রংপুরের পীরগঞ্জ থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ট্রান্সফরমার চুরি ও মফিজার রহমান (৪৬) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। গত ২৩ মে থেকে ২৪ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আন্তঃজেলা ডাকাত ও চোর চক্রের মূল মোট ৭ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:১. মোঃ জামিরুল ইসলাম (৩২) – পিতা: মৃত নজুমাল শেখ, সাং-চকবালা, থানা-পলাশবাড়ী, জেলা-গাইবান্ধা (বর্তমান সাং-খোজমতপুর পশ্চিমপাড়া, থানা-পীরগঞ্জ, জেলা-রংপুর)।২. মোঃ আব্দুল জলিল (৩৮) – পিতা: মৃত তফিজার মুন্সি, সাং-আমন্দাপুর, থানা-কালাই, জেলা-জয়পুরহাট।৩. মোঃ সবদেল আকন্দ ওরফে শামিম (৩৪) – পিতা: মৃত মজিবর রহমান, সাং-পুরন্দর (রথের বাজার), থানা-গোবিন্দগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধা।৪. মোঃ ওয়াহাব ওরফে শফিকুল – বগুড়া জেলার মোকামতলা বাজার থেকে গ্রেফতার।
৫. মোঃ নুরুল আমিন (৬৮) – পিতা: মৃত আজিজার রহমান, সাং-বাঁশকাটা, থানা-পলাশবাড়ী, জেলা-গাইবান্ধা।৬. মোঃ আনিছুর রহমান (৪০) পিতা: মৃত আজাহার আলী, সাং-কাবিলপুর সোনাডাঙ্গা, থানা-সাদুল্লাপুর, জেলা-গাইবান্ধা। ৭. মোঃ আমিরুল ইসলাম সরকার (৫৫) – পিতা: মৃত পেল্লা সরদার, সাং-বেড়াডাঙ্গা, থানা-পলাশবাড়ী, জেলা-গাইবান্ধা।ঘটনা ও তদন্তের বিবরণপুলিশ জানায়, গত ০৭/০৫/২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর-১৩, ধারা-৩০২/৩৯৪/৩৯৭ পেনাল কোড) দায়ের করা হয়। রংপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মহোদয়ের দিক-নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) এর সার্বিক সহযোগিতায় ডিবি ও পীরগঞ্জ থানার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম এই ক্লু-লেস মামলার তদন্তে নামে।গ্রেফতারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা স্বীকার করে যে, ঘটনার রাতে পীরগঞ্জের বাসিন্দা মফিজার রহমান (৪৬) তাদের ট্রান্সফরমার চুরিতে বাধা দিয়েছিলেন।
বাধা দেওয়ায় আসামিরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায়।মালামাল উদ্ধারআসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ও চুরির কাজে ব্যবহৃত নিম্নলিখিত মালামাল এবং আলামত উদ্ধার করেছে:অপরাধে ব্যবহৃত একটি নোয়া মাইক্রোবাস ও একটি সিএনজি।চুরিকৃত ৩টি ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামা তোলার যন্ত্রাংশ।বর্তমান পরিস্থিতিপুলিশ সুপার এই সফল অভিযানের জন্য পীরগঞ্জ থানা ও ডিবি পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তারা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুতই আদালতে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 





















