ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ লেবানন খালি করার নির্দেশ জারি ইসরায়েলের তারিক সিদ্দিকীর দুই সহযোগী তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে বৈরি আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল, জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ মাসুদের পরকিয়া প্রেমের বলি হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে দশটি পরিবার । হত্যা, ধর্ষণ,সন্ত্রাস যার নিত্য দিনের কাজ। খুলনা প্রেসক্লাবে বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে কয়রায় মানববন্ধন ডাকাতির সময় ডাকাতের গুলিতে আরেক ডাকাত নিহত মাথা নত করবে না হিজবুল্লাহ, সংঘাত নিরসনে নাইম কাশেমের ৫ দাবি বগুড়ায় খেজুরের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে দুটি ইউনিট মেয়ের বিয়ের আগের দিন স্ত্রীকে মেরে ফেললেন স্বামী বড়লেখায় পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র সিটিজেন ডিপোজিট স্কিম বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গোসাইরহাট ভূমি অফিসের নায়েব কামরুজ্জামান সরকারি কোষাগারের টাকা লুট করে বরখাস্ত হয়েও ‘ম্যানেজ’ করে বহাল

ভূমি উন্নয়ন করের বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কুশদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন একাধিক দফায় প্রায় ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট ভূমি অফিসে কর্মরত থাকলেও তার দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দুর্নীতির চিত্র হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব), গাজীপুর-২ এর একটি বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কামরুজ্জামানের অর্থ আত্মসাতের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কুশদী ভূমি কার্যালয়ে ০৭-০৪-১৪ হতে ২১-০৫-১৫ এবং ২০-০২-১৮ হতে ০৯-০১-২২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দাখিলার প্রজার কপি এবং কার্বন কপিতে (৩নং রেজিস্ট্রার) ব্যাপক গরমিল করেন।

সনদ জালিয়াতি: প্রতিবেদনের ‘পরিশিষ্ট ক’ ও ‘খ’ অনুযায়ী, নরোত্তমপুর, লোহাদিয়া, বাঘুয়াসহ প্রায় দু’শতাধিক মৌজায় মোট ২৬৩টি জোত থেকে আদায়কৃত করের মধ্যে বড় একটি অংশ তিনি সরকারি দপ্তরে জমা দেননি।

হিসাবে কারচুপি: ৩নং রেজিস্ট্রারের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় প্রকৃত যোগফল কম দেখিয়ে এবং সরাসরি টাকা জমা না দিয়ে তিনি কয়েক দফায় যথাক্রমে ১,৯৭,৫৬৫ টাকা, ১৩,৩০,৭৪৩ টাকা, ১,১০২ টাকা এবং ৩,৩৬৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। সর্বমোট আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণ ভূমি কর্মকর্তা হয়েও কামরুজ্জামান বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গাজীপুরের উত্তর ছায়াবীথি এলাকার নূরজাহান টাওয়ারে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া পাশের এলাকায় তার নামে অন্তত ১০ কাঠার একটি প্লট রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

ভূমি অফিসের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, এর আগেও দুর্নীতির অভিযোগে কামরুজ্জামানকে একাধিকবার সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির সহায়তায় তিনি প্রতিবারই পুনরায় চাকরিতে বহাল হন। কুশদী ইউনিয়নের বাইরে তার আগের কর্মস্থলগুলোতেও প্রজার কপির সাথে কার্বন কপি মিলিয়ে দেখলে আরও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের কাছে জানতে তাকে কল দেওয়া হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি ।

তবে সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই ‘ষড়যন্ত্র’ নয় বরং নথিপত্রই তার দুর্নীতির সাক্ষ্য দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে গভীর অনুসন্ধান চলছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ লেবানন খালি করার নির্দেশ জারি ইসরায়েলের

গোসাইরহাট ভূমি অফিসের নায়েব কামরুজ্জামান সরকারি কোষাগারের টাকা লুট করে বরখাস্ত হয়েও ‘ম্যানেজ’ করে বহাল

আপডেট সময় ০১:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ভূমি উন্নয়ন করের বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কুশদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন একাধিক দফায় প্রায় ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট ভূমি অফিসে কর্মরত থাকলেও তার দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দুর্নীতির চিত্র হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব), গাজীপুর-২ এর একটি বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কামরুজ্জামানের অর্থ আত্মসাতের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কুশদী ভূমি কার্যালয়ে ০৭-০৪-১৪ হতে ২১-০৫-১৫ এবং ২০-০২-১৮ হতে ০৯-০১-২২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দাখিলার প্রজার কপি এবং কার্বন কপিতে (৩নং রেজিস্ট্রার) ব্যাপক গরমিল করেন।

সনদ জালিয়াতি: প্রতিবেদনের ‘পরিশিষ্ট ক’ ও ‘খ’ অনুযায়ী, নরোত্তমপুর, লোহাদিয়া, বাঘুয়াসহ প্রায় দু’শতাধিক মৌজায় মোট ২৬৩টি জোত থেকে আদায়কৃত করের মধ্যে বড় একটি অংশ তিনি সরকারি দপ্তরে জমা দেননি।

হিসাবে কারচুপি: ৩নং রেজিস্ট্রারের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় প্রকৃত যোগফল কম দেখিয়ে এবং সরাসরি টাকা জমা না দিয়ে তিনি কয়েক দফায় যথাক্রমে ১,৯৭,৫৬৫ টাকা, ১৩,৩০,৭৪৩ টাকা, ১,১০২ টাকা এবং ৩,৩৬৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। সর্বমোট আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণ ভূমি কর্মকর্তা হয়েও কামরুজ্জামান বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গাজীপুরের উত্তর ছায়াবীথি এলাকার নূরজাহান টাওয়ারে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া পাশের এলাকায় তার নামে অন্তত ১০ কাঠার একটি প্লট রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

ভূমি অফিসের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, এর আগেও দুর্নীতির অভিযোগে কামরুজ্জামানকে একাধিকবার সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির সহায়তায় তিনি প্রতিবারই পুনরায় চাকরিতে বহাল হন। কুশদী ইউনিয়নের বাইরে তার আগের কর্মস্থলগুলোতেও প্রজার কপির সাথে কার্বন কপি মিলিয়ে দেখলে আরও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের কাছে জানতে তাকে কল দেওয়া হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি ।

তবে সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই ‘ষড়যন্ত্র’ নয় বরং নথিপত্রই তার দুর্নীতির সাক্ষ্য দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে গভীর অনুসন্ধান চলছে।