ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

মুকসুদপুরে অঞ্চলে বোরো ধান কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন দিয়ে ধান কাটা উদ্ধোধন

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়ন তারাইল মাঠ পরিদর্শন করে কম্বাইন্ড
হারভেস্টর মেশিন দিয়ে ধান কাটা উদ্ধোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক
কবির, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান,প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার
আব্দুল জব্বার,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মাদ এম এ নাঈম, উপজেলা সমাজ
সেবা অফিসার রাকিবুল হাচান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণঅফিসার মিজানুর রহমান, উপজেলা
উপ-সহকারী উদ্ভিদ ও সংর¶ণ কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস আহমেদ প্রমুখ ।
তৃপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরম উপে¶া করে মুকসুদপুর উপজেলার অঞ্চলে এখন বোরো ধান কাটা-
মাড়াইয়ের মহোৎসব চলছে। দিগন্তজোড়া সোনালী মাঠের ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন
কৃষাণ-কৃষাণীরা। প্রতিকূল আবহাওয়া আর নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এবার এ অঞ্চলে বোরো ধানের
বাম্পার ফলন হয়েছে।

তবে রেকর্ড ফলনেও কৃষকদের মনে পুরোপুরি আনন্দ নেই; শ্রমিক সংকট আর বাজারদর নিয়ে এক
ধরণের অজানা শঙ্কা কাজ করছে তাদের মধ্যে। মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০হেক্টর হেক্টর জমিতে বোরো
ধানের চাষ হয়েছে। যা থেকে উৎপাদন ল¶্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১০২৯১৭ মেট্রিক টন ধান। গত
বছরের তুলনায় এবার চাষের জমির পরিমাণ ও উৎপাদন ল¶্যমাত্রা বেড়েছে।এবার হাইব্রিড-৯,৩০৩,
ঊফশী -৪৩১৭ সহ উচ্চ ফলনশীল আধুনিক জাতের ধান চাষই মূলত এই সাফল্যের মূল
চাবিকাঠি।শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উন্নয়ন
সহায়তার আওতায় ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ বা ধান কাটার যন্ত্র হয়েছে। এখন পুরোদমে ধান মাড়াই
চলছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।মাঠে কর্মরত
মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রাম গ্রামের কৃষক মনি বাগচি বলেন, ্য়ঁড়ঃ;এবারের মতো ফলন গত কয়েক
বছরে দেখিনি।

হাইব্রিড-ঊফশী লাগিয়েছিলাম, বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত ফলন পাচ্ছি। কিন্তু
দুশ্চিন্তা হচ্ছে ধান কাটা নিয়ে। এলাকায় কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরের জেলা
থেকেও শ্রমিক কম আসছে। তার ওপর বাজারে ধানের দাম যদি কমে যায়,লোকসান গুনতে হবে।
একই আশঙ্কার কথা জানালেন তারাইল গ্রামের কৃষক বিদ্যারতন বাকচি বলেন, ্য়ঁড়ঃ;ফলন তো ভালো
হয়েছে, কিন্তু এক বিঘা জমির ধান কাটা থেকে মাড়াই পর্যন্ত খরচ মেটাতেই আমরা হিমশিম
খাচ্ছি। কৃষি বিভাগের হারভেস্টর মেশিনগুলো আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। মেশিনে ধান কাটলে খরচ
অর্ধেক হয়ে যায়। তবে সব জমি একবারে পেকে যাওয়ায় মেশিনের সিরিয়াল পেতেও দেরি হচ্ছে।
আবহাওয়া কখন বিগড়ে যায় সেই ভয়ে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে চাইছি।্য়ঁড়ঃ;কৃষি বিভাগ বলছে,
শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় তারা যান্ত্রিকীকরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মুকসুদপুর
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ্য়ঁড়ঃ;প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
করেই এ বছর মুকসুদপুর অঞ্চলের মাটি ও কৃষকের পরিশ্রমে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ
করে হাইব্রিড-, ঊফশী জাতগুলো এ অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী প্রমাণিত হয়েছে। আমরা
কৃষকদের শুধু পরামর্শই দিচ্ছি না, বরং শ্রমিক সংকট কাটাতে সরকারি ভর্তুকিতে কম্বাইন্ড

হারভেস্টর বা ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহে সহায়তা করছি। এরই মধ্যে উপজেলার কম্বাইন্ড হারভেস্টর বা
ধান কাটার যন্ত্র সরবরাবাহ পুরো দমে ধান মাড়াই চলছে।এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয়
হচ্ছে।আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা সময়মতো ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করে
ঘরে ফিরতে পারবেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের
পাশাপাশি কৃষকদের দ্রুত ধান মাড়াই ও সংর¶ণের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।এখন কৃষকদের
একমাত্র প্রত্যাশা সরকার যেন সরাসরি মাঠ পর্যায় থেকে ধান সংগ্রহ করে বাজারমূল্য স্থিতিশীল
রাখে, যাতে তারা তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির সঠিক মূল্য পান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

