ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামী ১৪ মাসেও গ্রেফতার হয়নী শওকত আলী

জাহাজ ভাঙা ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি হত্যা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি। মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমানকে হত্যায় ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর বাড্ডা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং-০৫ (ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়। ৫৪ নম্বর আসামি করা হয় শওকত আলী চৌধুরীকে। মামলা দায়েরের ১৪ মাস ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার হননি তিনি। এতে ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে বাড্ডা লিংক রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ হুকুম ও অংশগ্রহণে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

মামলায় ৫৪ নম্বর আসামি করা হয় শওকত আলী চৌধুরীকে (৫৬), পিতা: মৃত আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। মামলার নথিতে তাকে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেকে গ্রেফতার হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো গ্রেফতার হননি শওকত আলী।

জামিনে নেই, তদন্তে প্রভাব?
আদালত ও থানা সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলার (৩০২ ধারা) আসামি হওয়া সত্ত্বেও শওকত আলী চৌধুরী এখন পর্যন্ত জামিনও নেননি। অথচ তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, চার্জশিট থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিপুল অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছেন তিনি। জাহাজ ভাঙা ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকা এই ব্যবসায়ী কীভাবে হত্যা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে চলছেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ আইনজীবীরাই।

মামলার বাদী শাকিল (৪৬) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন একটা হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পরও শওকত আলী চৌধুরী গ্রেপ্তার না হওয়া দুঃখজনক। এই আসামি রীতিমতো ব্যবসা পরিচালনা করছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ বলা হচ্ছে, তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। মূলত রহস্যজনক কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে চরম হতাশায় ভুগছে ভিকটিমের স্বজনরা।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামী ১৪ মাসেও গ্রেফতার হয়নী শওকত আলী

আপডেট সময় ০৯:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাহাজ ভাঙা ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি হত্যা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি। মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমানকে হত্যায় ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর বাড্ডা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং-০৫ (ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়। ৫৪ নম্বর আসামি করা হয় শওকত আলী চৌধুরীকে। মামলা দায়েরের ১৪ মাস ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার হননি তিনি। এতে ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে বাড্ডা লিংক রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ হুকুম ও অংশগ্রহণে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

মামলায় ৫৪ নম্বর আসামি করা হয় শওকত আলী চৌধুরীকে (৫৬), পিতা: মৃত আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। মামলার নথিতে তাকে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেকে গ্রেফতার হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো গ্রেফতার হননি শওকত আলী।

জামিনে নেই, তদন্তে প্রভাব?
আদালত ও থানা সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলার (৩০২ ধারা) আসামি হওয়া সত্ত্বেও শওকত আলী চৌধুরী এখন পর্যন্ত জামিনও নেননি। অথচ তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, চার্জশিট থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিপুল অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছেন তিনি। জাহাজ ভাঙা ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকা এই ব্যবসায়ী কীভাবে হত্যা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে চলছেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ আইনজীবীরাই।

মামলার বাদী শাকিল (৪৬) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন একটা হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পরও শওকত আলী চৌধুরী গ্রেপ্তার না হওয়া দুঃখজনক। এই আসামি রীতিমতো ব্যবসা পরিচালনা করছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ বলা হচ্ছে, তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। মূলত রহস্যজনক কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে চরম হতাশায় ভুগছে ভিকটিমের স্বজনরা।’