ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁদপুর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী আলমগীরের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ শেখ হাসিনার জ্বালানি নীতির কারণে বিদ্যুৎ ভোগান্তি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মহাদেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ২ ম্যাচ স্থগিত বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিভিত্তিক কোনো ব্যবসা করতে দেবো না : অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে: চিফ হুইপ শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের মামলায় পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বিমানে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সারা দেশে মাটি পরীক্ষা চলছে : কৃষিমন্ত্রী পলাশের আনারস স্বাদে অতুলনীয়, বাড়ছে চাহিদা

পটুয়াখালীতে ৫ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের এপ্রোজ সড়ক, দুর্ভোগে ৮ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিআরডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি কাজ।
সরেজমিন ঘুড়ে দেখা যায়, সেতুর মূল অব কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (নাম) বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী আলমগীরের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

পটুয়াখালীতে ৫ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের এপ্রোজ সড়ক, দুর্ভোগে ৮ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় ০৬:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিআরডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি কাজ।
সরেজমিন ঘুড়ে দেখা যায়, সেতুর মূল অব কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (নাম) বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।