সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

উপকূলের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে- পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

জলবায়ু বিপর্যয়ের কবল থেকে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২ মে) সকাল ১১টায় মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম’র সভাপতিত্বে ও ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম মোংলার সভাপতি পরিবেশকর্মী মোঃ নূর আলম শেখ’র সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক।
নাগরিক সংলাপে সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উপর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, উন্নয়নকর্মী তৃপ্তি সরদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুবহা তালহা।
নাগরিক সংলাপে অন্যান্যদের বক্তৃতা করেন, উপসচিব আলমগীর হুসাইন, মোংলা সার্কেল’র সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহীন হোসেন, মোংলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতিকুল ইসলাম, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু হানিফ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, মোংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুল হায়দার ইকবাল, কেয়ার বাংলাদেশ’র রিজিওনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর পলাশ মন্ডল, ব্রাকের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রাম হেড আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান, নারীনেত্রী রাফিয়া জাহান মিশু, ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরামের আবুল কাশেম প্রমূখ। নাগরিক সংলাপে মুক্ত আলোচনায় মোংলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেন, মোংলাসহ উপকূলের সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র মানুষদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ক্যাপ্টেন কার্ড, খাল খনন ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা প্রদান করা হয়েছে। মোংলা রামপালে আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিলো সবার জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা। অচিরেই নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে সকলের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, জেলা পরিষদের সকল পুকুর দখলমুক্ত করে সুপেয় পানির আধার করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক বলেন, পুকুর খনন এবং সংরক্ষণ করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হবে উপকূলের জন্য টেকসই পদ্ধতি।
স্বাগত বক্তব্যে মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ের ফলে উপকূলের প্রধান দুর্যোগ হলো লবণাক্ততা। সুপেয় পানির সংকটে মোংলাসহ উপকূলের মানুষের দিশেহারা। সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।
সংলাপে বক্তারা বলেন উপকূলের ৭৩% মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। আধারযোগ্য পানি সরবরাহ করতে পারে না ৩ কোটি মানুষ। দেড় কোটি মানুষ ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি পানে বাধ্য থাকে। মোংলার ৬৫% মানুষের সুপেয় পানি সংগ্রহের কোন ব্যবস্থা নেই। বাকী ৩৫% মানুষকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি ভাবে পানির ট্যাংকি বিতরণ করা হলেও তা দিয়ে ৬ মাসের পানি ধারন করা সম্ভব।
সংলাপে সুপারিশ আকারে বক্তারা বলেন,  বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যয় করতে হবে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের শতাধিক পুকুর বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষের ইজারা বাতিল করে খাবার পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করতে হবে। পুকুর খনন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে গ্রামে পাইপ লাইনের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। মোংলা বন্দরের ৩টি পুকুর পৌরসভাকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে যা দিয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব। এডিপি ও টিআর এর বরাদ্দ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। আশু সমাধান হিসেবে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপের পানির সংকট নিরসনে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য ব্যাপক ভাবে ট্যাংকি বিতরণ করতে হবে।
নাগরিক সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করলে পরিবেশের জন্য তা ক্ষতি হবে। পানির টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পানির কোয়ালিটি রক্ষা করতে হবে। জলবায়ু অভিঘাত মোকাবেলায় উপকূলের মানুষের জন্য সুপেয় পানির জন্য টেকসই প্রকল্প গ্রহন করতে হবে।
সংলাপ শেষে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন  ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম মোংলা উপজেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন পানির প্রকল্প ঘুরে দেখেন।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

উপকূলের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে- পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
জলবায়ু বিপর্যয়ের কবল থেকে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২ মে) সকাল ১১টায় মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম’র সভাপতিত্বে ও ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম মোংলার সভাপতি পরিবেশকর্মী মোঃ নূর আলম শেখ’র সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক।
নাগরিক সংলাপে সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উপর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, উন্নয়নকর্মী তৃপ্তি সরদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুবহা তালহা।
নাগরিক সংলাপে অন্যান্যদের বক্তৃতা করেন, উপসচিব আলমগীর হুসাইন, মোংলা সার্কেল’র সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহীন হোসেন, মোংলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতিকুল ইসলাম, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু হানিফ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, মোংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুল হায়দার ইকবাল, কেয়ার বাংলাদেশ’র রিজিওনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর পলাশ মন্ডল, ব্রাকের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রাম হেড আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান, নারীনেত্রী রাফিয়া জাহান মিশু, ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরামের আবুল কাশেম প্রমূখ। নাগরিক সংলাপে মুক্ত আলোচনায় মোংলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেন, মোংলাসহ উপকূলের সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র মানুষদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ক্যাপ্টেন কার্ড, খাল খনন ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা প্রদান করা হয়েছে। মোংলা রামপালে আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিলো সবার জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা। অচিরেই নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে সকলের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, জেলা পরিষদের সকল পুকুর দখলমুক্ত করে সুপেয় পানির আধার করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক বলেন, পুকুর খনন এবং সংরক্ষণ করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হবে উপকূলের জন্য টেকসই পদ্ধতি।
স্বাগত বক্তব্যে মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ের ফলে উপকূলের প্রধান দুর্যোগ হলো লবণাক্ততা। সুপেয় পানির সংকটে মোংলাসহ উপকূলের মানুষের দিশেহারা। সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।
সংলাপে বক্তারা বলেন উপকূলের ৭৩% মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। আধারযোগ্য পানি সরবরাহ করতে পারে না ৩ কোটি মানুষ। দেড় কোটি মানুষ ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি পানে বাধ্য থাকে। মোংলার ৬৫% মানুষের সুপেয় পানি সংগ্রহের কোন ব্যবস্থা নেই। বাকী ৩৫% মানুষকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি ভাবে পানির ট্যাংকি বিতরণ করা হলেও তা দিয়ে ৬ মাসের পানি ধারন করা সম্ভব।
সংলাপে সুপারিশ আকারে বক্তারা বলেন,  বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যয় করতে হবে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের শতাধিক পুকুর বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষের ইজারা বাতিল করে খাবার পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করতে হবে। পুকুর খনন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে গ্রামে পাইপ লাইনের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। মোংলা বন্দরের ৩টি পুকুর পৌরসভাকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে যা দিয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব। এডিপি ও টিআর এর বরাদ্দ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। আশু সমাধান হিসেবে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপের পানির সংকট নিরসনে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য ব্যাপক ভাবে ট্যাংকি বিতরণ করতে হবে।
নাগরিক সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করলে পরিবেশের জন্য তা ক্ষতি হবে। পানির টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পানির কোয়ালিটি রক্ষা করতে হবে। জলবায়ু অভিঘাত মোকাবেলায় উপকূলের মানুষের জন্য সুপেয় পানির জন্য টেকসই প্রকল্প গ্রহন করতে হবে।
সংলাপ শেষে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন  ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম মোংলা উপজেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন পানির প্রকল্প ঘুরে দেখেন।