সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ইউক্রেনকে আল্টিমেটাম দিলো স্লোভাকিয়া

ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে স্লোভাকিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো গতকাল সোমবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। কিয়েভ দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধ রাখায় পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ব্রাতিসলাভা এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন রবার্ট ফিকো। যদি শিগগিরই পাইপলাইন সচল না হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ তিনি।

রুশ শব্দ দ্রুজবা-এর অর্থ মৈত্রী বা বন্ধুত্ব। ১৯৬৪ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলে রাশিয়া থেকে ইউক্রেন, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও জার্মানিতে সরাসরি তেল সরবরাহের জন্য এ পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছিল।

গত ২৭ জানুয়ারি রাশিয়াকে চাপে ফেলতে এই পাইপলাইন বন্ধ করে দেয় ইউক্রেন। এখনও ইউক্রেন অংশ এটি বন্ধ আছে। পাইপলাইন বন্ধ থাকায় হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রে পৌঁছাতে পারছে না রুশ তেল। কিয়েভের দাবি—দ্রুজবা পাইপলাইনের ইউক্রেন অংশে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এত পাইপলাইনটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং মেরামত না করা হলে— এই পাইপলাইন দিয়ে তেলের চলাচল সম্ভব নয়; তবে দ্রুজবা পাইপলাইনে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো।

হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া উভয়েই পাইপলাইন বন্ধের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধ করে ইউক্রেন স্লোভাকিয়ার সঙ্গে ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ করার চেষ্টা করছে— অভিযোগ তুলে সোমবারের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ফিকো বলেন, “পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি বা মূলনীতি। (দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধের মাধ্যমে) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যে নিষ্ঠুর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় আমরা ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমরা মনে করি এই পদক্ষেপ পুরোপুরি যথাযথ এবং যৌক্তিক।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে রুশ বাহিনী। অভিযানের শুরু থেকেই হিসেবে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা সংক্রান্ত স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে রুশ সেনারা। যুদ্ধের শুরুর দিকে রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মেরামত করত কিয়েভ; কিন্তু দেখা গেছে মেরামত হওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও হামলা করে অকেজো করে দিচ্ছে রাশিয়া।

এ অবস্থায় বিদ্যুতের জন্য দেশের ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমশ বাড়ছে ইউক্রেনের। গত প্রায় ২ বছর ধরে স্লোভাকিয়ার কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনছে ইউক্রেন। ভাষণে রবার্ট ফিকো বলেছেন, ২০২৫ সালে ইউক্রেন স্লোভাকিয়া থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ কিনেছে, তার প্রায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ কিনেছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে।

দ্রুজবা পাইপলাইন অকার্যকর হওয়ার জন্য কিয়েভকে সরাসরি দায়ী করেছে হাঙ্গেরিও। গত ২১ ফেব্রুয়ারি হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার শ্চিজার্তো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইস্যু করা ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের ঋণ আটকে দিয়েছে হাঙ্গেরি। ইউক্রেন যত দ্রুত দ্রুজবা পাইপলাইন মেরামত করবে, তত দ্রুত ঋণের অর্থ আসার পথ সুগম হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ইউক্রেনকে আল্টিমেটাম দিলো স্লোভাকিয়া

আপডেট সময় ০১:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে স্লোভাকিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো গতকাল সোমবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। কিয়েভ দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধ রাখায় পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ব্রাতিসলাভা এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন রবার্ট ফিকো। যদি শিগগিরই পাইপলাইন সচল না হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ তিনি।

রুশ শব্দ দ্রুজবা-এর অর্থ মৈত্রী বা বন্ধুত্ব। ১৯৬৪ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলে রাশিয়া থেকে ইউক্রেন, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও জার্মানিতে সরাসরি তেল সরবরাহের জন্য এ পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছিল।

গত ২৭ জানুয়ারি রাশিয়াকে চাপে ফেলতে এই পাইপলাইন বন্ধ করে দেয় ইউক্রেন। এখনও ইউক্রেন অংশ এটি বন্ধ আছে। পাইপলাইন বন্ধ থাকায় হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রে পৌঁছাতে পারছে না রুশ তেল। কিয়েভের দাবি—দ্রুজবা পাইপলাইনের ইউক্রেন অংশে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এত পাইপলাইনটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং মেরামত না করা হলে— এই পাইপলাইন দিয়ে তেলের চলাচল সম্ভব নয়; তবে দ্রুজবা পাইপলাইনে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো।

হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া উভয়েই পাইপলাইন বন্ধের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধ করে ইউক্রেন স্লোভাকিয়ার সঙ্গে ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ করার চেষ্টা করছে— অভিযোগ তুলে সোমবারের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ফিকো বলেন, “পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি বা মূলনীতি। (দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধের মাধ্যমে) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যে নিষ্ঠুর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় আমরা ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমরা মনে করি এই পদক্ষেপ পুরোপুরি যথাযথ এবং যৌক্তিক।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে রুশ বাহিনী। অভিযানের শুরু থেকেই হিসেবে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা সংক্রান্ত স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে রুশ সেনারা। যুদ্ধের শুরুর দিকে রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মেরামত করত কিয়েভ; কিন্তু দেখা গেছে মেরামত হওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও হামলা করে অকেজো করে দিচ্ছে রাশিয়া।

এ অবস্থায় বিদ্যুতের জন্য দেশের ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমশ বাড়ছে ইউক্রেনের। গত প্রায় ২ বছর ধরে স্লোভাকিয়ার কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনছে ইউক্রেন। ভাষণে রবার্ট ফিকো বলেছেন, ২০২৫ সালে ইউক্রেন স্লোভাকিয়া থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ কিনেছে, তার প্রায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ কিনেছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে।

দ্রুজবা পাইপলাইন অকার্যকর হওয়ার জন্য কিয়েভকে সরাসরি দায়ী করেছে হাঙ্গেরিও। গত ২১ ফেব্রুয়ারি হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার শ্চিজার্তো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইস্যু করা ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের ঋণ আটকে দিয়েছে হাঙ্গেরি। ইউক্রেন যত দ্রুত দ্রুজবা পাইপলাইন মেরামত করবে, তত দ্রুত ঋণের অর্থ আসার পথ সুগম হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।