সংবাদ শিরোনাম ::

মুস্তাফিজকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে যা বলছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৪৪ বার পড়া হয়েছে

 

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দিলেও আর্থিক কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই মুস্তাফিজুর রহমানের। যদিও চুক্তি বাতিলের পেছনে টাইগার পেসারের ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই। সে কারণেই অনেকের মনে হতে পারে, তবে কেন ক্ষতিপূরণ পাবেন না? এর নেপথ্যে রয়েছে আইপিএলের বিমা পলিসি।

 

গত মাসের আইপিএল নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর মুস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল কেকেআর। তবে সম্প্রতি ভারতের হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি গোষ্ঠীর আন্দোলনের মুখে বিসিসিআই হস্তক্ষেপ করে, যার ফলেই মুস্তাফিজকে ছাড়তে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

 

এ ঘটনার পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে অন্যত্র আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে।

 

মুস্তাফিজের চুক্তি বাতিল ঘিরে খেলোয়াড়দের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে—বর্তমান আইপিএল বীমা কাঠামোর আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। পিটিআইকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইপিএল-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেন, “আইপিএলের সব খেলোয়াড়ের বেতন বিমাকৃত। বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর বা টুর্নামেন্ট চলাকালে চোট পেলে ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থ পরিশোধ করে। সাধারণত বিমা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া যায়।”

 

তবে মুস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কারণ তার চুক্তি বাতিল কোনো চোটজনিত কারণে বা ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্স সংক্রান্ত নয়। ফলে কেকেআরের ওপর তাকে অর্থ পরিশোধের কোনো চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা নেই। সূত্রটি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি বিমার আওতায় পড়ে না। তাই কেকেআরের এক টাকাও দেওয়ার আইনি দায় নেই। বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক হলেও মুস্তাফিজের সামনে একমাত্র পথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। তাও আবার আইপিএল ভারতীয় আইনের অধীন। কোনো বিদেশি ক্রিকেটারই সাধারণত এই পথে যেতে চান না, এমনকি কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ যাওয়ার ঝুঁকিও নেন না।”

 

সূত্রের মতে, বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আইপিএল সংশ্লিষ্ট সূত্রটি বলছে, “ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ভারত-পাকিস্তানের মতো নয়। এখনকার পরিস্থিতি আগামী বছরই বদলে যেতে পারে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে আইনি লড়াইয়ে নামতে কেউই আগ্রহী হবেন না।” সব মিলিয়ে, বড় অঙ্কে দলভুক্ত হয়েও কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ বা পেশাদারী ত্রুটি ছাড়াই মুস্তাফিজকে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই আইপিএল ছাড়তে হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ জব্দ, আটক ১

মুস্তাফিজকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে যা বলছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় ০২:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দিলেও আর্থিক কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই মুস্তাফিজুর রহমানের। যদিও চুক্তি বাতিলের পেছনে টাইগার পেসারের ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই। সে কারণেই অনেকের মনে হতে পারে, তবে কেন ক্ষতিপূরণ পাবেন না? এর নেপথ্যে রয়েছে আইপিএলের বিমা পলিসি।

 

গত মাসের আইপিএল নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর মুস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল কেকেআর। তবে সম্প্রতি ভারতের হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি গোষ্ঠীর আন্দোলনের মুখে বিসিসিআই হস্তক্ষেপ করে, যার ফলেই মুস্তাফিজকে ছাড়তে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

 

এ ঘটনার পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে অন্যত্র আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে।

 

মুস্তাফিজের চুক্তি বাতিল ঘিরে খেলোয়াড়দের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে—বর্তমান আইপিএল বীমা কাঠামোর আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। পিটিআইকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইপিএল-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেন, “আইপিএলের সব খেলোয়াড়ের বেতন বিমাকৃত। বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর বা টুর্নামেন্ট চলাকালে চোট পেলে ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থ পরিশোধ করে। সাধারণত বিমা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া যায়।”

 

তবে মুস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কারণ তার চুক্তি বাতিল কোনো চোটজনিত কারণে বা ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্স সংক্রান্ত নয়। ফলে কেকেআরের ওপর তাকে অর্থ পরিশোধের কোনো চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা নেই। সূত্রটি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি বিমার আওতায় পড়ে না। তাই কেকেআরের এক টাকাও দেওয়ার আইনি দায় নেই। বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক হলেও মুস্তাফিজের সামনে একমাত্র পথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। তাও আবার আইপিএল ভারতীয় আইনের অধীন। কোনো বিদেশি ক্রিকেটারই সাধারণত এই পথে যেতে চান না, এমনকি কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ যাওয়ার ঝুঁকিও নেন না।”

 

সূত্রের মতে, বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আইপিএল সংশ্লিষ্ট সূত্রটি বলছে, “ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ভারত-পাকিস্তানের মতো নয়। এখনকার পরিস্থিতি আগামী বছরই বদলে যেতে পারে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে আইনি লড়াইয়ে নামতে কেউই আগ্রহী হবেন না।” সব মিলিয়ে, বড় অঙ্কে দলভুক্ত হয়েও কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ বা পেশাদারী ত্রুটি ছাড়াই মুস্তাফিজকে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই আইপিএল ছাড়তে হচ্ছে।