সংবাদ শিরোনাম ::
গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন ফরিদপুর এডুকেশন এনকারেজিং সোসাইটির আয়োজনে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা মুরাদনগরে কর্মরত এসি ল্যান্ড সাকিব হাসানের ওপর ডাকাত দলের বর্বরোচিত হামলা, দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ রংপুরে পাটক্ষেতে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ভূয়া ঠিকানায় রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ-এনআইডি সংগ্রহের অভিযোগ, বোরহানউদ্দিনে দালালচক্রের তৎপরতায় জনমনে উদ্বেগ

  • রিয়াজ ফরাজী 
  • আপডেট সময় ০৬:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৫১৭ বার পড়া হয়েছে
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা এবং ভিন্ন জেলার লোকজনকে স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে জন্মসনদ ও ভোটার করার কাজে জড়িত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি দুই ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত বাসিন্দা না হয়েও কিছু ব্যক্তি স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী দালালচক্র প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ ব্যবহার করে এসব অনিয়ম পরিচালনা করছে। ফলে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কিছু ব্যক্তি জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক নথি সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালচক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। পরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাদের জন্মনিবন্ধন ও ভোটার নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ কাজে জনপ্রতি প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে এক সাংবাদিককে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অন্য জেলা থেকে আসা এক নারী তার বাবাসহ বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার হওয়ার জন্য উপস্থিত হন। নির্বাচন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তারা স্থানীয় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অন্য এলাকার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে একজন দালালও ছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। ঘটনাটি সে সময় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কেবল নাগরিক পরিচয়ের দলিল নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। প্রকৃত পরিচয় গোপন করে কেউ যদি এসব নথি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বোরহানউদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও উপজেলা সুজন সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, “ভুয়া পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হলে পরবর্তীতে পাসপোর্ট গ্রহণ, ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, ভূমি ক্রয়-বিক্রয় এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে জালিয়াতি, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় অনিয়ম প্রবেশ করলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে বহুবার আলোচনা হলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি। তাদের দাবি, উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সুশাসন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জন্মনিবন্ধন ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাই, বায়োমেট্রিক তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দালালচক্র ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ওঠা এই অভিযোগ এখন শুধু একটি উপজেলার আলোচনার বিষয় নয়; বরং জাতীয় পরিচয়ব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং জননিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

ভূয়া ঠিকানায় রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ-এনআইডি সংগ্রহের অভিযোগ, বোরহানউদ্দিনে দালালচক্রের তৎপরতায় জনমনে উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৬:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা এবং ভিন্ন জেলার লোকজনকে স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে জন্মসনদ ও ভোটার করার কাজে জড়িত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি দুই ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত বাসিন্দা না হয়েও কিছু ব্যক্তি স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী দালালচক্র প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ ব্যবহার করে এসব অনিয়ম পরিচালনা করছে। ফলে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কিছু ব্যক্তি জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক নথি সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালচক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। পরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাদের জন্মনিবন্ধন ও ভোটার নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ কাজে জনপ্রতি প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে এক সাংবাদিককে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অন্য জেলা থেকে আসা এক নারী তার বাবাসহ বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার হওয়ার জন্য উপস্থিত হন। নির্বাচন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তারা স্থানীয় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অন্য এলাকার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে একজন দালালও ছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। ঘটনাটি সে সময় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কেবল নাগরিক পরিচয়ের দলিল নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। প্রকৃত পরিচয় গোপন করে কেউ যদি এসব নথি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বোরহানউদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও উপজেলা সুজন সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, “ভুয়া পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হলে পরবর্তীতে পাসপোর্ট গ্রহণ, ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, ভূমি ক্রয়-বিক্রয় এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে জালিয়াতি, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় অনিয়ম প্রবেশ করলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে বহুবার আলোচনা হলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি। তাদের দাবি, উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সুশাসন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জন্মনিবন্ধন ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাই, বায়োমেট্রিক তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দালালচক্র ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ওঠা এই অভিযোগ এখন শুধু একটি উপজেলার আলোচনার বিষয় নয়; বরং জাতীয় পরিচয়ব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং জননিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।