সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ বড়লেখা-জুড়ীর নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাইলেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণ: কবরস্থান থেকে  বালতি ভর্তি ককটেল উদ্ধার ঢাকা ওয়াসার মিটার রিডার থেকে কোটিপতি: ওয়াসা কর্মকর্তা হারুনের অ’বৈধ সম্পদের পাহাড় ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামিল, প্রভাব খাটিয়ে আবারও চট্টগ্রাম ডিপোতে! খামারবাড়িতে কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্রে ‘ডিজি’ মাসুম বিল্লাহ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে শুভঙ্করের ফাঁকি ৪ বিঘা জমি কিনে ৬৫ বিঘার প্রকল্প বিক্রি করছে ছুটি রিসোর্ট বাংলাদেশের স্কুলে বিতরণের জন্য ১ হাজার ফুটবল উপহার দিল পাকিস্তান আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: র‌্যাব

৫০ শয্যার হাসপাতালে শতাধিক রোগী, ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের দাবি

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা-এ রয়েছে ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা। প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯৯ জনসংখ্যার এ উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা উপজেলা সদরস্থ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। শুধু পীরগঞ্জের বাসিন্দারাই নন, পাশ্ববর্তী পলাশবাড়ী উপজেলা, মিঠাপুকুর উপজেলা ও সাদুল্যাপুর উপজেলা-র লোকজনও চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতিদিন এই হাসপাতালে ছুটে আসেন।
উপজেলায় চতরা ইউনিয়নে ১টি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, খালাশপীর হাটে ১টি ১০ শয্যা এবং মিঠিপুর ইউনিয়নে ১টি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল থাকলেও সেগুলো বর্তমানে নামেমাত্র চালু রয়েছে। কার্যত এসব হাসপাতালে তেমন চিকিৎসাসেবা না থাকায় রোগীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে পীরগঞ্জ ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রায়ই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের বারান্দা ও মেঝেতে নিজেদের আনা বিছানায় চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রোগীদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে বিসিএস ক্যাডারসহ মোট ১৬ জন চিকিৎসক ও ৬ জন কনসালটেন্ট কর্মরত রয়েছেন। তবে রোগীর তুলনায় এই জনবল অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে চিকিৎসক ও সেবিকাদের প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও হাসপাতালটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও ৫০ শয্যার চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকলেও জনবল নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মান তুলনামূলক ভালো হওয়ায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এখানে আসেন। কিন্তু সীমিত জনবল, যন্ত্রপাতির সংকট ও বেড স্বল্পতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারছেন না। এতে সেবাগ্রহীতাদের মাঝেও অসন্তোষ বাড়ছে এবং অনেকেই অবহেলার অভিযোগ তুলছেন।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত পীরগঞ্জ ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-কে ন্যূনতম ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির পরিধি বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ

৫০ শয্যার হাসপাতালে শতাধিক রোগী, ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের দাবি

আপডেট সময় ০৫:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা-এ রয়েছে ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা। প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯৯ জনসংখ্যার এ উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা উপজেলা সদরস্থ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। শুধু পীরগঞ্জের বাসিন্দারাই নন, পাশ্ববর্তী পলাশবাড়ী উপজেলা, মিঠাপুকুর উপজেলা ও সাদুল্যাপুর উপজেলা-র লোকজনও চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতিদিন এই হাসপাতালে ছুটে আসেন।
উপজেলায় চতরা ইউনিয়নে ১টি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, খালাশপীর হাটে ১টি ১০ শয্যা এবং মিঠিপুর ইউনিয়নে ১টি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল থাকলেও সেগুলো বর্তমানে নামেমাত্র চালু রয়েছে। কার্যত এসব হাসপাতালে তেমন চিকিৎসাসেবা না থাকায় রোগীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে পীরগঞ্জ ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রায়ই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের বারান্দা ও মেঝেতে নিজেদের আনা বিছানায় চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রোগীদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে বিসিএস ক্যাডারসহ মোট ১৬ জন চিকিৎসক ও ৬ জন কনসালটেন্ট কর্মরত রয়েছেন। তবে রোগীর তুলনায় এই জনবল অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে চিকিৎসক ও সেবিকাদের প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও হাসপাতালটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও ৫০ শয্যার চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকলেও জনবল নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মান তুলনামূলক ভালো হওয়ায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এখানে আসেন। কিন্তু সীমিত জনবল, যন্ত্রপাতির সংকট ও বেড স্বল্পতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারছেন না। এতে সেবাগ্রহীতাদের মাঝেও অসন্তোষ বাড়ছে এবং অনেকেই অবহেলার অভিযোগ তুলছেন।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত পীরগঞ্জ ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-কে ন্যূনতম ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির পরিধি বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।