ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর আদালত পুকুরটি ১৮৮৩ সালে আদালত নির্মাণের সময় খনন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এই পুকুরটি নবীনগরের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ।এই পুকুরের তীরে শত বছর ধরে বৈশাখের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুকুরের পশ্চিম পাশে ও পূর্ব পাশে দুইটি পাকা পুকুড় ঘাট রয়েছে। পূর্ব পাশের ঘাটলা দিয়ে মহিলারা গোসলের ব্যবস্থা রয়েছে পশ্চিম পাশের ঘাটলা দিয়ে পুরুষরা গোসল করার ব্যবস্থা রয়েছে। এই পুকুরটি পানিও দুই মাস আগেও স্বচ্ছ ছিল। এই পুকুরটি খুব গভীর হওয়ায় পুকুরের পানি সর্বদা ভালো থাকতো এই পুকুরের পাড়ে বিকাল সন্ধ্যায় বিনোদন কেন্দ্র রূপে মানুষ আড্ডা দেওয়ার সুব্যবস্থা ছিল। কিন্তু মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দেড়শ বছরের পুরনো এই পুকুরটি প্রায় মৃত। পুকুরের পানি পচা গন্ধযুক্ত পুকুরে কচুরিপানা ভরাট হয়ে গিয়েছে আশেপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটের ময়লা আবর্জনা অবাধে পুকুরে ফেলা হচ্ছে।নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে শত বছরের এই পুকুরটি বিলুপ্তপ্রায়। গ্রীষ্মকালে আদালত পাড়ার বসতবাড়ীতে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি উঠে না,তখন এই পুকুরের পানি গোসল,ধোঁয়া ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার একমাত্র উৎস।
নবীনগর পৌর শহরের প্রায় সবগুলো পুকুর সময়ের ব্যবধানে ব্যক্তি স্বার্থে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। শুধুমাত্র সরকারি বা প্রতিষ্ঠান মালিকানাধীন পুকুর গুলো এখনো টিকে আছে। এই সরকারি নবীনগর আদালত পুকুরটি নবীনগর বাসীর অক্সিজেন বললেও ভুল হবে না। এই আদালত পাড়ার আশেপাশের ২ কিলোমিটারের ভিতরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এই আদালত পুকুরের পানি শেষ রক্ষা কবজ হিসেবে কাজ করবে। আর এই পুকুরটি যদি বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে পরে নবীনগরের কোন কারনে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানির অভাবে শেষ রক্ষা করার কোন সুযোগ থাকবে না। এই পুকুরটি জনস্বার্থে যেমন ভূমিকা রাখবে তেমনি অর্থনৈতিকভাবে ও ভূমিকা রাখতে পারে। এই পুকুরটি পুনরায় সংরক্ষণের জন্য পানি নিরাপদ করার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে নবীনগর জনস্বাস্থ্য উপসহকারী খোরশেদ আলমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের সময় থেকে আমরা নিরাপদ পানির উৎস সংরক্ষনের কোন বাজেট পায়নি, তাছাড়া আদালত পুকুরটি যেহেতু আদালতের সম্পত্তি আদালত কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে পারেন তারপরে আমি যেহেতু অবগত হয়েছি খোজখবর নিয়ে কোন করার সুযোগ থাকলে আমি করবো।
এ বিষয়ে নবীনগর আদালত পুকুরপাড় এর ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া বলেন পুকুরটি আমাদের এলাকার ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ এটি প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস বয়ে চলছে এই পুকুরটি আমাদের এলাকার শিশু বাচ্চাদের সাঁতার শেখানোর জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ,এই পুকুরটি যেন খুব দ্রুত পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া হয় এই দাবি জানাচ্ছি।
মোঃখলিলুর রহমান খলিল 



















