ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে তথ্য অধিকার আইন তথ্য কর্মকর্তার খেয়াল খুশি মতো চলে

‎গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-কে তোয়াক্কা না করে নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার খর্ব করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্পোরেশনের নগর ভবনের ব্যাংক ব্যালেন্স, অবশিষ্ট তহবিল ও ঠিকাদারি বিল সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য ধামাচাপা দিতে খোদ ” প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার” দোহাই দিয়ে আবেদন সরাসরি প্রত্যাখানের ঘটনা ঘটেছে।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত ‘ফরম-ক’ এর মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেন এক গণমাধ্যমকর্মী। (যার দাপ্তরিক ডেসপাস পত্র নম্বর- ৭২৭)।

‎আবেদনে মূলত ৪টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্টে ৫ আগস্ট ২০২৪ এবং ২৮ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের সিটি কর্পোরেশনের কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

‎আবেদনটি দাপ্তরিকভাবে গ্রহণ করা হলেও, বেশ কিছুদিন অপেক্ষার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা আবেদনকারীকে ডেকে নিয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। কর্মকর্তা মৌখিকভাবে সাফ জানিয়ে দেন, “আপনি যে তথ্য চেয়েছেন, সেটি দেওয়া যাবে না আপনি যা চেয়েছেন সেটা প্রশাসক ও চান না ।” একই সাথে নিজের দায়িত্ব এড়াতে তিনি আবেদনকারীকে বলেন, তথ্য নিতে হলে ফাইলটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, সেখান থেকে বুঝে নিতে।

‎১. আইনের ধারা ৯(১) ও ৯(৩) এর স্পষ্ট লঙ্ঘন: তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা আবেদন পাওয়ার পর নিজ দায়িত্বে তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য। যদি কোনো তথ্য আইনগত কারণে দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে আবেদনের ২০ বা ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ব্যাখ্যা করে লিখিতভাবে আবেদনকারীকে জানাতে হবে। মুখের কথায় দোহাই দিয়ে তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর কোনো সুযোগ আইনে নেই।

‎২.দায়িত্ব এড়ানো ও এখতিয়ার বহির্ভূত আচরণ: তথ্য কর্মকর্তা নিজেই যেখানে তথ্য দাতা, সেখানে আবেদনকারীকে সরাসরি তথ্য না দিয়ে “প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ফাইল পাঠিয়ে দেওয়া হবে” বলা আইনসম্মত নয়। এটি তথ্য কর্মকর্তার নিজস্ব আইনি দায়িত্ব এড়ানোর শামিল।

‎৩.  যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো, মৌখিকভাবে বিভ্রান্ত করা বা তথ্য লুকানোর চেষ্টা করার জন্য তথ্য কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত জরিমানা এবং বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে পারে

‎জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ও ঠিকাদারি বিলের তথ্য গোপন করার এই মরিয়া চেষ্টা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ৫ আগস্ট ২০২৪ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের ফান্ডের হিসাব ও ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকা বিল প্রদানের তালিকায় এমন কী গোপন নথি রয়েছে যা প্রকাশ পেলে “প্রশাসন”-এর ভিত নড়ে উঠবে? এই লুকোচুরির পেছনে কোনো বড় ধরণের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি ঢাকা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে কিনা, তা নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

‎এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবেদনকারী জানান, “আইন কোনো ব্যক্তি, সিইও বা প্রশাসকের খেয়ালখুশিতে চলতে পারে না। সরকারি দপ্তরের তহবিলের হিসাব জানার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের আছে। যেহেতু তারা আইন অমান্য করে মৌখিকভাবে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই আমি তথ্য অধিকার আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আপিল আবেদন দাখিল করব।”

‎গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মতো একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে খোদ তথ্য কর্মকর্তার এমন আইন পরিপন্থী অবস্থান তথ্য অধিকার আইনের মূল চেতনা “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা”-কে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে তথ্য অধিকার আইন তথ্য কর্মকর্তার খেয়াল খুশি মতো চলে

