ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস, চার বছরে ঘাটতি হাজার কোটি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যন্ত্র বিকলের নামে ৪৭ লাখ টাকা লোপাট! আওয়ামী আমলের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে, উঠছে নানা প্রশ্ন সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষ অবদান রাখায় নিসচা বিশেষ সম্মাননা পেলেন লায়ন গনি মিয়া বাবুল রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করল ১১-দল মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কচুয়ায় দেড় কিলোমিটার সড়ক বেহাল: ঝুঁকিতে ২৫০ শিক্ষার্থী, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল বিএনপি সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী গোপালগঞ্জে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা 

জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামী ১৪ মাসেও গ্রেফতার হয়নী শওকত আলী

জাহাজ ভাঙা ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি হত্যা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি। মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমানকে হত্যায় ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর বাড্ডা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং-০৫ (ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়। ৫৪ নম্বর আসামি করা হয় শওকত আলী চৌধুরীকে। মামলা দায়েরের ১৪ মাস ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার হননি তিনি। এতে ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে বাড্ডা লিংক রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ হুকুম ও অংশগ্রহণে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

মামলায় ৫৪ নম্বর আসামি করা হয় শওকত আলী চৌধুরীকে (৫৬), পিতা: মৃত আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। মামলার নথিতে তাকে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেকে গ্রেফতার হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো গ্রেফতার হননি শওকত আলী।

জামিনে নেই, তদন্তে প্রভাব?
আদালত ও থানা সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলার (৩০২ ধারা) আসামি হওয়া সত্ত্বেও শওকত আলী চৌধুরী এখন পর্যন্ত জামিনও নেননি। অথচ তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, চার্জশিট থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিপুল অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছেন তিনি। জাহাজ ভাঙা ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকা এই ব্যবসায়ী কীভাবে হত্যা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে চলছেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ আইনজীবীরাই।

মামলার বাদী শাকিল (৪৬) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন একটা হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পরও শওকত আলী চৌধুরী গ্রেপ্তার না হওয়া দুঃখজনক। এই আসামি রীতিমতো ব্যবসা পরিচালনা করছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ বলা হচ্ছে, তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। মূলত রহস্যজনক কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে চরম হতাশায় ভুগছে ভিকটিমের স্বজনরা।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস, চার বছরে ঘাটতি হাজার কোটি

জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামী ১৪ মাসেও গ্রেফতার হয়নী শওকত আলী

আপডেট সময় ০৯:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাহাজ ভাঙা ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি হত্যা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি। মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমানকে হত্যায় ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর বাড্ডা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং-০৫ (ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়। ৫৪ নম্বর আসামি করা হয় শওকত আলী চৌধুরীকে। মামলা দায়েরের ১৪ মাস ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার হননি তিনি। এতে ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে বাড্ডা লিংক রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ হুকুম ও অংশগ্রহণে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

মামলায় ৫৪ নম্বর আসামি করা হয় শওকত আলী চৌধুরীকে (৫৬), পিতা: মৃত আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। মামলার নথিতে তাকে ‘আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেকে গ্রেফতার হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো গ্রেফতার হননি শওকত আলী।

জামিনে নেই, তদন্তে প্রভাব?
আদালত ও থানা সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলার (৩০২ ধারা) আসামি হওয়া সত্ত্বেও শওকত আলী চৌধুরী এখন পর্যন্ত জামিনও নেননি। অথচ তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, চার্জশিট থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিপুল অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছেন তিনি। জাহাজ ভাঙা ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকা এই ব্যবসায়ী কীভাবে হত্যা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে চলছেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ আইনজীবীরাই।

মামলার বাদী শাকিল (৪৬) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন একটা হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পরও শওকত আলী চৌধুরী গ্রেপ্তার না হওয়া দুঃখজনক। এই আসামি রীতিমতো ব্যবসা পরিচালনা করছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ বলা হচ্ছে, তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। মূলত রহস্যজনক কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে চরম হতাশায় ভুগছে ভিকটিমের স্বজনরা।’