ঢাকার ধামরাইয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের পাশে যাত্রী ছাউনি নির্মাণে অনিয়ম ও স্থান নির্বাচনের ত্রুটির কারণে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটেছে। ফলে অপরিকল্পিত জায়গায় নির্মিত যাত্রী ছাউনি কোন কাজে আসছে না যাত্রীসাধারণের। যাত্রী ছাউনি এখন ব্যবহার হচ্ছে সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আউলাদ হোসেনের বৈঠকখানা হিসেবে।
মঙ্গলবার (০৯ জুন সকালে ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে সড়কে বাসের বদলে তিন চাকার অটোর দাপট রয়েছে সেই সড়কেই করা হয়েছে যাত্রী ছাউনি। ইউপি চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় তার বাড়ির সামনে ভুল স্থানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের কারণে সরকারি তহবিল অপচয়ের ঘটনায় দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
তবে অনেকে মন্তব্য করেছেন, পথচারীদের বিশ্রাম নেওয়া কিংবা যানবাহনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য কোন কাজে না লাগলেও স্থানীয় চেয়ারম্যানের বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনায় চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে নিজেদের পুকুর পাড়ে এই যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ৫ আগস্টের পর চেয়ারম্যান হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় পলাতক থাকাতে হয়তো বৈঠকখানায় রূপান্তর নেয়নি। তবে রাতে বৈঠক বসে মাদকসেবিদের। সরকারি পর্যায়ে তদারকির অভাবে এমনটি হয়েছে বলে দাবি করছেন অনেকে।
সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ধামরাই বাজার থেকে কালামপুর বাজার ও সাটুরিয়া পর্যন্ত সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। কালামপুর থেকে ধামরাই বাজারে কোন যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না। এ সড়কের সুবিধামত স্থান থেকেই তিন চাকার যানবাহন যোগে গন্তব্যে পোঁছাতে পারছেন সাধারণ যাত্রীরা। এরপরও যাত্রী ছাউনির কোন প্রয়োজন না থাকলেও সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোয়ালদী গ্রামের আওলাদ হোসেন ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েছিলেন সুকৌশলে। তবে দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও যাত্রী ছাউনিটি তৈরি করা হচ্ছিলো না।
পরে সাংবাদিকদের পীড়াপিড়িতে গত আট মাস পূর্বে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে যাত্রী ছাউনি গড়ে তোলার কারণে সরকারের অর্থ অপচয় করা হয়েছে বলে জানা স্থানীয়রা।
উক্ত স্থানে দেখা যায় সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের বাড়ির সামনে পুকুরের পূর্বপাশের কোনায় নির্মাণ করা হয়েছে যাত্রী ছাউনি। যাত্রী ছাউনির কোন সাইনবোর্ড নেই। দেখে মনে হয় না এটা একটা যাত্রী ছাউনি। দেখে যে কেউই বলবে পুকুরপাড়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধি বা পারিবারিক আড্ডাখানা। স্বাভাবিক ক্ষেত্রে সড়ক সম্মুখে রেখে যাত্রী ছাউনি খোলা রাখা হয়। কিন্তু এটা তা করা হয়নি। এটি চেয়ারম্যানের পারিবারিক পুকুরে রাস্তার সম্মুখ ভাগে খোলা রাখা হয়েছে। ফলে যাত্রী ছাউনিটি সড়কের পাশে হলেও এটি কোন কাজেই আসছে না। সেখানে যাত্রী ছাউনির কোন দরকারই ছিল না। অথচ এর প্রায় একশ গজ পূর্বপাশে তিন রাস্তার মোড় প্রায়ই লোকজন দাড়িয়ে থাকে অটোরিকশায় উঠার জন্য।
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত একটি স্ট্যান্ডে যাত্রীদের জন্য বর্ষায় বৃষ্টি আর রোদ থেকে রক্ষা পেতে নির্মাণ করা হয় যাত্রী ছাউনি। তবে এই যাত্রী ছাউনিটি কোন কাজেই আসছে না। অপরিকল্পিতভাবে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ সরকারের অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। তবে এটি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বৈঠকখানা হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে সরকারের অর্থ অপচয় হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আনোয়ার হোসেন, আব্দুল জলিল, নিয়ামত আলীসহ অনেকে অভিযোগ করেন।
পালিয়ে থাকা সাবেক চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: সাইদ আল মামুন 




















