বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-গ্রন্থাগারিক মামদুদুর রহমানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে ইঙ্গিত করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন, যা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্ট্যাটাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ ফেরদৌস রহমান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোঃ ইলিয়াছ প্রামাণিককে ইঙ্গিত করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি পদোন্নতির আশ্বাসে পোস্ট টি মুছে ফেলেন সামাজিক মাধ্যম থেকে।
উপ-গ্রন্থাগারিক মামদুদুর রহমান বর্তমান রেজিস্ট্রার ফেরদৌস রহমানকে ইঙ্গিত করে লেখেন, “নির্বাচনের পূর্বে মনে হলো যদি বিএনপি ক্ষমতায় না আসে, তাহলে তো বিপদ হবে। তাই সবার আগে নিজের পদোন্নতি কনফার্ম করতে হবে এবং করলেনও তাই।” একই সাথে সিএসই বিভাগের শিক্ষক ইলিয়াছ প্রামাণিক ও সাদা দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে আক্রমণ করে তিনি লেখেন, “যেই নিজের পাওনা আদায় হলো এখন মনে করছেন আপনি তমুক হবেন। তারপর বিভাগে নিজের মতো করে শিক্ষক নিয়োগ দিবেন… কারণ জামাত-বিএনপি ভাই ভাই ! পারস্পরিক সহযোগিতায় সাদা দল আমরা চালাই।” স্ট্যাটাসে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে আরও লেখেন, “আমরা দুই ভাই শিক্ষক, আমরা তোমাদের থোরাই ট্যারাই।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি অতিরিক্ত গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে চলমান আলোচনা ও নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। গত ৯ মে অতিরিক্ত গ্রন্থাগারিক পদের নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেটি স্থগিত করা হয়। এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা লিখিত আবেদনও জমা দেন।
মামদুদুর রহমান ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে অবৈধভাবে নিয়োগ পান। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ৩ নম্বর শর্তানুযায়ী ৫ বছরের (৬০ মাস) অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হলেও আবেদনের শেষ তারিখে (২০ মে ২০০৯) তার অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ৪ বছর ৪ মাস ৩ দিন। মামদুদুর রহমান তার আবেদনে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একটি সুপারিশপত্রও যুক্ত করেছিলেন। এরপর তিনি ২০১৭ সালে উপ-গ্রন্থাগারিক পদে পদোন্নতি পান এবং ২০১৯ সালে তথ্য গোপন করে অতিরিক্ত গ্রন্থাগারিক পদে পদোন্নতি লাভের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে মামদুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে কোনো কিছু লিখি নাই । স্ক্রিনশট থাকতেই পারে আমকে নিয়ে, আর প্রত্যয়নপত্র আমার বাবার ছিল তার সাথে আমার সাধ কী। আমার বাবা যে সময় আওয়ামীলীগ করতো সে সময় বাংলাদেশে জামায়াত আর আওয়ামীলীগ ছিল আমার বাবা তো জামায়াত করে নাই।আমার বাবা মারা গেছেন সতেরো বছর আগে। আর নির্বাচনের কাগজ আমর বিপক্ষে অবস্থান করছে যারা তারা তৈরি করেছে ২০১৯ সালে নির্বাচনের ফলাফলে আমার নাম নেই। আমার জায়গায় নাম আছে আশরাফুল এর। আর বঙ্গবন্ধু কর্নার আমি তৈরি করি নাই তখন সারাদেশে একযোগে তৈরি করা হয়েছে এবং ভিসি তৈরি করেছে, তখন লাইব্রেরীয়ান এর দায়িত্বে আমি ছিলাম না। আর চাকরির সার্কুলার তখন দিয়েছে লুৎফর রহমান স্যার ওনাকে জিজ্ঞেস করেন বর্তমানে তিনি সিন্ডিকেট সদস্য আমি শর্ত পূরণ করেই চাকরি পেয়েছি ।
তিনি আরো বলেন, আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের শেরে বাংলা হলের জয়েন সেক্রেটারি ছিলাম ২০০৩ সালে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলাম। আমার মনের মধ্যে কী আছে সেটা শুধু আমি জানি পুরো বাংলাদেশ জানবে না। এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ ফেরদৌস রহমান বলেন, “না তো এই বিষয়ে আমি তোমাকে কিছু বলতে পারলাম না এই মুহূর্তে। আমি পোস্ট টি দেখি নাই
গণ-অভ্যূত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে বঞ্চিত দাবি করে পুনরায় পদোন্নতির চেষ্টা করছেন। অবশ্য এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২জন শিক্ষার্থীর করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মামদুদুর রহমানের অবৈধ নিয়োগের তথ্য চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে ইউজিসি। সম্প্রতি মামদুদুর রহমান কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম গঠন করে নিজেই সাধারণ সম্পাদক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্ঠা করছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজনীতি করার কোন সুযোগ নেই।
ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামদুদুর রহমানের এই স্ট্যাটাস মূলত এক ধরণের রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল । চাকরি পাওয়ার পর যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘স্বাধীনতা পরিষদ’-এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন, তিনি এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজের অবৈধ নিয়োগের বৈধতা পেতে জাতীয়তাবাদী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।
মাসফিকুল হাসান,বেরোবি প্রতিনিধি 





















