কার্যকর করা হয়। তবে বিআরটিসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে লাভজনক ডিপোতে পাঠানো কার্যত প্রমোশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার শামিল। অভিযোগ উঠেছে, বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রধান কার্যালয়কে ম্যানেজ করে এই বদলি ভাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে নিজেকে গোপালগঞ্জের সন্তান এবং শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও বর্তমানে পলাতক ‘লিকু’র ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে বিআরটিসিতে রামরাজত্ব কায়েম করেন এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তৎকালীন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া শিক্ষা সনদ দিয়ে তিনি বিআরটিসিতে চাকরি নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই লিকুর ভাগ্নে এবং গোপালগঞ্জের কোটা—এই দুই পরিচয়কে পুঁজি করে বিআরটিসিকে নিজের একক নিয়ন্ত্রণে নেন জামিল। বিভিন্ন ডিপোতে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর সীমাহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ এলাকায় বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি।
সূত্র মতে, বিগত সরকারের সময়ে বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোসহ যেখানেই জামিল হোসেনের পোস্টিং হয়েছে, সেখানেই তিনি জড়িয়েছেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। বিভিন্ন বাস ডিপোতে থাকাকালীন গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস থেকে ট্রিপ প্রতি ১০০০ টাকা করে অবৈধ চাঁদা আদায় এবং এসি বাসের যাত্রীদের জন্য ইন্টারনেট ওয়াইফাই সুবিধা চালু না করেই ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন তিনি।

বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জামিল হোসেন সেখানে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ডিপোর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের করে সরকারি তহবিলের কয়েক লাখ টাকা পকেটে পোরেন। তাঁর এই নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির কারণে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বরিশাল বাস ডিপো থেকে তাঁকে গোপালগঞ্জের বাগডিভূতে বদলি করা হয়েছিল।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠলেও, জামিল হোসেন তাঁর অবৈধ উপায়ে অর্জিত কালো টাকা দিয়ে ঢাকা হেড অফিসের একটি চক্রকে ম্যানেজ করে চট্টগ্রামের মতো লাভজনক ডিপো বাগিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বিআরটিসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিপো ম্যানেজার জামিল কে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।