বিয়ের পবিত্র সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এক ভয়ংকর ‘হানি ট্র্যাপ’ বা ব্ল্যাকমেইল সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই চক্রের মূল হোতা নদী শেখ (২৪) নামের এক তরুণী। সাধারণ যুবকদের সাথে প্রেমের অভিনয় ও সখ্য গড়ে তুলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি-ভিডিও ধারণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই এই চক্রের প্রধান কাজ। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় এক ভুক্তভোগীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগের পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রাজশাহীর মালোপাড়া এলাকার মো: শফিকুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবক নদী শেখের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শফিকুল জানান, প্রায় ৬ মাস আগে নদী শেখের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে নদী বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে নগদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা এবং ১৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি দামী স্মার্টফোন হাতিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে নদী অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও শফিকুলের পিছু ছাড়েনি। তার ব্যক্তিগত ছবিগুলো বিকৃত (এডিট) করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কয়েক দফায় আরও ১৫ হাজার টাকা আদায় করে নদী। বর্তমানে নদী তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর (**০১৩০৫২৯৯১৬১**) এবং অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (**০১৮০৬-৩৫১৭৭৬**) মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোটেল কেন্দ্রিক অপরাধ ও পারিবারিক মদদ অনুসন্ধানে জানা গেছে, নদী শেখ মূলত রাজশাহীর ‘হোটেল পদ্মা আবাসিক’ সহ বিভিন্ন হোটেলকে অপরাধের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতেন। সেখানে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নিয়ে গিয়ে কৌশলে ব্ল্যাকমেইলের প্রমাণ সংগ্রহ করতেন। ফেসবুকে **‘israt jahan’** ও **”Nodi Atik”** নামক প্রোফাইল ব্যবহার করে তিনি এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিয়ের পর নদীর স্বামী আতিক ইসলাম, আতিকের বোন নার্গিস, ভাগ্নে নাঈম এবং শ্বশুর সাইফুল ইসলাম এই অপরাধের বিষয়টি জেনেও তা প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং উল্টো ভুক্তভোগীদের হুমকি দিচ্ছেন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অন্তত ৬ জন ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া গেলেও সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেকেই মামলা করতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নদী শেখ ও তার স্বামীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে নদীর একটি ব্যবহৃত নম্বরে কল দিলে তার নানি পরিচয় দিয়ে এক নারী ফোন রিসিভ করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, তার নাতনি আগে এসব চক্রের সাথে জড়িত ছিল। তবে দাবি করেন, বিয়ের পর থেকে এমন অভিযোগ নতুন। তার নাতজামাই (আতিক) অনেক ভালো মানুষ বলেই নদীকে কিছু বলেন না। তিনি নদীর বিরুদ্ধে কোনো নিউজ না করার জন্য অনুরোধ জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “আমরা শফিকুল ইসলাম নামের একজনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ডিজিটাল মাধ্যমে ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেইল করা একটি গুরুতর অপরাধ। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই ভয়ংকর সিন্ডিকেটকে দ্রুত দমন না করলে আরও অনেক সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মোঃ জাহিদ হাসান , চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 






















