সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থ আত্মসাতের মেশিন বাংলা টিভির এমডি সামাদুল হক শেয়ার না দিয়ে ২৮ কোটি টাকা আত্মসাত ফুলের বৃষ্টিতে শেষ কর্মদিবস,বরের সাজে বিদায় নিলেন শিক্ষকরা নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে চীনা পর্যটককে হেনস্তা ও ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় যুবক আটক বড়লেখার কমিউনিটি সেন্টার থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করল পুলিশ, গ্রেফতার ১ কালুখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ হাসনাতকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য রাতে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন কল, সকালে পুকুরে ভেসে উঠলো নিখোঁজ সেঁজুতির লাশ নীলফামারীতে চীনা নাগরিকের সঙ্গে চুক্তিতে তরুণীর বিয়ে, সমালোচনার মুখে পরিবার বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ বড়লেখা-জুড়ীর নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাইলেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ

খামারবাড়িতে কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্রে ‘ডিজি’ মাসুম বিল্লাহ

ঢাকা খামারবাড়িস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এ এ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুদকের চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের আশ্রয় প্রদান, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন এবং রমরমা বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই কর্মকর্তার সিন্ডিকেটের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ আব্দুর রহিমের সাথে একই এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে বিশেষ সখ্যের কারণে মাসুম বিল্লাহ খামারবাড়িতে স্বঘোষিত ‘সেকেন্ড ডিজি’ হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

১. দুদকের চার্জশিটভুক্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আগলে রাখার অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, খামারবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লুটপাট ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক এস এম আনিসুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর-৯০/২০২২)।

কারাগারে প্রধান আসামি: এই মামলার চার্জশিটভুক্ত অন্যতম শীর্ষ আসামি সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে আছেন।

পলাতক আসামিদের পুনর্বাসন: তবে এই মামলার ২ নং আসামি উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক অলিউল্লাহ প্রধান (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কর্মরত) এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মূল হোতা প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের সাবেক ক্যাশিয়ার মোঃ জাহিদ হাসান—উভয়েই গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি হওয়া সত্ত্বেও মাসুম বিল্লাহর ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

২. বদলি আদেশকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’: ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে খামারবাড়িতেই অবস্থান
বিগত ১৯/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে খামারবাড়ির ক্যাশিয়ার মোঃ জাহিদ হাসানকে ময়মনসিংহে এবং একই শাখার ক্যাশ সরকার মোঃ হাবিবুর রহমানকে চাঁদপুরে বদলি করা হয়। এরপর ২১/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে তাদের তাৎক্ষণিক অবমুক্তির (রিলিজ) আদেশও দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, নতুন পদায়নকৃত ক্যাশিয়ার মোঃ আল-আমিন যোগদান করলেও জাহিদ হাসান তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং কর্মস্থলে বহাল আছেন। খামারবাড়ির সূত্র মতে:

ক্যাশিয়ার জাহিদ হাসান ৫ লক্ষ টাকা এবং ক্যাশ সরকার হাবিবুর রহমান ১ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মাসুম বিল্লাহর কাছ থেকে বদলি আদেশ বাতিলের মৌখিক আশ্বাস পেয়ে আগের আসনেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মূলত জুন মাসের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কয়েক কোটি টাকার টেন্ডার ও কোটেশনের ‘ভাগবাটোয়ারা’ নিশ্চিত করতেই এই পলাতক আসামিকে খামারবাড়িতে রেখে দেওয়া হয়েছে।

৩. জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী ‘আওয়ামী পুনর্বাসন’ ও বদলি বাণিজ্য
স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে যেসকল দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছিল, মাসুম বিল্লাহর সিন্ডিকেট তাদের খামারবাড়ির লাভজনক পদে ফিরিয়ে আনছে।

নন-ক্যাডার ও উপ-সহকারী বদলি: কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলে পদায়নের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গোপন অর্ডার ও ব্যাকডেটেড সই: বিগত এক মাসে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বদলি আদেশ ডিএই-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ না করে, গোপনে হার্ডকপি প্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পদ শূন্য না থাকলেও মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে সালাহ্উদ্দিন ভূঞা নামের এক উপ-সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নরসিংদী হর্টিকালচার সেন্টারে বদলি করা হয়। ঢাকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা খানকে দিয়ে ০৫/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে আদেশ কার্যকর দেখানো হলেও চিঠিতে ১৪/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখের ব্যাকডেট ব্যবহার করা হয়েছে।

