ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ শেষ হচ্ছে অপেক্ষা, বৃহস্পতিবার প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ চিকিৎসা শিক্ষার বিকাশে আট দশক ধরে অবদান রেখে চলেছে ঢামেক : প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর জার্সি কোনোদিনই পেতেন না মেসি, কী ঘটেছিল তখন? ভূমি দখল ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত আলী আফজাল রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল সংবাদ প্রকাশের পর কালুখালীর অসহায় রাসেল মণ্ডলের পাশে উপজেলা প্রশাসন গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

দেড়শো বছরের ব্রাহ্মণবাড়ির নবীনগর আদালত পুকুর বিলুপ্তপ্রায়!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর আদালত পুকুরটি ১৮৮৩ সালে আদালত নির্মাণের সময় খনন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এই পুকুরটি নবীনগরের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ।এই পুকুরের তীরে শত বছর ধরে বৈশাখের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুকুরের পশ্চিম পাশে ও পূর্ব পাশে দুইটি পাকা পুকুড় ঘাট রয়েছে। পূর্ব পাশের ঘাটলা দিয়ে মহিলারা গোসলের ব্যবস্থা রয়েছে পশ্চিম পাশের ঘাটলা দিয়ে পুরুষরা গোসল করার ব্যবস্থা রয়েছে। এই পুকুরটি পানিও দুই মাস আগেও স্বচ্ছ ছিল। এই পুকুরটি খুব গভীর হওয়ায় পুকুরের পানি সর্বদা ভালো থাকতো এই পুকুরের পাড়ে বিকাল সন্ধ্যায় বিনোদন কেন্দ্র রূপে মানুষ আড্ডা দেওয়ার সুব্যবস্থা ছিল। কিন্তু মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দেড়শ বছরের পুরনো এই পুকুরটি প্রায় মৃত। পুকুরের পানি পচা গন্ধযুক্ত পুকুরে কচুরিপানা ভরাট হয়ে গিয়েছে আশেপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটের ময়লা আবর্জনা অবাধে পুকুরে ফেলা হচ্ছে।নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে শত বছরের এই পুকুরটি বিলুপ্তপ্রায়। গ্রীষ্মকালে আদালত পাড়ার বসতবাড়ীতে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি উঠে না,তখন এই পুকুরের পানি গোসল,ধোঁয়া ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার একমাত্র উৎস।
নবীনগর পৌর শহরের প্রায় সবগুলো পুকুর সময়ের ব্যবধানে ব্যক্তি স্বার্থে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। শুধুমাত্র সরকারি বা প্রতিষ্ঠান মালিকানাধীন পুকুর গুলো এখনো টিকে আছে। এই সরকারি নবীনগর আদালত পুকুরটি নবীনগর বাসীর অক্সিজেন বললেও ভুল হবে না। এই আদালত পাড়ার আশেপাশের ২ কিলোমিটারের ভিতরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এই আদালত পুকুরের পানি শেষ রক্ষা কবজ হিসেবে কাজ করবে। আর এই পুকুরটি যদি বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে পরে নবীনগরের কোন কারনে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানির অভাবে শেষ রক্ষা করার কোন সুযোগ থাকবে না। এই পুকুরটি জনস্বার্থে যেমন ভূমিকা রাখবে তেমনি অর্থনৈতিকভাবে ও ভূমিকা রাখতে পারে। এই পুকুরটি পুনরায় সংরক্ষণের জন্য পানি নিরাপদ করার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে নবীনগর জনস্বাস্থ্য উপসহকারী খোরশেদ আলমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের সময় থেকে আমরা নিরাপদ পানির উৎস সংরক্ষনের কোন বাজেট পায়নি, তাছাড়া আদালত পুকুরটি যেহেতু আদালতের সম্পত্তি আদালত কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে পারেন তারপরে আমি যেহেতু অবগত হয়েছি খোজখবর নিয়ে কোন করার সুযোগ থাকলে আমি করবো।

এ বিষয়ে নবীনগর আদালত পুকুরপাড় এর ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া বলেন পুকুরটি আমাদের এলাকার ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ এটি প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস বয়ে চলছে এই পুকুরটি আমাদের এলাকার শিশু বাচ্চাদের সাঁতার শেখানোর জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ,এই পুকুরটি যেন খুব দ্রুত পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া হয় এই দাবি জানাচ্ছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ

দেড়শো বছরের ব্রাহ্মণবাড়ির নবীনগর আদালত পুকুর বিলুপ্তপ্রায়!

