সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ডিপিডিসিতে আওয়ামী দোসর প্রকৌশলী বদরুল আলম ও পুরনো নেটওয়ার্কের ছায়া

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্যে যে পরিবর্তন আসার কথা ছিল, বাস্তবে তার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে Dhaka Power Distribution Company Limited (ডিপিডিসি)-তে। অভিযোগ উঠছে, অতীতের প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী নতুন বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সংস্থাটির কিছু জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী—যাদের মধ্যে আবুল ফজল মো. বদরুল আলম অন্যতম।
ডিপিডিসির অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, বদরুল আলম দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে ছিলেন। সরকারি তালিকাতেও তাকে ডিপিডিসির একজন প্রধান প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায় । একটি বড় প্রকল্পে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা এবং একইসঙ্গে প্রশাসনিক প্রভাব ধরে রাখার বিষয়টি নিয়ে ভেতরে ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, “একই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় একটি প্রকল্পে থাকলে সেখানে জবাবদিহিতা কমে যায়, এবং একটি নির্দিষ্ট বলয় তৈরি হয়।” তাদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রভাববলয় স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
যদিও বদরুল আলমের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণিত দুর্নীতির মামলা বা সরকারি তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি, তবে ডিপিডিসির ভেতরে সামগ্রিকভাবে যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে—বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ঘুষ দাবি, প্রকল্পে অনিয়ম, এবং বিলিং জালিয়াতির মতো ঘটনা।
উদাহরণ হিসেবে, অতীতে ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হন । তদন্তে দেখা যায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল আদায়ের ঘটনা ব্যাপক জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। আবার অন্য এক ঘটনায় গ্রাহকদের কাছ থেকে সংযোগ বা লোড বৃদ্ধির জন্য ঘুষ দাবি করার অভিযোগও উঠে আসে ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি বৃহত্তর কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিদের প্রভাব, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং দুর্বল তদারকির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ব্যক্তি নয়—পুরো ব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ডিপিডিসির ভেতরে “সিন্ডিকেট” সংস্কৃতির অভিযোগও নতুন নয়। কিছু কর্মকর্তা দাবি করেন, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং প্রকল্প বণ্টনে প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। এতে করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং সম্পর্ক ও প্রভাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বদরুল আলমের নাম সামনে আসার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার ফলে একটি প্রশাসনিক নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন। তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, এবং স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
ডিপিডিসির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তা সরাসরি গ্রাহকসেবায় প্রভাব ফেলে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই ধরনের সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগ শুধু ডিপিডিসিতে সীমাবদ্ধ নয়—বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন স্তরে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উদাহরণ হিসেবে, সংস্থাটির এক নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন । আবার অন্য এক ঘটনায় প্রকৌশলীরা নিজেরাই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—ডিপিডিসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগের পরও কার্যকর পরিবর্তন আসেনি? সংশ্লিষ্টদের মতে, এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার ঘাটতি।
ডিপিডিসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ মনে করেন, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তাদের বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
একইসঙ্গে তারা দাবি করছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়েছেন বা রাজনৈতিক কারণে পিছিয়ে পড়েছেন—তাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বাড়বে।
বর্তমান বাস্তবতায় ডিপিডিসি এক ধরনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে অতীতের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা, অন্যদিকে সংস্কারের প্রত্যাশা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বদরুল আলমসহ যেসব কর্মকর্তাকে ঘিরে আলোচনা চলছে—তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে সেই সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বচ্ছ, প্রমাণনির্ভর এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। অন্যথায়, ডিপিডিসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আবারও আস্থাহীনতার সংকটে পড়তে পারে।
সবশেষে, ডিপিডিসির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি প্রশ্নের ওপর—প্রতিষ্ঠানটি কি সত্যিই সংস্কারের পথে হাঁটবে, নাকি পুরনো প্রভাববলয়ের নতুন রূপই এখানে টিকে থাকবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