৪. ক্যাডার কর্মকর্তাদের সরিয়ে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ
প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে মাসুম বিল্লাহ বড় কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে বদলি বাণিজ্য চালাচ্ছেন।

বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ন্ত্রণ করতে তিনি চক্রান্তের মাধ্যমে অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন-১) মোঃ হাসানুজ্জামানকে বদলি করান।

এরপর উপপরিচালক (প্রশাসন) মোঃ মুরাদুল হাসান ২৭/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখে হজে যাওয়ার পর মাসুম বিল্লাহ পুরোপুরি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ৯ম গ্রেড হতে ৬ষ্ঠ গ্রেডে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি অফিসারদের সুবিধাজনক স্থানে পদায়নের নাম করে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

৫. সরকারি গাড়ি ও জ্বালানির নজিরবিহীন অপব্যবহার
নিয়ম অনুযায়ী ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে মাসুম বিল্লাহ ফুলটাইম সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন।

তিনি ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-৬১৬৭ নম্বরের গাড়িটি গভীর রাত পর্যন্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন।

তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেও তিনি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ লিটার সরকারি তেল অপচয় করছেন।

তার এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে খামারবাড়ির কোনো চালক কথা বললে বা গাড়ি চালাতে অস্বীকৃতি জানালে, ক্ষমতার জোরে তাকে খামারবাড়ির বাইরে বদলি বা চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়।

৬. অতীতের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে ‘অদৃশ্য বাধা’
খামারবাড়িতে যোগদানের আগে ১৬/০১/২০১৮ থেকে ০৫/০৬/২০২৪ পর্যন্ত পাবনা সদর ও চাটমোহর উপজেলায় কৃষি অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনও মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি প্রণোদনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। কৃষকের বরাদ্দ লোপাট করে তিনি পাবনা জেলা সদরে একটি ৫ তলা বিলাসবহুল ভবনসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিগত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর খামারবাড়ির মেইন গেটে তালাবদ্ধ করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, প্রশাসন ক্যাডারের অফিসারদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গত মার্চ/২০২৫-এ তাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে ঢাকার বাইরে বদলি এবং সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হলেও, এক ‘অদৃশ্য শক্তির’ ইশারায় তিনি এখনো বহাল তবিয়তে খামারবাড়িতে রয়ে গেছেন।

উপসংহার: সরকারের কৃষি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অধিদপ্তরে একজন অতিরিক্ত উপ-পরিচালকের এমন প্রকাশ্য জবরদস্তিমূলক দুর্নীতি এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাটি সুশাসনের চরম পরিপন্থী। অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সচেতন মহল অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উপদেষ্টা মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থ আত্মসাতের মেশিন বাংলা টিভির এমডি সামাদুল হক শেয়ার না দিয়ে ২৮ কোটি টাকা আত্মসাত

খামারবাড়িতে কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্রে ‘ডিজি’ মাসুম বিল্লাহ

আপডেট সময় ০১:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ঢাকা খামারবাড়িস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এ এ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুদকের চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের আশ্রয় প্রদান, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন এবং রমরমা বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই কর্মকর্তার সিন্ডিকেটের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ আব্দুর রহিমের সাথে একই এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে বিশেষ সখ্যের কারণে মাসুম বিল্লাহ খামারবাড়িতে স্বঘোষিত ‘সেকেন্ড ডিজি’ হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

১. দুদকের চার্জশিটভুক্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আগলে রাখার অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, খামারবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লুটপাট ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক এস এম আনিসুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর-৯০/২০২২)।

কারাগারে প্রধান আসামি: এই মামলার চার্জশিটভুক্ত অন্যতম শীর্ষ আসামি সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে আছেন।

পলাতক আসামিদের পুনর্বাসন: তবে এই মামলার ২ নং আসামি উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক অলিউল্লাহ প্রধান (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কর্মরত) এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মূল হোতা প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের সাবেক ক্যাশিয়ার মোঃ জাহিদ হাসান—উভয়েই গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি হওয়া সত্ত্বেও মাসুম বিল্লাহর ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

২. বদলি আদেশকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’: ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে খামারবাড়িতেই অবস্থান
বিগত ১৯/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে খামারবাড়ির ক্যাশিয়ার মোঃ জাহিদ হাসানকে ময়মনসিংহে এবং একই শাখার ক্যাশ সরকার মোঃ হাবিবুর রহমানকে চাঁদপুরে বদলি করা হয়। এরপর ২১/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে তাদের তাৎক্ষণিক অবমুক্তির (রিলিজ) আদেশও দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, নতুন পদায়নকৃত ক্যাশিয়ার মোঃ আল-আমিন যোগদান করলেও জাহিদ হাসান তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং কর্মস্থলে বহাল আছেন। খামারবাড়ির সূত্র মতে:

