ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামগঞ্জে ভস্মিভূত দিনমজুরের বসতঘর কুঞ্জেরহাটে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ময়লা অপসারণ শুরু : ২ হাজার শিক্ষার্থীর মুখে স্বস্তির হাসি রামপালে মাছের ঘের দখল  লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এর অভিযোগ। মনোহরগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে হাম ফুলবাড়ীতে বস্তা সংকটে পড়ে যাচ্ছে আলুর দাম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায়  গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যা অভিযোগে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে বিদেশি পিস্তলসহ ২ জন গ্রেপ্তার ৩ কোটি টাকায় পরিচালক পদ বাগানোর দাবি উপসচিব আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গীতে ৭ একর কবরস্থান দখলের অভিযোগে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ কুড়িগ্রামে গোপন নিলামের অভিযোগ: ২১টির বদলে কাটা হয়েছে ২৮টি গাছ

পীরগঞ্জে কয়েলের আগুনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: বসতবাড়ি পুড়ে ছাই, নিঃস্ব পরিবার

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় মশা তাড়ানো কয়েলের আগুন থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত বুধবার (১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার ১১ নম্বর পাঁচগাছি ইউনিয়নের মোজাফফরপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে জায়দুল হোসেনের বাড়িতে কয়েলের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ মোট তিনটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, বই-পুস্তক, ধান-চালসহ বিভিন্ন শস্যাদি ভস্মীভূত হয়। এছাড়া গোয়ালঘরে থাকা দুটি গরু এবং অর্ধশতাধিক হাঁস-মুরগি পুড়ে মারা যায়।
ঘটনার সময় জায়দুল হোসেন পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। আগুনের সূত্রপাত দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ক্ষতিগ্রস্ত জায়দুল হোসেন ও তার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন থাকার মতো ঘর নেই, খাওয়ার মতো কিছু নেই।” তারা জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি সহায়তা কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে অসতর্কভাবে কয়েল ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করেই জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারি অনুদানসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগঞ্জে ভস্মিভূত দিনমজুরের বসতঘর

পীরগঞ্জে কয়েলের আগুনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: বসতবাড়ি পুড়ে ছাই, নিঃস্ব পরিবার

আপডেট সময় ০৫:২৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় মশা তাড়ানো কয়েলের আগুন থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত বুধবার (১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার ১১ নম্বর পাঁচগাছি ইউনিয়নের মোজাফফরপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে জায়দুল হোসেনের বাড়িতে কয়েলের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ মোট তিনটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, বই-পুস্তক, ধান-চালসহ বিভিন্ন শস্যাদি ভস্মীভূত হয়। এছাড়া গোয়ালঘরে থাকা দুটি গরু এবং অর্ধশতাধিক হাঁস-মুরগি পুড়ে মারা যায়।
ঘটনার সময় জায়দুল হোসেন পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। আগুনের সূত্রপাত দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ক্ষতিগ্রস্ত জায়দুল হোসেন ও তার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন থাকার মতো ঘর নেই, খাওয়ার মতো কিছু নেই।” তারা জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি সহায়তা কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে অসতর্কভাবে কয়েল ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করেই জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারি অনুদানসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।