সংবাদ শিরোনাম ::
স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করায় ইসরায়েলের তোপের মুখে ট্রাম্প বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক দুদকের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চার দিনের রিমান্ড বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন : বিমানমন্ত্রী জামিন পেলেন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর সেই ২০ জনকে আবারও পুশ-ইনের চেষ্টা, এবার লাঠি নিয়ে পাহারায় জনগণ নাফরিজা শ্যামার সিদ্ধান্তে কাজ ছাড়াই ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন
গণপূর্ত প্রকৌশলী জহুরুল ও নূরুল আমীনের বিরুদ্ধে

একই কাজের পুন: দরপত্র আহবানে কোটি টাকা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ

শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম ও ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাতিল করা একটি দরপত্র পুনরায় আহবান করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই অর্থের লেনদেন হয়েছে বলে জানা যায়।

জানা যায়, ১২০ কোটি টাকার ৩টি বেসমেন্ট সহ ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণ, প্রশাসনিক এলাকা, অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি ও পানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন কাজ প্রকল্পের দরপত্রটি প্রথম যখন আহবান করা হয় তখনই দরপত্রের রেট কোটেশন পছন্দের ঠিকাদার ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কো.-কে গোপনে কমিশনের বিনিময়ে দিয়ে দেওয়া হয়। এতে এন. ডি. ই. সেই দরপত্রে সঠিক ১০ শতাংশ কমে দরপত্রে দর দিয়ে নির্বাচিত হয়। কিন্তু এই অনিয়মের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পৌছালে দুদক গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের ওই অভিযানের পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দরপত্রটি বাতিল করে দেয়। প্রথমবার আহবান করা দরপত্রের আইডি ছিল ১১২০৮৫৩।

সেসময় দুদকের এই অভিযান সম্পর্কে শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম জানান, দুদক যেসক্ল কাগজপত্র চেয়েছে সেগুলো দিয়েছি। অনিয়ম করলে কাগজেই প্রমাণ হবে। গণপূর্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রমাণ পেয়েই দরপত্রটি মন্ত্রণালয় বাতিল করেছে।

দরপত্রটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় প্রাক্কলন অনুমোদন ছাড়াই ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী যোগসাজশে দরপত্রটি ১২০৭৪৯৯ আইডিতে আবার আহবান করেছেন। এবার এই দরপত্রটি জামাল এন্ড কোং.-কে পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১০ কোটি টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানা যায়।

গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তারা জানান, প্রাক্কলন পুনরায় অনুমোদন ছাড়া একই কাজের দরপত্র নিজের সুবিধার জন্যই আহবান করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল। এতে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়াও জড়িত। কারণ তার অনুমোদন ছাড়া দরপত্রটি নির্বাহী প্রকৌশলী আহবান করেতে পারেন না। দুজনের মধ্যেই এই অনিয়মের টাকা ভাগাভাগি হয়েছে।

এর আগেও, শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরাদ্দের টাকা কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ঢাকার শ্যামলীস্থ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল ও ঢাকার মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার ও ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল (MFSTC) মেরামতের জন্য ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এই বরাদ্দের টাকা কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করেছিলেন জহুরুল ইসলাম। তিনি ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এই কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়।

এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হয়। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম ফোন কল রিসিভ করেননি। ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ন প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার সাথেও তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে পাওয়া যায়নি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ

গণপূর্ত প্রকৌশলী জহুরুল ও নূরুল আমীনের বিরুদ্ধে

একই কাজের পুন: দরপত্র আহবানে কোটি টাকা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম ও ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাতিল করা একটি দরপত্র পুনরায় আহবান করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই অর্থের লেনদেন হয়েছে বলে জানা যায়।

জানা যায়, ১২০ কোটি টাকার ৩টি বেসমেন্ট সহ ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণ, প্রশাসনিক এলাকা, অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি ও পানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন কাজ প্রকল্পের দরপত্রটি প্রথম যখন আহবান করা হয় তখনই দরপত্রের রেট কোটেশন পছন্দের ঠিকাদার ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কো.-কে গোপনে কমিশনের বিনিময়ে দিয়ে দেওয়া হয়। এতে এন. ডি. ই. সেই দরপত্রে সঠিক ১০ শতাংশ কমে দরপত্রে দর দিয়ে নির্বাচিত হয়। কিন্তু এই অনিয়মের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পৌছালে দুদক গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের ওই অভিযানের পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দরপত্রটি বাতিল করে দেয়। প্রথমবার আহবান করা দরপত্রের আইডি ছিল ১১২০৮৫৩।

সেসময় দুদকের এই অভিযান সম্পর্কে শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম জানান, দুদক যেসক্ল কাগজপত্র চেয়েছে সেগুলো দিয়েছি। অনিয়ম করলে কাগজেই প্রমাণ হবে। গণপূর্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রমাণ পেয়েই দরপত্রটি মন্ত্রণালয় বাতিল করেছে।

দরপত্রটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় প্রাক্কলন অনুমোদন ছাড়াই ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী যোগসাজশে দরপত্রটি ১২০৭৪৯৯ আইডিতে আবার আহবান করেছেন। এবার এই দরপত্রটি জামাল এন্ড কোং.-কে পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১০ কোটি টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানা যায়।

গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তারা জানান, প্রাক্কলন পুনরায় অনুমোদন ছাড়া একই কাজের দরপত্র নিজের সুবিধার জন্যই আহবান করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল। এতে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়াও জড়িত। কারণ তার অনুমোদন ছাড়া দরপত্রটি নির্বাহী প্রকৌশলী আহবান করেতে পারেন না। দুজনের মধ্যেই এই অনিয়মের টাকা ভাগাভাগি হয়েছে।

এর আগেও, শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরাদ্দের টাকা কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ঢাকার শ্যামলীস্থ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল ও ঢাকার মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার ও ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল (MFSTC) মেরামতের জন্য ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এই বরাদ্দের টাকা কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করেছিলেন জহুরুল ইসলাম। তিনি ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এই কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়।

এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হয়। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম ফোন কল রিসিভ করেননি। ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ন প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার সাথেও তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে পাওয়া যায়নি।