ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় এমপিদের বৈঠক হাইওয়ের পাশে টিকিট কাউন্টার থাকবে না : সড়কমন্ত্রী এবার সরকারি ডিপোতে মিলল তেলের অবৈধ মজুত, অভিযানের খবরে পালালেন ম্যানেজার ৬০ কোটি টাকার বিনিময়ে এলজিইডির শীর্ষ পদে রশিদ মিয়া গোপালগঞ্জের মেডিকেল এলাকায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদের পর ফের দখল  দুর্ভোগে রোগী-স্বজনদের  নবীন ফ্যাশন বন্ধের ঘটনায় হাতিরঝিল থানার ওসির ক্ষমা প্রার্থনা রাজধানীতে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, পাশে পড়ে ছিল মদের বোতল বরিশালে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে, নারী নিহত সৌদিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিমান ধ্বংস করে দিলো ইরান বিনা অনুমতিতে হাওরের বাঁধ কাটলে আইনি ব্যবস্থা, সতর্ক করল প্রশাসন

কেমন হবে রমজান পরবর্তী জীবন?

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৫১১ বার পড়া হয়েছে

রমজান হলো মুমিনদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক কর্মশালা। নির্দিষ্ট এক মাস বাইরের দুনিয়া থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে আমরা যে আধ্যাত্মিক অনুশীলন করেছি, তার মূল উদ্দেশ্য হলো বাকি ১১ মাস যেন সেই শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগাতে পারি। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই আর পরিবর্তনশীল পরিবেশে যেন আমাদের ইমানি শক্তি অটুট থাকে, সেজন্যই আল্লাহ তায়ালা ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে রমজানকে আমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন। এর মাধ্যমে রোজাদাররা সব ধরনের প্রতিকূলতায় ধৈর্য ও আত্মসংযমের পাঠ নিতে পারেন।

রমজানের পর প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব হলো এই শপথ নেওয়া যে, ইবাদত ও নেক আমলের এই ধারা শুধু রমজানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং রমজানে অর্জিত আধ্যাত্মিক সম্পদ এবং হেদায়েতের ওপর আমরা আমৃত্যু অটল থাকব। রমজানে যদি আমরা শয়তানের প্ররোচনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সফল হই, তবে রমজান পরবর্তী জীবনে কেন তার সামনে নিজেকে সমর্পণ করব?

এখনই সময় একটু নিভৃতে বসে আত্মসমালোচনা করার। আমাদের ভাবা উচিত, এবারের রমজানে আমরা কি এর হক আদায় করতে পেরেছি? আল্লাহ তায়ালা রোজার যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তা কি আমরা অর্জন করতে পেরেছি? মৃত্যুর ফেরেশতা দরজায় কড়া নাড়ার আগেই আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত।

আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে, রোজা রাখার পর আমরা তাকওয়ার কতটুকু কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছি। পবিত্র কোরআনের সূরা আশ-শামসে ইরশাদ হয়েছে, সেই সফলকাম যে নিজের নফসকে পাপাচার থেকে পবিত্র রেখেছে। আত্মশুদ্ধির প্রথম সোপান হলো সবর ও শোকর। এই এক মাসে আমরা কতটা ধৈর্য ধরতে পেরেছি এবং কতটা আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পেরেছি, সেই হিসাব মেলানো জরুরি।

রমজান শেষে বাকি ১১ মাস শুরুর মুহূর্তে নিজেদের সাথে অঙ্গীকার করা উচিত যে, রমজান পরবর্তী বাকি জীবনও যেন আমরা শরীয়তের বিধান মেনে অতিবাহিত করতে পারি। আমাদের আচার-আচরণ ও চরিত্রেও যেন ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়। রমজানের শেষে কায়মনোবাক্যে দোয়া করা উচিত, আল্লাহ তায়ালা যেন মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় দান করেন। আমিন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় এমপিদের বৈঠক

কেমন হবে রমজান পরবর্তী জীবন?

আপডেট সময় ০১:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

রমজান হলো মুমিনদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক কর্মশালা। নির্দিষ্ট এক মাস বাইরের দুনিয়া থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে আমরা যে আধ্যাত্মিক অনুশীলন করেছি, তার মূল উদ্দেশ্য হলো বাকি ১১ মাস যেন সেই শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগাতে পারি। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই আর পরিবর্তনশীল পরিবেশে যেন আমাদের ইমানি শক্তি অটুট থাকে, সেজন্যই আল্লাহ তায়ালা ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে রমজানকে আমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন। এর মাধ্যমে রোজাদাররা সব ধরনের প্রতিকূলতায় ধৈর্য ও আত্মসংযমের পাঠ নিতে পারেন।

রমজানের পর প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব হলো এই শপথ নেওয়া যে, ইবাদত ও নেক আমলের এই ধারা শুধু রমজানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং রমজানে অর্জিত আধ্যাত্মিক সম্পদ এবং হেদায়েতের ওপর আমরা আমৃত্যু অটল থাকব। রমজানে যদি আমরা শয়তানের প্ররোচনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সফল হই, তবে রমজান পরবর্তী জীবনে কেন তার সামনে নিজেকে সমর্পণ করব?

এখনই সময় একটু নিভৃতে বসে আত্মসমালোচনা করার। আমাদের ভাবা উচিত, এবারের রমজানে আমরা কি এর হক আদায় করতে পেরেছি? আল্লাহ তায়ালা রোজার যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তা কি আমরা অর্জন করতে পেরেছি? মৃত্যুর ফেরেশতা দরজায় কড়া নাড়ার আগেই আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত।

আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে, রোজা রাখার পর আমরা তাকওয়ার কতটুকু কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছি। পবিত্র কোরআনের সূরা আশ-শামসে ইরশাদ হয়েছে, সেই সফলকাম যে নিজের নফসকে পাপাচার থেকে পবিত্র রেখেছে। আত্মশুদ্ধির প্রথম সোপান হলো সবর ও শোকর। এই এক মাসে আমরা কতটা ধৈর্য ধরতে পেরেছি এবং কতটা আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পেরেছি, সেই হিসাব মেলানো জরুরি।

রমজান শেষে বাকি ১১ মাস শুরুর মুহূর্তে নিজেদের সাথে অঙ্গীকার করা উচিত যে, রমজান পরবর্তী বাকি জীবনও যেন আমরা শরীয়তের বিধান মেনে অতিবাহিত করতে পারি। আমাদের আচার-আচরণ ও চরিত্রেও যেন ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়। রমজানের শেষে কায়মনোবাক্যে দোয়া করা উচিত, আল্লাহ তায়ালা যেন মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় দান করেন। আমিন।