ডিপিডিসিতে আওয়ামী দোসর প্রকৌশলী বদরুল আলম ও পুরনো নেটওয়ার্কের ছায়া

আপডেট সময় ০১:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্যে যে পরিবর্তন আসার কথা ছিল, বাস্তবে তার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে Dhaka Power Distribution Company Limited (ডিপিডিসি)-তে। অভিযোগ উঠছে, অতীতের প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী নতুন বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সংস্থাটির কিছু জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী—যাদের মধ্যে আবুল ফজল মো. বদরুল আলম অন্যতম।
ডিপিডিসির অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, বদরুল আলম দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে ছিলেন। সরকারি তালিকাতেও তাকে ডিপিডিসির একজন প্রধান প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায় । একটি বড় প্রকল্পে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা এবং একইসঙ্গে প্রশাসনিক প্রভাব ধরে রাখার বিষয়টি নিয়ে ভেতরে ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, “একই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় একটি প্রকল্পে থাকলে সেখানে জবাবদিহিতা কমে যায়, এবং একটি নির্দিষ্ট বলয় তৈরি হয়।” তাদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রভাববলয় স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
যদিও বদরুল আলমের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণিত দুর্নীতির মামলা বা সরকারি তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি, তবে ডিপিডিসির ভেতরে সামগ্রিকভাবে যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে—বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ঘুষ দাবি, প্রকল্পে অনিয়ম, এবং বিলিং জালিয়াতির মতো ঘটনা।
উদাহরণ হিসেবে, অতীতে ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হন । তদন্তে দেখা যায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল আদায়ের ঘটনা ব্যাপক জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। আবার অন্য এক ঘটনায় গ্রাহকদের কাছ থেকে সংযোগ বা লোড বৃদ্ধির জন্য ঘুষ দাবি করার অভিযোগও উঠে আসে ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি বৃহত্তর কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিদের প্রভাব, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং দুর্বল তদারকির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ব্যক্তি নয়—পুরো ব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ডিপিডিসির ভেতরে “সিন্ডিকেট” সংস্কৃতির অভিযোগও নতুন নয়। কিছু কর্মকর্তা দাবি করেন, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং প্রকল্প বণ্টনে প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। এতে করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং সম্পর্ক ও প্রভাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বদরুল আলমের নাম সামনে আসার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার ফলে একটি প্রশাসনিক নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন। তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, এবং স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
ডিপিডিসির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তা সরাসরি গ্রাহকসেবায় প্রভাব ফেলে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই ধরনের সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগ শুধু ডিপিডিসিতে সীমাবদ্ধ নয়—বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন স্তরে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উদাহরণ হিসেবে, সংস্থাটির এক নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন । আবার অন্য এক ঘটনায় প্রকৌশলীরা নিজেরাই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—ডিপিডিসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগের পরও কার্যকর পরিবর্তন আসেনি? সংশ্লিষ্টদের মতে, এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার ঘাটতি।
ডিপিডিসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ মনে করেন, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তাদের বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
একইসঙ্গে তারা দাবি করছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়েছেন বা রাজনৈতিক কারণে পিছিয়ে পড়েছেন—তাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বাড়বে।
বর্তমান বাস্তবতায় ডিপিডিসি এক ধরনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে অতীতের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা, অন্যদিকে সংস্কারের প্রত্যাশা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বদরুল আলমসহ যেসব কর্মকর্তাকে ঘিরে আলোচনা চলছে—তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে সেই সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বচ্ছ, প্রমাণনির্ভর এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। অন্যথায়, ডিপিডিসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আবারও আস্থাহীনতার সংকটে পড়তে পারে।
সবশেষে, ডিপিডিসির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি প্রশ্নের ওপর—প্রতিষ্ঠানটি কি সত্যিই সংস্কারের পথে হাঁটবে, নাকি পুরনো প্রভাববলয়ের নতুন রূপই এখানে টিকে থাকবে।