ক্যাশিয়ার জাহিদ হাসান ৫ লক্ষ টাকা এবং ক্যাশ সরকার হাবিবুর রহমান ১ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মাসুম বিল্লাহর কাছ থেকে বদলি আদেশ বাতিলের মৌখিক আশ্বাস পেয়ে আগের আসনেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মূলত জুন মাসের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কয়েক কোটি টাকার টেন্ডার ও কোটেশনের ‘ভাগবাটোয়ারা’ নিশ্চিত করতেই এই পলাতক আসামিকে খামারবাড়িতে রেখে দেওয়া হয়েছে।

৩. জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী ‘আওয়ামী পুনর্বাসন’ ও বদলি বাণিজ্য
স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে যেসকল দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছিল, মাসুম বিল্লাহর সিন্ডিকেট তাদের খামারবাড়ির লাভজনক পদে ফিরিয়ে আনছে।

নন-ক্যাডার ও উপ-সহকারী বদলি: কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলে পদায়নের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গোপন অর্ডার ও ব্যাকডেটেড সই: বিগত এক মাসে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বদলি আদেশ ডিএই-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ না করে, গোপনে হার্ডকপি প্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পদ শূন্য না থাকলেও মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে সালাহ্উদ্দিন ভূঞা নামের এক উপ-সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নরসিংদী হর্টিকালচার সেন্টারে বদলি করা হয়। ঢাকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা খানকে দিয়ে ০৫/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে আদেশ কার্যকর দেখানো হলেও চিঠিতে ১৪/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখের ব্যাকডেট ব্যবহার করা হয়েছে।

৪. ক্যাডার কর্মকর্তাদের সরিয়ে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ
প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে মাসুম বিল্লাহ বড় কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে বদলি বাণিজ্য চালাচ্ছেন।

বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ন্ত্রণ করতে তিনি চক্রান্তের মাধ্যমে অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন-১) মোঃ হাসানুজ্জামানকে বদলি করান।

এরপর উপপরিচালক (প্রশাসন) মোঃ মুরাদুল হাসান ২৭/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখে হজে যাওয়ার পর মাসুম বিল্লাহ পুরোপুরি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ৯ম গ্রেড হতে ৬ষ্ঠ গ্রেডে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি অফিসারদের সুবিধাজনক স্থানে পদায়নের নাম করে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

৫. সরকারি গাড়ি ও জ্বালানির নজিরবিহীন অপব্যবহার
নিয়ম অনুযায়ী ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে মাসুম বিল্লাহ ফুলটাইম সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন।

তিনি ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-৬১৬৭ নম্বরের গাড়িটি গভীর রাত পর্যন্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন।

তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেও তিনি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ লিটার সরকারি তেল অপচয় করছেন।

তার এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে খামারবাড়ির কোনো চালক কথা বললে বা গাড়ি চালাতে অস্বীকৃতি জানালে, ক্ষমতার জোরে তাকে খামারবাড়ির বাইরে বদলি বা চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়।

৬. অতীতের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে ‘অদৃশ্য বাধা’
খামারবাড়িতে যোগদানের আগে ১৬/০১/২০১৮ থেকে ০৫/০৬/২০২৪ পর্যন্ত পাবনা সদর ও চাটমোহর উপজেলায় কৃষি অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনও মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি প্রণোদনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। কৃষকের বরাদ্দ লোপাট করে তিনি পাবনা জেলা সদরে একটি ৫ তলা বিলাসবহুল ভবনসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিগত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর খামারবাড়ির মেইন গেটে তালাবদ্ধ করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, প্রশাসন ক্যাডারের অফিসারদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গত মার্চ/২০২৫-এ তাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে ঢাকার বাইরে বদলি এবং সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হলেও, এক ‘অদৃশ্য শক্তির’ ইশারায় তিনি এখনো বহাল তবিয়তে খামারবাড়িতে রয়ে গেছেন।

উপসংহার: সরকারের কৃষি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অধিদপ্তরে একজন অতিরিক্ত উপ-পরিচালকের এমন প্রকাশ্য জবরদস্তিমূলক দুর্নীতি এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাটি সুশাসনের চরম পরিপন্থী। অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সচেতন মহল অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উপদেষ্টা মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।