আপডেট সময় ০৩:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর আদালত পুকুরটি ১৮৮৩ সালে আদালত নির্মাণের সময় খনন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এই পুকুরটি নবীনগরের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ।এই পুকুরের তীরে শত বছর ধরে বৈশাখের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুকুরের পশ্চিম পাশে ও পূর্ব পাশে দুইটি পাকা পুকুড় ঘাট রয়েছে। পূর্ব পাশের ঘাটলা দিয়ে মহিলারা গোসলের ব্যবস্থা রয়েছে পশ্চিম পাশের ঘাটলা দিয়ে পুরুষরা গোসল করার ব্যবস্থা রয়েছে। এই পুকুরটি পানিও দুই মাস আগেও স্বচ্ছ ছিল। এই পুকুরটি খুব গভীর হওয়ায় পুকুরের পানি সর্বদা ভালো থাকতো এই পুকুরের পাড়ে বিকাল সন্ধ্যায় বিনোদন কেন্দ্র রূপে মানুষ আড্ডা দেওয়ার সুব্যবস্থা ছিল। কিন্তু মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দেড়শ বছরের পুরনো এই পুকুরটি প্রায় মৃত। পুকুরের পানি পচা গন্ধযুক্ত পুকুরে কচুরিপানা ভরাট হয়ে গিয়েছে আশেপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটের ময়লা আবর্জনা অবাধে পুকুরে ফেলা হচ্ছে।নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে শত বছরের এই পুকুরটি বিলুপ্তপ্রায়। গ্রীষ্মকালে আদালত পাড়ার বসতবাড়ীতে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি উঠে না,তখন এই পুকুরের পানি গোসল,ধোঁয়া ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার একমাত্র উৎস।
নবীনগর পৌর শহরের প্রায় সবগুলো পুকুর সময়ের ব্যবধানে ব্যক্তি স্বার্থে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। শুধুমাত্র সরকারি বা প্রতিষ্ঠান মালিকানাধীন পুকুর গুলো এখনো টিকে আছে। এই সরকারি নবীনগর আদালত পুকুরটি নবীনগর বাসীর অক্সিজেন বললেও ভুল হবে না। এই আদালত পাড়ার আশেপাশের ২ কিলোমিটারের ভিতরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এই আদালত পুকুরের পানি শেষ রক্ষা কবজ হিসেবে কাজ করবে। আর এই পুকুরটি যদি বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে পরে নবীনগরের কোন কারনে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানির অভাবে শেষ রক্ষা করার কোন সুযোগ থাকবে না। এই পুকুরটি জনস্বার্থে যেমন ভূমিকা রাখবে তেমনি অর্থনৈতিকভাবে ও ভূমিকা রাখতে পারে। এই পুকুরটি পুনরায় সংরক্ষণের জন্য পানি নিরাপদ করার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে নবীনগর জনস্বাস্থ্য উপসহকারী খোরশেদ আলমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের সময় থেকে আমরা নিরাপদ পানির উৎস সংরক্ষনের কোন বাজেট পায়নি, তাছাড়া আদালত পুকুরটি যেহেতু আদালতের সম্পত্তি আদালত কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে পারেন তারপরে আমি যেহেতু অবগত হয়েছি খোজখবর নিয়ে কোন করার সুযোগ থাকলে আমি করবো।

এ বিষয়ে নবীনগর আদালত পুকুরপাড় এর ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া বলেন পুকুরটি আমাদের এলাকার ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ এটি প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস বয়ে চলছে এই পুকুরটি আমাদের এলাকার শিশু বাচ্চাদের সাঁতার শেখানোর জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ,এই পুকুরটি যেন খুব দ্রুত পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া হয় এই দাবি জানাচ্ছি।