ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

দেশভাগ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মোদির

দেশভাগের সময় অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রক্তপাত ও দেশভাগের পরও বাংলা তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যকে কখনো ধ্বংস হতে দেয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট এই খবর জানিয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গ দিবসের রাজ্য পর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইতিহাস ও রাজনীতির প্রসঙ্গ একসঙ্গে তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে বিশেষ কৃতিত্ব দেন এবং পরবর্তী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে সেই গৌরবময় উত্তরাধিকারকে আড়াল করার অভিযোগ তোলেন।

দেশভাগের আগের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সময়ে পুরো অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার একটি গভীর চক্রান্ত হয়েছিল। সেই সময় কংগ্রেস ‘ষড়যন্ত্রকারী শক্তির’ কাছে পুরোপুরি নতি স্বীকার করেছিল এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এর বিরুদ্ধে তীব্র সোচ্চার হন।

মোদি বলেন, মুখার্জি ‘বাঙালি হিন্দু হোমল্যান্ড’ আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে জোরালো জনমত গড়ে তুলেছিলেন। এই আন্দোলনে বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, ইতিহাসবিদ আর সি মজুমদার ও যদুনাথ সরকার, ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি যুক্ত হয়েছিলেন। এছাড়া বিশিষ্ট শিল্পপতি জিডি বিড়লা এবং মতুয়া নেতা পি আর ঠাকুরও এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলেন।

মোদির দাবি, এই আন্দোলনের ফলে ভারতবিরোধী শক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিল যে পুরো বাংলাকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয় এবং পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়। বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালের কলকাতার সহিংসতা ও নোয়াখালীর দাঙ্গায় বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে এত রক্তপাত ও দেশভাগের চরম ট্র্যাজেডির পরও বাংলা তার নিজস্ব অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পেরেছে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব বারবার নতুন করে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের জানা উচিত সেই সময় কী ঘটেছিল। তার ভাষায়, ২০ জুন কেবল ক্যালেন্ডারের একটি সাধারণ দিন নয়, এটি বাংলার ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক।

কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে মোদি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ইতিহাস ও গুরুত্বকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করা হয়েছে। তার দাবি, দেশভাগের সময় যে কংগ্রেস বাংলা ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিল, পরবর্তীতে তারাই রাজ্যে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে এবং অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করেছে বলেও দাবি করেন নরেন্দ্র মোদি।

তিনি অভিযোগ করেন বলেন, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান চলে গেছে, ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়েছে, কর্মসংস্থান কমেছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা সম্পদের ওপর দখল নিয়েছে।

কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে গড়ে তোলার পরিবর্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তিনি অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি না করার এবং নতুন ইতিহাস গড়ার আহ্বান জানান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

দেশভাগ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মোদির

আপডেট সময় ০৩:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

দেশভাগের সময় অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রক্তপাত ও দেশভাগের পরও বাংলা তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যকে কখনো ধ্বংস হতে দেয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট এই খবর জানিয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গ দিবসের রাজ্য পর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইতিহাস ও রাজনীতির প্রসঙ্গ একসঙ্গে তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে বিশেষ কৃতিত্ব দেন এবং পরবর্তী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে সেই গৌরবময় উত্তরাধিকারকে আড়াল করার অভিযোগ তোলেন।

দেশভাগের আগের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সময়ে পুরো অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার একটি গভীর চক্রান্ত হয়েছিল। সেই সময় কংগ্রেস ‘ষড়যন্ত্রকারী শক্তির’ কাছে পুরোপুরি নতি স্বীকার করেছিল এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এর বিরুদ্ধে তীব্র সোচ্চার হন।

মোদি বলেন, মুখার্জি ‘বাঙালি হিন্দু হোমল্যান্ড’ আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে জোরালো জনমত গড়ে তুলেছিলেন। এই আন্দোলনে বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, ইতিহাসবিদ আর সি মজুমদার ও যদুনাথ সরকার, ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি যুক্ত হয়েছিলেন। এছাড়া বিশিষ্ট শিল্পপতি জিডি বিড়লা এবং মতুয়া নেতা পি আর ঠাকুরও এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলেন।

মোদির দাবি, এই আন্দোলনের ফলে ভারতবিরোধী শক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিল যে পুরো বাংলাকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয় এবং পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়। বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালের কলকাতার সহিংসতা ও নোয়াখালীর দাঙ্গায় বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে এত রক্তপাত ও দেশভাগের চরম ট্র্যাজেডির পরও বাংলা তার নিজস্ব অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পেরেছে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব বারবার নতুন করে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের জানা উচিত সেই সময় কী ঘটেছিল। তার ভাষায়, ২০ জুন কেবল ক্যালেন্ডারের একটি সাধারণ দিন নয়, এটি বাংলার ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক।

কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে মোদি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ইতিহাস ও গুরুত্বকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করা হয়েছে। তার দাবি, দেশভাগের সময় যে কংগ্রেস বাংলা ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিল, পরবর্তীতে তারাই রাজ্যে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে এবং অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করেছে বলেও দাবি করেন নরেন্দ্র মোদি।

তিনি অভিযোগ করেন বলেন, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান চলে গেছে, ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়েছে, কর্মসংস্থান কমেছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা সম্পদের ওপর দখল নিয়েছে।

কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে গড়ে তোলার পরিবর্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তিনি অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি না করার এবং নতুন ইতিহাস গড়ার আহ্বান জানান।