ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

চার নবজাতকের আগমনে নতুন সংকট, দুধের খরচেই হিমশিম দরিদ্র পরিবার

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারের ঘরে একসাথে চার নবজাতকের জন্ম আনন্দের পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করেছে।
উপজেলার কামরাঙ্গার চর এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন গোলদার পেড়িখালি বাজার জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কাজ করেন। তার মাসিক আয় মাত্র ৭ হাজার টাকা। এই সীমিত আয়ে আগে থেকেই ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। নতুন করে চার সন্তানের জন্মে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে এখন ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ তার স্ত্রী মনিরা বেগম একসাথে চারটি সন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে একজনের বয়স ১৫ বছর এবং অন্যজনের বয়স ৮ বছর।
বর্তমানে মা ও চার নবজাতক শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়। পরিবারটির দাবি, নবজাতকদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ টাকার দুধ প্রয়োজন, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে।
আলাউদ্দিন গোলদার বলেন, “একদিকে সন্তান জন্মের আনন্দ, অন্যদিকে সংসারের চিন্তা দুইয়ের মধ্যে পড়ে গেছি। প্রতিদিন দুধ কিনতেই ১৫০০ টাকা লাগে, যা আমার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একবার ১০০০ টাকা সহায়তা পেয়েছি। কিন্তু এটি খুবই অপ্রতুল। সন্তানদের ঠিকভাবে বড় করতে হলে সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক কষ্টে ছিল। নতুন চার সন্তানের আগমনে সেই কষ্ট আরও বেড়েছে। এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহায়তা না পাওয়ায় পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সচেতন মানুষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে নবজাতকদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

চার নবজাতকের আগমনে নতুন সংকট, দুধের খরচেই হিমশিম দরিদ্র পরিবার

আপডেট সময় ০৭:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারের ঘরে একসাথে চার নবজাতকের জন্ম আনন্দের পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করেছে।
উপজেলার কামরাঙ্গার চর এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন গোলদার পেড়িখালি বাজার জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কাজ করেন। তার মাসিক আয় মাত্র ৭ হাজার টাকা। এই সীমিত আয়ে আগে থেকেই ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। নতুন করে চার সন্তানের জন্মে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে এখন ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ তার স্ত্রী মনিরা বেগম একসাথে চারটি সন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে একজনের বয়স ১৫ বছর এবং অন্যজনের বয়স ৮ বছর।
বর্তমানে মা ও চার নবজাতক শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়। পরিবারটির দাবি, নবজাতকদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ টাকার দুধ প্রয়োজন, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে।
আলাউদ্দিন গোলদার বলেন, “একদিকে সন্তান জন্মের আনন্দ, অন্যদিকে সংসারের চিন্তা দুইয়ের মধ্যে পড়ে গেছি। প্রতিদিন দুধ কিনতেই ১৫০০ টাকা লাগে, যা আমার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একবার ১০০০ টাকা সহায়তা পেয়েছি। কিন্তু এটি খুবই অপ্রতুল। সন্তানদের ঠিকভাবে বড় করতে হলে সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক কষ্টে ছিল। নতুন চার সন্তানের আগমনে সেই কষ্ট আরও বেড়েছে। এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহায়তা না পাওয়ায় পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সচেতন মানুষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে নবজাতকদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়।