সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

চুনারুঘাটে কালবৈশাখীর তাণ্ডব,লন্ডভন্ড শাহ আব্দাল একাডেমি,ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম।

চুনারুঘাট উপজেলার ৫নং শানখলা ইউনিয়নের মহিমাউড়া গ্রামে অবস্থিত ‘শাহ আব্দাল (রহঃ) ইসলামী একাডেমি এন্ড হাই স্কুল। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অবহেলিত এই জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু গত ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকালের এক আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে বহু দরিদ্র শিক্ষার্থীর স্বপ্নের এই বিদ্যাপীঠ। ​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, তীব্র গতির ঘূর্ণিঝড় মুহূর্তের মধ্যেই স্কুলের টিনের ছাউনি ও কাঠামো উড়িয়ে নিয়ে যায়। ঝড়ের তাণ্ডবে স্কুলের ভবনটি বর্তমানে কঙ্কালসার অবস্থায় পড়ে আছে। কেবল অবকাঠামোই নয়,ধ্বংস হয়েছে,​লাইব্রেরির মূল্যবান বই ও নথিপত্র। ​শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্র।
​বৈদ্যুতিক পাখা ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ। ​প্রাথমিক হিসেবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
​কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রধান শিক্ষক
​স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ফজলুল হক সুমন নিজেও একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। বিধ্বস্ত স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন,এই স্কুলটা আমার জীবনের স্বপ্ন। এলাকার গরীব অসহায় বাচ্চাদের মানুষের মতো মানুষ করার জন্য নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে এটি গড়েছিলাম। আজ এক ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি বাচ্চাদের কোথায় বসাব? ​সাফল্যের ইতিহাস ও বর্তমান সংকট ​অলাভজনক ও দাতব্য এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় মানসম্মত শিক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা ইতিপূর্বে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (A+) সহ সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তি লাভের গৌরব অর্জন করেছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু থাকা এই স্কুলে বর্তমানে ৯ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। কিন্তু স্কুলঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় বর্তমানে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ​স্কুলটি পুনর্নির্মাণ করা না গেলে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে শত শত শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি বিত্তবান ব্যক্তি ও সমাজের দানশীল মানুষদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
​একটি ঝড় কেবল একটি টিনের ঘরই ভেঙে দেয়নি, ভেঙে দিয়েছে এই জনপদের পিছিয়ে পড়া শত শত পরিবারের আগামীর স্বপ্ন। এই স্বপ্নগুলো আবার সচল করতে এখন প্রয়োজন সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

চুনারুঘাটে কালবৈশাখীর তাণ্ডব,লন্ডভন্ড শাহ আব্দাল একাডেমি,ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম।

আপডেট সময় ০৩:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

চুনারুঘাট উপজেলার ৫নং শানখলা ইউনিয়নের মহিমাউড়া গ্রামে অবস্থিত ‘শাহ আব্দাল (রহঃ) ইসলামী একাডেমি এন্ড হাই স্কুল। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অবহেলিত এই জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু গত ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকালের এক আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে বহু দরিদ্র শিক্ষার্থীর স্বপ্নের এই বিদ্যাপীঠ। ​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, তীব্র গতির ঘূর্ণিঝড় মুহূর্তের মধ্যেই স্কুলের টিনের ছাউনি ও কাঠামো উড়িয়ে নিয়ে যায়। ঝড়ের তাণ্ডবে স্কুলের ভবনটি বর্তমানে কঙ্কালসার অবস্থায় পড়ে আছে। কেবল অবকাঠামোই নয়,ধ্বংস হয়েছে,​লাইব্রেরির মূল্যবান বই ও নথিপত্র। ​শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্র।
​বৈদ্যুতিক পাখা ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ। ​প্রাথমিক হিসেবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
​কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রধান শিক্ষক
​স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ফজলুল হক সুমন নিজেও একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। বিধ্বস্ত স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন,এই স্কুলটা আমার জীবনের স্বপ্ন। এলাকার গরীব অসহায় বাচ্চাদের মানুষের মতো মানুষ করার জন্য নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে এটি গড়েছিলাম। আজ এক ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি বাচ্চাদের কোথায় বসাব? ​সাফল্যের ইতিহাস ও বর্তমান সংকট ​অলাভজনক ও দাতব্য এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় মানসম্মত শিক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা ইতিপূর্বে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (A+) সহ সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তি লাভের গৌরব অর্জন করেছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু থাকা এই স্কুলে বর্তমানে ৯ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। কিন্তু স্কুলঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় বর্তমানে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ​স্কুলটি পুনর্নির্মাণ করা না গেলে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে শত শত শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি বিত্তবান ব্যক্তি ও সমাজের দানশীল মানুষদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
​একটি ঝড় কেবল একটি টিনের ঘরই ভেঙে দেয়নি, ভেঙে দিয়েছে এই জনপদের পিছিয়ে পড়া শত শত পরিবারের আগামীর স্বপ্ন। এই স্বপ্নগুলো আবার সচল করতে এখন প্রয়োজন সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ।