ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের মামলায় পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বিমানে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সারা দেশে মাটি পরীক্ষা চলছে : কৃষিমন্ত্রী পলাশের আনারস স্বাদে অতুলনীয়, বাড়ছে চাহিদা স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে দুই মেয়েকে হত্যা করলেন বাবা! জাপানি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের মন্তব্যে বিপাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সুইডেনের সহায়তা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পঞ্চগড়ে এসজিপিটি পরীক্ষায় সরকারী হাসপাতাল-প্রাইভেট ডায়াগনেস্টিক রিপোর্টে ব্যাপক গড়মিল রাষ্ট্রপতি পদে এখনও ঠিক হয়নি বিএনপি প্রার্থী: চিফ হুইপ

কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু 

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় রইসুল ইসলাম নিবির (১৫ ) নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাএের ভালোবেসে বিয়ের আট মাস পর
রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ভালোবেসে বিয়ে ও মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও স্হানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার  রাতে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, দাম্পত্য কলহের জের ধরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্ত্রী ফাহমিদা ও তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহত নিবির পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার (১৫) একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও একই এলাকার মোশারফ হোসেনের মেয়ে।
নিবিরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর নিবির ও ফাহমিদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ফাহমিদা বাবার বাড়িতে চলে যায় । প্রায় দেড় মাস ধরে উভয়ের মধ্যে দূরত্ব চলছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফাহমিদাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা। পরে মঙ্গলবার রাতে নিবির পরিবারের কাউকে না জানিয়ে নিজেই শ্বশুরবাড়িতে যান স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। রাত পোনে ১২ টার দিকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে জহিরুল ইসলাম নামে এক অটোচালক নিবিরকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। সে সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরিবারের লোকজন প্রথমে তাকে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত নিবিরের বাবা মাসুদ মিয়া বলেন,
বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। আমার ছেলের বউ ফাহমিদা আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিল, আপনার ছেলে আমার কথা শোনে না, আমি তার ভাত খাব না। এরপর সে বাবার বাড়ি চলে যায়। আমরা বহুবার তাকে ফিরে আসতে বলেছি। কিন্তু সে আসেনি।  আমার ছেলে মঙ্গলবার রাতে তাকে আনতে যায়।
পরে রাতে এক অটোচালক তাকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে আসে। আমার ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপধারীদের বিচার চাই।
নিহতের বোন রাত্রী আক্তার বলেন, আমার ভাইয়ের সুন্দর জীবন এই মেয়ে নষ্ট করছে।
আমার ভাইকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা  মেডিকেলে যেতে বলেন। ঢাকা নেবার পথে  আমার ভাই মারা যায়।  আমার ভাইয়ের খুনের বিচার চাই।
নিবিরের মা রাশিদা বেগম বলেন, আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। নিবিরের বউ এবং তার বাড়ির লোকজন আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
অটোচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, রাতে  ফাহমিদার বাবা আমাকে অটো নিয়ে তার বাড়িতে আসতে বলে। পরে তাদের বাড়ির লোকজন নিবিরকে আমার অটোতে অচেতন অবস্থায় তুলে দিয়ে বলেন তাদের বাড়িতে পৌছে দেওয়ার জন্য। আমি তাকে তাদের বাড়ি পৌছে দিয়ে চলে আসি। সকালে খবর পাই নিবির মারা গেছে।
ফাহমিদার চাচা ঈমাম হোসেন জানান, নিবিরের মৃত্যু সংবাদ শুনেই তারা বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যায়।
এদিকে ময়নাতদন্তের পর নিবির লাশ বুধবার বিকেলে বাড়িতে আসলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পলাশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, নিবিরকে  ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়। ঢাকাতেই তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায়  এলাকায় ব্যাপক আলোচনা
-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিবিড়ের  পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। নিবিড়ের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনের মাঝে চলছে শোকের মাতম।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের মামলায় পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ

কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু 

আপডেট সময় ০৮:০৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় রইসুল ইসলাম নিবির (১৫ ) নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাএের ভালোবেসে বিয়ের আট মাস পর
রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ভালোবেসে বিয়ে ও মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও স্হানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার  রাতে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, দাম্পত্য কলহের জের ধরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্ত্রী ফাহমিদা ও তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহত নিবির পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার (১৫) একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও একই এলাকার মোশারফ হোসেনের মেয়ে।
নিবিরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর নিবির ও ফাহমিদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ফাহমিদা বাবার বাড়িতে চলে যায় । প্রায় দেড় মাস ধরে উভয়ের মধ্যে দূরত্ব চলছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফাহমিদাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা। পরে মঙ্গলবার রাতে নিবির পরিবারের কাউকে না জানিয়ে নিজেই শ্বশুরবাড়িতে যান স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। রাত পোনে ১২ টার দিকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে জহিরুল ইসলাম নামে এক অটোচালক নিবিরকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। সে সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরিবারের লোকজন প্রথমে তাকে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত নিবিরের বাবা মাসুদ মিয়া বলেন,
বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। আমার ছেলের বউ ফাহমিদা আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিল, আপনার ছেলে আমার কথা শোনে না, আমি তার ভাত খাব না। এরপর সে বাবার বাড়ি চলে যায়। আমরা বহুবার তাকে ফিরে আসতে বলেছি। কিন্তু সে আসেনি।  আমার ছেলে মঙ্গলবার রাতে তাকে আনতে যায়।
পরে রাতে এক অটোচালক তাকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে আসে। আমার ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপধারীদের বিচার চাই।
নিহতের বোন রাত্রী আক্তার বলেন, আমার ভাইয়ের সুন্দর জীবন এই মেয়ে নষ্ট করছে।
আমার ভাইকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা  মেডিকেলে যেতে বলেন। ঢাকা নেবার পথে  আমার ভাই মারা যায়।  আমার ভাইয়ের খুনের বিচার চাই।
নিবিরের মা রাশিদা বেগম বলেন, আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। নিবিরের বউ এবং তার বাড়ির লোকজন আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
অটোচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, রাতে  ফাহমিদার বাবা আমাকে অটো নিয়ে তার বাড়িতে আসতে বলে। পরে তাদের বাড়ির লোকজন নিবিরকে আমার অটোতে অচেতন অবস্থায় তুলে দিয়ে বলেন তাদের বাড়িতে পৌছে দেওয়ার জন্য। আমি তাকে তাদের বাড়ি পৌছে দিয়ে চলে আসি। সকালে খবর পাই নিবির মারা গেছে।
ফাহমিদার চাচা ঈমাম হোসেন জানান, নিবিরের মৃত্যু সংবাদ শুনেই তারা বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যায়।
এদিকে ময়নাতদন্তের পর নিবির লাশ বুধবার বিকেলে বাড়িতে আসলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পলাশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, নিবিরকে  ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়। ঢাকাতেই তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায়  এলাকায় ব্যাপক আলোচনা
-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিবিড়ের  পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। নিবিড়ের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনের মাঝে চলছে শোকের মাতম।