জামসেদ ওয়াজেদ ঋদ্ধ কবি ও কবিতা প্রেমিক। যেখানে কবিতা; সেখানেই তার সরব উপস্থিতি। এভাবে বলা যায়—কবিতা যে আঁতুড়ঘরে হামাগুড়ি দেয়; সেখানেই তিনি ছুটে যান। মেঘনার মতোই বিশাল বুকে ধারণ করেন ইলিশ। ঝকঝকে চকচকে বর্ণমালার ঝুড়ি ভরে তুলে আনেন সময়ের পঙ্ক্তিমালা। বনেদি উচ্চারণ, প্রকাশের নান্দনিকতা, ব্যাকরণ সিদ্ধ ধরায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংমিশ্রণে শতবছরের পরম্পরায় কবিতার শরীর বিনির্মাণ করেন। যা পাঠকমহলে সমাদৃত।
‘সাহসের কথা শুনে দু’হাতে আঁধার ভেঙে সূর্যমাখা এনেছি সকাল/ পাখিডাকা এই ভোর তোমার অপেক্ষা করে ঘুমিয়েছে প্রিয় তিতুমীর/ তারাদের বাড়িঘর বিশ্রাম পালঙ্ক জুড়ে শুয়ে আছে মেঘের শরীর/ সহস্র আলোকবর্ষ অযুতাংশ সময়ের বয়ে চলা এ পৃথিবী সময়ের পাল’। (সৌভাগ্যের ট্রেন)
এই ভাবেই সাহসের আবির মননে গেঁথে ছুটে যান প্রকৃতির আহ্বানে, জুঁই-চামেলির কানে কানে বলেন, ‘আমার বসন্ত জুড়ে তোমাকেই ফেরি করি সোনালুর বনে/ বেগুনি জারুল ফুলে জলরঙ স্বপ্ন এঁকে স্মৃতি মেখে রাখি/ প্রত্যাশার মানচিত্রে অদৃশ্য আগামী মেপে হাঁটছি একাকী/ তুমি রোজ উঠে আসো আমার মানসব্যাপী জীবন যাপনে।’
কবি জামসেদ ওয়াজেদ নিঃসন্দেহে একজন দেশপ্রেমিক ও মানবপ্রেমী। কবিতার চিরায়ত আলো-আঁধারি খেলা বিদ্যমান রেখেই সব নষ্টকে সচেতনভাবে পাশ কাটিয়ে নির্মাণ করেন চৈতন্যের দিগন্ত। যেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহস্র ফুল। এখানে সাহিত্যের অন্যান্য পথ সংযুক্ত হলেও কবি জামসেদ ওয়াজেদের কাছে কবিতাই মুখ্য।
অথবা তিনি কাদামাটি দিয়ে গড়েন সোনাফলা আগামী। আঁকেন প্রত্যাশিত বাংলাদেশর প্রতিচ্ছবি। দৃঢ়চিত্তে আঁকেন মায়ের উপমায় সমৃদ্ধ মাতৃভূমির শাশ্বত সৌন্দর্য। ‘একটি বুলেট শুধু মৃদু শব্দে খুলে ফেলে যে নাকের ফুল/ তুমি তো সঠিক মাগো বাদ বাকি পৃথিবীর সব স্মৃতি ভুল’। (জননী আমার, নির্বাচিত সনেট)
কবি তার বুকে ধারণ করেন অসীম আকাশ। ভালোবাসার চাদর দিয়ে আগলে রাখেন নদীমাতৃক ব-দ্বীপ। এখানে সোনালি ফসল ফলে, রুপালি মাছ দিগন্তে ছোটে, পাখিরা গায় মুক্তির গান। এখানে সুন্দরবনে কেওড়া ফুল ফোটে, নগরে ফোটে কৃষ্ণচূড়া। প্রত্যাশার জাহাজে চড়ে ছুটে আসে প্রেম, সুশাসন। নোঙর ফেলে অধিকার, গণতন্ত্রের বন্দরে আপন মহিমায়।
বাংলা সাহিত্যে শ্রমিক দিবসের গুরুত্ব
কবি তার অনুসন্ধানী চোখে সম্ভাবনার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে পেরেছেন। স্বাধীনতার ইতিহাস বুকে ধারণ করেছেন বলেই ভুলে যাননি রক্তাক্ত সময়, ভুলে যাননি তাঁদের, যাদের বিসর্জনে পেয়েছি আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ‘পিতার পায়ের ছাপ দেখে দেখে কত বীর দিয়ে গেছে প্রাণ/ দেখবে দেখবে বলে কেবলই একটি ফুল সাজানো বাগান’। (পিঁপড়া কাহিনি)
কবি জামসেদ ওয়াজেদ তার লেখনীর নিজস্বতা তৈরি করতে পেরেছেন। অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল যথাযথ রপ্ত করেছেন। তার কবিতা মেদহীন, বক্তব্য প্রধান ও উপমার বাহুল্য নেই। বিশ্বায়নের পথে এগিয়ে যাবার অভিপ্রায় যেমন আছে; তেমনই সার্বজনীন রূপে ঋদ্ধ পঙ্ক্তি উচ্চারণে সময়কে উতরে যাবার প্রচেষ্টা আছে।
‘দাগ রেখে যাবো বলে সময়কে করছি ধারণ/ সাহিত্যের রসনায় উদ্ভাসিত এই সমতট/ উদার হৃদয় থেকে প্রেম দেবো নয়তো কপট/ কবিরা মানে না জেনো এ মন্দের ইঙ্গিত বারণ।’ (শব্দের রাজত্ব) সময়ের বরপুত্র কবি জামসেদ ওয়াজেদ। দিগন্ত পেরিয়ে ছোবেন মহাকাল। এ প্রত্যাশায় শুভ কামনা।
সাহিত্য ডেস্ক 

























