সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ বড়লেখা-জুড়ীর নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাইলেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণ: কবরস্থান থেকে  বালতি ভর্তি ককটেল উদ্ধার ঢাকা ওয়াসার মিটার রিডার থেকে কোটিপতি: ওয়াসা কর্মকর্তা হারুনের অ’বৈধ সম্পদের পাহাড় ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামিল, প্রভাব খাটিয়ে আবারও চট্টগ্রাম ডিপোতে! খামারবাড়িতে কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্রে ‘ডিজি’ মাসুম বিল্লাহ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে শুভঙ্করের ফাঁকি ৪ বিঘা জমি কিনে ৬৫ বিঘার প্রকল্প বিক্রি করছে ছুটি রিসোর্ট বাংলাদেশের স্কুলে বিতরণের জন্য ১ হাজার ফুটবল উপহার দিল পাকিস্তান আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: র‌্যাব

জামালপুরে পিচ গলানোর ড্রাম বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ

জামালপুরে সড়ক সংস্কারকাজের সময় পিচ গলানোর ড্রাম বিস্ফোরণে দুই নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সদর উপজেলার নান্দিনা বানার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন- সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার আরসাব আলীর ছেলে মো. বুলবুল (৩৫) এবং মেলান্দহ উপজেলার পৌর শহরের ছনবাড়ী এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক (৫৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নান্দিনা বানার এলাকায় একটি রাস্তা সংস্কারের কাজে বুলবুল ও মোজাম্মেলসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক পিচ গলানোর কাজ করছিলেন। দুপুরে অন্য শ্রমিকরা খাবার খেতে গেলে বুলবুল ও মোজাম্মেল পিচ গলানোর কড়াইয়ে আগুন দিয়ে কাজ চালিয়ে যান। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে কড়াইটি বিস্ফোরিত হয় এবং তাদের শরীরে আগুন ধরে যায়। কিছুক্ষণ পর অন্য শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে এসে বালু দিয়ে আগুন নেভান। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিকেল ৪টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মো. শাহীন নামে এক শ্রমিক বলেন, এসে দেখি তাদের শরীরে আগুন জ্বলছে। আমরা তাদের কলাপাতার ওপর শুইয়ে রাখি এবং অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজি ডাকার চেষ্টা করি, কিন্তু কেউ আসেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করলে তারা এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রবিন নামে আরেক শ্রমিক বলেন, আমরা খেতে গিয়েছিলাম। খাওয়া শেষ হতেই বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখি। গিয়ে দেখি তাদের শরীরে আগুন। কয়েকজন মিলে আগুন নিভিয়ে ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিই। ফায়ার সার্ভিস এসে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে আসি।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. শামীম ইফতেখার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভর্তি দুই রোগীর মধ্যে বুলবুলের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মোজাম্মেলের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দুজনের অবস্থাই সংকটাপন্ন। হাতের শিরা পুড়ে যাওয়ায় পায়ে ক্যানুলা করে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ

জামালপুরে পিচ গলানোর ড্রাম বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ

আপডেট সময় ০৬:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

জামালপুরে সড়ক সংস্কারকাজের সময় পিচ গলানোর ড্রাম বিস্ফোরণে দুই নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সদর উপজেলার নান্দিনা বানার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন- সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার আরসাব আলীর ছেলে মো. বুলবুল (৩৫) এবং মেলান্দহ উপজেলার পৌর শহরের ছনবাড়ী এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক (৫৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নান্দিনা বানার এলাকায় একটি রাস্তা সংস্কারের কাজে বুলবুল ও মোজাম্মেলসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক পিচ গলানোর কাজ করছিলেন। দুপুরে অন্য শ্রমিকরা খাবার খেতে গেলে বুলবুল ও মোজাম্মেল পিচ গলানোর কড়াইয়ে আগুন দিয়ে কাজ চালিয়ে যান। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে কড়াইটি বিস্ফোরিত হয় এবং তাদের শরীরে আগুন ধরে যায়। কিছুক্ষণ পর অন্য শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে এসে বালু দিয়ে আগুন নেভান। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিকেল ৪টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মো. শাহীন নামে এক শ্রমিক বলেন, এসে দেখি তাদের শরীরে আগুন জ্বলছে। আমরা তাদের কলাপাতার ওপর শুইয়ে রাখি এবং অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজি ডাকার চেষ্টা করি, কিন্তু কেউ আসেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করলে তারা এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রবিন নামে আরেক শ্রমিক বলেন, আমরা খেতে গিয়েছিলাম। খাওয়া শেষ হতেই বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখি। গিয়ে দেখি তাদের শরীরে আগুন। কয়েকজন মিলে আগুন নিভিয়ে ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিই। ফায়ার সার্ভিস এসে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে আসি।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. শামীম ইফতেখার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভর্তি দুই রোগীর মধ্যে বুলবুলের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মোজাম্মেলের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দুজনের অবস্থাই সংকটাপন্ন। হাতের শিরা পুড়ে যাওয়ায় পায়ে ক্যানুলা করে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।