সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির আওতায় রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম শুরু হলেও শ্রমিক নিয়োগে ব্যতিক্রমী ও স্বচ্ছ উদ্যোগ দেখা গেছে রংপুর সদর উপজেলার ১ নং মমিনপুর ইউনিয়নে। ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৬ নং ওয়ার্ডে বাস্তবায়নাধীন খাল খনন প্রকল্পে প্রায় ৩০০ কর্মজীবী মানুষ আবেদন করলেও কাজের সুযোগ রয়েছে মাত্র ৫০ জনের। এ অবস্থায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়াতে ইউনিয়ন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে শ্রমিক নির্বাচন সম্পন্ন করেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ২টায় মমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ৫০ জন শ্রমিক নির্বাচন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে প্রায় ৬ একর ৪২ শতাংশ জমির ওপর খাল খনন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা।
লটারির কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মমিনপুর ইউনিয়নের প্রশাসক এস এম ফরহাদ হোসেন, রংপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মতিউর রহমান প্রামাণিক, মমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরিফুল ইসলাম রাজন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান মিলনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মমিনপুর ইউনিয়নের প্রশাসক এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকার এ ইউনিয়নে প্রায় অর্ধকোটি টাকার খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কাজে অনেক কর্মজীবী মানুষ আবেদন করেছিলেন। আমরা নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ৫০ জনকে নির্বাচন করেছি। এতে কারও প্রতি পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকছে না।
রংপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো:আমজাদ হোসেন বলেন, সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমাদের ইউনিয়নেও কাজ শুরু হচ্ছে। যেহেতু আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি, তাই দলীয় ও ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্তে শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে লটারির মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই সরকারি প্রকল্পের সুফল প্রকৃত কর্মজীবী মানুষের কাছে পৌঁছাক।
উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে শ্রমিক নির্বাচন করায় আবেদনকারী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনআস্থা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে শ্রমিক নিয়োগে অনিয়ম-অভিযোগ কমাতে সহায়ক হবে।
শফিউল মন্ডল ,রংপুর প্রতিনিধি 



















