ছাত্ররাজনীতিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ছাত্ররাজনীতির প্রতি বিমুখ হওয়া উচিত নয়। দেশের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের সচেতনভাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে হবে। ছাত্ররাজনীতি থেকে গড়ে ওঠা নেতৃত্বই রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
আজ (মঙ্গলবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘সিটিজেন ডায়ালগ : ম্যানিফেস্টো টু অ্যাকশন— চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, চাইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারতেন। তবে ছাত্ররাজনীতির পথ বেছে নেওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি যদি শিক্ষক হতাম, হয়তো আমার বিষয় অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল টেকনোলজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতাম। কিন্তু ছাত্ররাজনীতি আমাকে সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের নানা দিক বোঝার সুযোগ দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, তিনি হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন এবং তিনবার সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলের সদস্য সম্পাদক থেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে জাতীয় রাজনীতিতে কাজ করার সক্ষমতা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ছাত্ররাজনীতি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি বলি ছাত্ররাজনীতি করবো না, তাহলে ক্ষতিটা দেশেরই হবে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী যখন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেটাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির ভিত্তি প্রস্তুত করে।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তার ভাষ্য, পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে এই কর্মসূচি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আগামী ৫০ বছর টিকে থাকতে হলে এ উদ্যোগের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র তিন মাসে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে ৫ লাখ টন ইলিশ। বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়।
চিংড়ি রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের চাহিদা পূরণ করে ভবিষ্যতে মাছ ও গবাদিপশু খাত থেকেও বড় ধরনের রপ্তানি আয় সম্ভব।
ঢাবির মুজিব হলের ক্যান্টিনের ডালে জীবন্ত পোকা
নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ঢাবির জিয়া হল ডিবেটিং ক্লাব ছাড়লেন দুই বিতার্কিক
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুনভাবে জাগরণ সৃষ্টি করেছি : এ্যানি
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাবিব রহমান ও ফারিহা অমি।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 





