আপডেট সময় ০৪:২২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

‎গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-কে তোয়াক্কা না করে নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার খর্ব করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্পোরেশনের নগর ভবনের ব্যাংক ব্যালেন্স, অবশিষ্ট তহবিল ও ঠিকাদারি বিল সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য ধামাচাপা দিতে খোদ ” প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার” দোহাই দিয়ে আবেদন সরাসরি প্রত্যাখানের ঘটনা ঘটেছে।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত ‘ফরম-ক’ এর মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেন এক গণমাধ্যমকর্মী। (যার দাপ্তরিক ডেসপাস পত্র নম্বর- ৭২৭)।

‎আবেদনে মূলত ৪টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্টে ৫ আগস্ট ২০২৪ এবং ২৮ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের সিটি কর্পোরেশনের কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

‎আবেদনটি দাপ্তরিকভাবে গ্রহণ করা হলেও, বেশ কিছুদিন অপেক্ষার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা আবেদনকারীকে ডেকে নিয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। কর্মকর্তা মৌখিকভাবে সাফ জানিয়ে দেন, “আপনি যে তথ্য চেয়েছেন, সেটি দেওয়া যাবে না আপনি যা চেয়েছেন সেটা প্রশাসক ও চান না ।” একই সাথে নিজের দায়িত্ব এড়াতে তিনি আবেদনকারীকে বলেন, তথ্য নিতে হলে ফাইলটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, সেখান থেকে বুঝে নিতে।

‎১. আইনের ধারা ৯(১) ও ৯(৩) এর স্পষ্ট লঙ্ঘন: তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা আবেদন পাওয়ার পর নিজ দায়িত্বে তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য। যদি কোনো তথ্য আইনগত কারণে দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে আবেদনের ২০ বা ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ব্যাখ্যা করে লিখিতভাবে আবেদনকারীকে জানাতে হবে। মুখের কথায় দোহাই দিয়ে তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর কোনো সুযোগ আইনে নেই।

‎২.দায়িত্ব এড়ানো ও এখতিয়ার বহির্ভূত আচরণ: তথ্য কর্মকর্তা নিজেই যেখানে তথ্য দাতা, সেখানে আবেদনকারীকে সরাসরি তথ্য না দিয়ে “প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ফাইল পাঠিয়ে দেওয়া হবে” বলা আইনসম্মত নয়। এটি তথ্য কর্মকর্তার নিজস্ব আইনি দায়িত্ব এড়ানোর শামিল।

‎৩.  যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো, মৌখিকভাবে বিভ্রান্ত করা বা তথ্য লুকানোর চেষ্টা করার জন্য তথ্য কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত জরিমানা এবং বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে পারে

‎জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ও ঠিকাদারি বিলের তথ্য গোপন করার এই মরিয়া চেষ্টা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ৫ আগস্ট ২০২৪ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের ফান্ডের হিসাব ও ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকা বিল প্রদানের তালিকায় এমন কী গোপন নথি রয়েছে যা প্রকাশ পেলে “প্রশাসন”-এর ভিত নড়ে উঠবে? এই লুকোচুরির পেছনে কোনো বড় ধরণের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি ঢাকা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে কিনা, তা নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

‎এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবেদনকারী জানান, “আইন কোনো ব্যক্তি, সিইও বা প্রশাসকের খেয়ালখুশিতে চলতে পারে না। সরকারি দপ্তরের তহবিলের হিসাব জানার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের আছে। যেহেতু তারা আইন অমান্য করে মৌখিকভাবে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই আমি তথ্য অধিকার আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আপিল আবেদন দাখিল করব।”

‎গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মতো একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে খোদ তথ্য কর্মকর্তার এমন আইন পরিপন্থী অবস্থান তথ্য অধিকার আইনের মূল চেতনা “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা”-কে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।