ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

স্কুলে সহপাঠীদের মাঝে রামিসাকে খুঁজছেন বাবা, কাঁদলেন-কাঁদালেন

রামিসাকে কবরস্থ করে সহপাঠীদের মাঝে মেয়েকে খুঁজছেন বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার গিয়েছিলেন তিনি।এই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। তার শ্রেণিকক্ষে গিয়ে মেয়ের সহপাঠীদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবদুল হান্নান।
তার কান্না চোখে জল এনে দেয় রামিসার ছোট্ট ছোট্ট সহপাঠীকেও। তারাও রামিসার বাবাকে ঘিরে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে গত মঙ্গলবার হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়।

গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে এশার নামাজ শেষে জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় শিশু রামিসাকে।

মেয়েকে দাফন শেষে ঢাকায় ফেরেন আবদুল হান্নান মোল্লা। আজ গিয়েছিলেন মেয়ের স্কুলে। সেখানে রামিসার সহপাঠীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি।এর আগে গতকাল এক ভিডিওতে আবদুল হান্নান মোল্লাকে বিচারব্যবস্থার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। নিজের মেয়ে হত্যার বিচার চান না জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না।

আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই।
তিনি বলেন, ‘আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডে মামলা করেছেন তার বাবা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি ধর্ষণ-হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানান, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সময়ে ঘরের একটি কক্ষে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখেছিলেন সোহেল। পরে মরদেহ টুকরা করে গুম করার প্রস্তুতির সময় রামিসার স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান সোহেল ও তার আরেক সঙ্গী। স্বপ্নাকে তাৎক্ষণিক আটক করে স্থানীয়রা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

স্কুলে সহপাঠীদের মাঝে রামিসাকে খুঁজছেন বাবা, কাঁদলেন-কাঁদালেন

আপডেট সময় ০৮:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

রামিসাকে কবরস্থ করে সহপাঠীদের মাঝে মেয়েকে খুঁজছেন বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার গিয়েছিলেন তিনি।এই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। তার শ্রেণিকক্ষে গিয়ে মেয়ের সহপাঠীদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবদুল হান্নান।
তার কান্না চোখে জল এনে দেয় রামিসার ছোট্ট ছোট্ট সহপাঠীকেও। তারাও রামিসার বাবাকে ঘিরে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে গত মঙ্গলবার হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়।

গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে এশার নামাজ শেষে জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় শিশু রামিসাকে।

মেয়েকে দাফন শেষে ঢাকায় ফেরেন আবদুল হান্নান মোল্লা। আজ গিয়েছিলেন মেয়ের স্কুলে। সেখানে রামিসার সহপাঠীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি।এর আগে গতকাল এক ভিডিওতে আবদুল হান্নান মোল্লাকে বিচারব্যবস্থার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। নিজের মেয়ে হত্যার বিচার চান না জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না।

আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই।
তিনি বলেন, ‘আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডে মামলা করেছেন তার বাবা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি ধর্ষণ-হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানান, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সময়ে ঘরের একটি কক্ষে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখেছিলেন সোহেল। পরে মরদেহ টুকরা করে গুম করার প্রস্তুতির সময় রামিসার স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান সোহেল ও তার আরেক সঙ্গী। স্বপ্নাকে তাৎক্ষণিক আটক করে স্থানীয়রা।