রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নের ইকবালপুর (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে মায়ের বিবস্ত্র শরীর রক্ষা করতে গিয়ে তিনদিনের ছুটিতে আসা ছেলে মোঃ নুরুজ্জামান (২৪) নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিককে প্রহসনের বিচারের নামে হত্যা করা হয়েছিল গত তিন মাস পূর্বে। উল্লেখ্য চুলার ছাইকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী লিলি বেগম ও রাহিমা বেগমের মধ্যে ঝগড়া ও চুল টানাটানির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য আফতাব উদ্দিনের কানে গেলে তিনি ০৮/০২/২০২৬ ইং তারিখে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মীমাংসা করার কথা জানান। তবে গ্রামের কিছু স্থানীয় নেতা—ঈশ্বদ,রবিউল, ফকরুলসহ আরও কয়েকজন—জোরপূর্বক সালিশ বসানোর উদ্যোগ নেন, সালিশের নেতৃত্বে থাকা ইকবালপুর গ্রামের ইশ্বদ, ফকরুল, রবিউল ও সাইদুল লিলি বেগমকে সালিশে উপস্থিত হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। লিলি বেগম সালিশে পৌঁছাতে দেরি করায় রবিউল, ইশ্বদ, সাইদুল ও আলামিন তাকে শাসাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে লিলি বেগম সালিশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে রাহিমা বেগমের মেয়ে জামাই জাহাঙ্গীর আলম, রাহিমা বেগম এবং তার দুই বোন আরজিনা ও রনজি বেগম লিলি বেগমকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারপিট শুরু করেন।
এ সময় তিন দিনের ছুটিতে বাড়িতে আসা লিলি বেগমের ছেলে মোঃ নুরুজ্জামান মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও পেছন দিক থেকে লাথি মারতে থাকে। এতে নুরুজ্জামান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর অসুস্থ নুরুজ্জামানকে বাড়িতে রেখে লিলি বেগম ফিরে আসতে চাইলে সালিশদার ইশ্বদ, রবিউল, ফকরুল ও সাইদুল জোরপূর্বক তাকে সালিশে বসিয়ে লোক দেখানো একটি মীমাংসা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে নুরুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িযোগে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহত নুরুজ্জামানের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার স্বামী তিন দিনের জন্য ছুটিতে এসেছিল। আমাদের সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, আমি তাদের ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আফতাব উদ্দিন বলেন, “আমার ওয়ার্ডে ঘটনা ঘটেছে। আমি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আজ বসার কথা ছিল। কিন্তু কথিত বিচারক সেজে যারা বিচারের নামে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা কখনোই কাম্য নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে বলে আমি আশা করি।
স্থানীয় সমাজসেবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, তিনজন আসামী কে পুলিশ আটক করে জেলা হাজতে দিয়েছেন বাকিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদেরকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না খুবই দুঃখজনক।আমরা আরো শুনছি বাজারে বসে বসে গল্প করছে টাকা হলে কিনা হয় চার্জশিট থেকে সব আসামী অব্যাহতি নেবে কিছুই হবে না তাদের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে এমন কথা বলে বেড়ায় তাহলে দেশের আইন আর কোথায় থাকে আশা করি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করবে বিজ্ঞ আদালত সঠিক বিচার করবেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ইতিপূর্বে তিন জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শহীদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি 



