মুকসুদপুরে অঞ্চলে বোরো ধান কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন দিয়ে ধান কাটা উদ্ধোধন

আপডেট সময় ০৩:৫৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়ন তারাইল মাঠ পরিদর্শন করে কম্বাইন্ড
হারভেস্টর মেশিন দিয়ে ধান কাটা উদ্ধোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক
কবির, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান,প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার
আব্দুল জব্বার,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মাদ এম এ নাঈম, উপজেলা সমাজ
সেবা অফিসার রাকিবুল হাচান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণঅফিসার মিজানুর রহমান, উপজেলা
উপ-সহকারী উদ্ভিদ ও সংর¶ণ কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস আহমেদ প্রমুখ ।
তৃপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরম উপে¶া করে মুকসুদপুর উপজেলার অঞ্চলে এখন বোরো ধান কাটা-
মাড়াইয়ের মহোৎসব চলছে। দিগন্তজোড়া সোনালী মাঠের ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন
কৃষাণ-কৃষাণীরা। প্রতিকূল আবহাওয়া আর নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এবার এ অঞ্চলে বোরো ধানের
বাম্পার ফলন হয়েছে।

তবে রেকর্ড ফলনেও কৃষকদের মনে পুরোপুরি আনন্দ নেই; শ্রমিক সংকট আর বাজারদর নিয়ে এক
ধরণের অজানা শঙ্কা কাজ করছে তাদের মধ্যে। মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০হেক্টর হেক্টর জমিতে বোরো
ধানের চাষ হয়েছে। যা থেকে উৎপাদন ল¶্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১০২৯১৭ মেট্রিক টন ধান। গত
বছরের তুলনায় এবার চাষের জমির পরিমাণ ও উৎপাদন ল¶্যমাত্রা বেড়েছে।এবার হাইব্রিড-৯,৩০৩,
ঊফশী -৪৩১৭ সহ উচ্চ ফলনশীল আধুনিক জাতের ধান চাষই মূলত এই সাফল্যের মূল
চাবিকাঠি।শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উন্নয়ন
সহায়তার আওতায় ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ বা ধান কাটার যন্ত্র হয়েছে। এখন পুরোদমে ধান মাড়াই
চলছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।মাঠে কর্মরত
মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রাম গ্রামের কৃষক মনি বাগচি বলেন, ্য়ঁড়ঃ;এবারের মতো ফলন গত কয়েক
বছরে দেখিনি।

হাইব্রিড-ঊফশী লাগিয়েছিলাম, বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত ফলন পাচ্ছি। কিন্তু
দুশ্চিন্তা হচ্ছে ধান কাটা নিয়ে। এলাকায় কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরের জেলা
থেকেও শ্রমিক কম আসছে। তার ওপর বাজারে ধানের দাম যদি কমে যায়,লোকসান গুনতে হবে।
একই আশঙ্কার কথা জানালেন তারাইল গ্রামের কৃষক বিদ্যারতন বাকচি বলেন, ্য়ঁড়ঃ;ফলন তো ভালো
হয়েছে, কিন্তু এক বিঘা জমির ধান কাটা থেকে মাড়াই পর্যন্ত খরচ মেটাতেই আমরা হিমশিম
খাচ্ছি। কৃষি বিভাগের হারভেস্টর মেশিনগুলো আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। মেশিনে ধান কাটলে খরচ
অর্ধেক হয়ে যায়। তবে সব জমি একবারে পেকে যাওয়ায় মেশিনের সিরিয়াল পেতেও দেরি হচ্ছে।
আবহাওয়া কখন বিগড়ে যায় সেই ভয়ে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে চাইছি।্য়ঁড়ঃ;কৃষি বিভাগ বলছে,
শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় তারা যান্ত্রিকীকরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মুকসুদপুর
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ্য়ঁড়ঃ;প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
করেই এ বছর মুকসুদপুর অঞ্চলের মাটি ও কৃষকের পরিশ্রমে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ
করে হাইব্রিড-, ঊফশী জাতগুলো এ অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী প্রমাণিত হয়েছে। আমরা
কৃষকদের শুধু পরামর্শই দিচ্ছি না, বরং শ্রমিক সংকট কাটাতে সরকারি ভর্তুকিতে কম্বাইন্ড

হারভেস্টর বা ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহে সহায়তা করছি। এরই মধ্যে উপজেলার কম্বাইন্ড হারভেস্টর বা
ধান কাটার যন্ত্র সরবরাবাহ পুরো দমে ধান মাড়াই চলছে।এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয়
হচ্ছে।আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা সময়মতো ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করে
ঘরে ফিরতে পারবেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের
পাশাপাশি কৃষকদের দ্রুত ধান মাড়াই ও সংর¶ণের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।এখন কৃষকদের
একমাত্র প্রত্যাশা সরকার যেন সরাসরি মাঠ পর্যায় থেকে ধান সংগ্রহ করে বাজারমূল্য স্থিতিশীল
রাখে, যাতে তারা তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির সঠিক মূল্য পান।