প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুনকুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর ক্রিকেট বাছাই কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোচ ছগীরের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অর্থ ও প্রভাবের বিনিময়ে অনূর্ধ্ব-১৪ বয়সসীমার বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ের জন্য তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দালালপুর গ্রামের বন্ধু শংকরের দুই ছেলে রাজ ও গোপাল উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেয়। কিন্তু বিভাগীয় বাছাই শেষে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, অনূর্ধ্ব-১৪ ক্যাটাগরির প্রতিযোগিতা হওয়া সত্ত্বেও অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সসীমার তিনজন খেলোয়াড়কে জাতীয় পর্যায়ের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। আরও অভিযোগ করা হয়, ওই তিনজন বিভাগীয় বাছাই পর্বেই অংশ নেননি। বিষয়টি দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত বরিশাল ক্রীড়া কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম শুভ বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কোচকে তাদের তালিকাভুক্ত না করার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, কোচ ছগীর সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে উক্ত খেলোয়াড়দের মূল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। এতে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য খেলোয়াড়রা বঞ্চিত হয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারী পক্ষ জানায়, বাছাই পর্বে রাজ ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। তিনি এক ওভারে দুটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে উপস্থিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন। তবুও চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম না থাকায় উপস্থিত খেলোয়াড় ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
রাজ ও গোপালের পরিবারের দাবি, তাদের দুই সন্তান শারীরিক সক্ষমতা, দক্ষতা ও অন্যান্য পরীক্ষাসহ সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করলেও রহস্যজনক কারণে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিভাবকরা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নতুনকুঁড়ি স্পোর্টসের মূল উদ্দেশ্য তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা। কিন্তু যদি অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের কারণে মেধাবীরা বঞ্চিত হয়, তাহলে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে কোচ ছগীরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত করা হবে।
রিয়াজ ফরাজী 



















